নয়াদিল্লী: দুই চোখে স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাড়ি জমান তিন বাংলাদেশি কিশোরী। মাসে ২০ হাজার রুপির বিনিময়ে তাদের গৃহকর্মীর কাজ দেয়া হবে এমনটিই কথা ছিল। কিন্তু বিদেশ বিভূঁইয়ে গিয়েই বুঝতে পারলো তারা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছে।
মোটা অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখানো হয় তাদের। এরপর তাদের জীবনে দুর্বিষহ এক অধ্যায়ের সূচনা ঘটল। জোরপূর্বক বাধ্য করা হল পতিতাবৃত্তিতে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস’র।
বাংলাদেশি কিশোরীদের মুখে এ করুণ পরিণতির কথা শুনে এখন মুম্বাইয়ের সিএসটি রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) একটি গণধর্ষণ মামলা নিয়ে দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া পাচার হওয়া ওই তিন কিশোরীকে রাখা হয়েছে পুলিশ হেফাজতে।
জিআরপি কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই তিন কিশোরী সিএসটির চারপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। এ সময় তাদের হতবিহবল দেখাচ্ছিল। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আসল রহস্য উদঘাটন করা হয়।
হিন্দুস্তান টাইমস’র খবরে শনিবার বলা হয়, কিশোরীদের থানার আশপাশে ঘুরতে দেখে ভেতরে নিয়ে আসা হয়। এরপর কিশোরীরা জানায়, এক ব্যক্তি তাদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে আসে।
পুলিশ জানায়, আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি তাদের ভারতে নিয়ে আসে বলে জানা গেছে। আনোয়ার মেয়েদের বাবা প্রতি মাসে ২০ হাজার রুপীর বিনিময়ে তাদের মুম্বাইতে কাজ জোগাড় করে দেয়ার প্রলোভন দেখায়। মেয়েদের প্রত্যেকের বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
তাদের পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে মুম্বাই আনা হয় এবং অমিত নামের একজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তাদের একটি অজ্ঞাতস্থানে নেয়া হয় এবং পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়।
একদিন অমিত তাদের অপর আরেকটি স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি লোকাল ট্রেনে ওঠায়। ট্রেনটি একটি স্টেশনে থামার পর অমিত তাদের জন্য খাবার পানি আনতে যায়। এ সুযোগে তারা ওখান থেকে পালায়। এরপর তারা আরেকটি ট্রেনে ওঠে এবং সিএসটি স্টেশনে নেমে যায়। তারপর তারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।
কিশোরীরা জানায়, তাদের বিভিন্ন হোটেল নিয়ে গিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের কথামত কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে কপালে জুটতো বেদম পিটুনি।
জিআরপি থানা পুলিশ আনোয়ার, করিম, অমিত ও অন্যান্যের বিরুদ্ধে সেদেশের যৌন নিপীড়ন আইনে মামলা করেছে।




0 comments:
Post a Comment