রোমান কবির: এক রাতেই চেহারা পাল্টে গেছে
রাজধানী ঢাকার। যেদিক চোখ যায়, সেদিকে শুধু ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের
উন্নয়নের সাড়ে চার বছর। সরকারের উন্নয়নের এসব প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়েছে
রাজধানীর বিভিন্ন মোড় ও সড়ক দ্বীপের বিলবোর্ড।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, অর্থনীতি, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতওয়ারি সরকারের সাড়ে চার বছরের উন্নয়ন চিত্র এসব বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে তুলে ধরে আরো উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিকতার কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে আছে পবিত্র ঈদুর ফিতরের আগাম শুভেচ্ছার পোস্টারও।
তবে কারা এই বিলবোর্ড, পোস্টার টানিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। বিলবোর্ড বা পোস্টারেও তার কোনো আলামত পাওয়ার উপায় নেই। অনেক এলাকায় বিলবোর্ডের আগের বিজ্ঞাপনের ওপর সেটে দেয়া হয়েছে সরকারের উন্নয়নের বিজ্ঞাপন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। দলীয় ফোরামে এ নিয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। তাদের ধারণা, সরকারের কোনো সংস্থা এই প্রচারণা চালিয়ে থাকতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে দলীয় সিদ্ধান্তেই এসব বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। আর দলের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঈদের আগেই আরো উন্নয়ন প্রতিশ্রতি সম্বলিত বিলবোর্ড পোস্টার রাজধানীতে টানানো হবে।
দলটির নেতাদের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবির পর নেতাকর্মীরা হতাশ। আর জনগণের মনে ধারণাই জন্মে গেছে এই সরকারের কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নেই। আর এই ভুল ভাঙতেই খাতওয়ারি সরকারের সাফল্যের ফিরিস্তি এসব প্রচারণায় স্থান পেয়েছে।
এতে দেশের দারিদ্র বিমোচন ও জণশক্তি রপ্তানিতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে আগামীতে বাকি উন্নয়ন বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। তবে এ সব বিলবোর্ড কারা প্রচার করেছে সে সম্পর্কে সেখানে কিছুই বলা হয়নি।
এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কিছু জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন আরটিএনএন- কে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রচার তো আওয়ামী লীগই করবে। দলের প্রচারের জন্য প্রচার সেল সব ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু এই বিলবোর্ড কে টানিয়েছে সেটা না দেখে কিছু বলা যাবে না।’
তবে তিনি বলেন, এটি আওয়ামী লীগ করলে সেখানে প্রচার সেলের নাম অবশ্যই থাকতো।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আরটিএনএন- কে বলেন, ‘দলীয় নেত্রীর নির্দেশে সরকারের একটি সংস্থা বিগত সাড়ে চার বছরের উন্নয়ন চিত্র নিয়ে বিলবোর্ড লাগিয়েছে। কিন্তু দলীয় ফোরামে এ ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি।’
আর সবচেয়ে অবাক করা তথ্য দিয়েছেন দপ্তরে কাজ আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস। তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে আরটিএনএন- কে জানিয়েছেন।
রাজধানীতে হঠাৎ করেই সরকারের উন্নয়ন চিত্র নিয়ে বিলবোর্ড লাগানোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ বেশকিছু কৌশল হাতে নিয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এই সরকারের উন্নয়ন ও বিরোধী জোটের অব্যাহত অপপ্রচারের জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত তার অন্যতম একটি। আর এরই অংশ হিসেবে এই প্রচারণা চালানো হয়েছে।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। ঈদের পর থেকে সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা হবে।
ফার্মগেট এলাকায় টানানো সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরে একটি বিলবোর্ডের ভাষা, ‘বিশ্ব ব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩’ এ সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির হার অর্জন তালিকায় বাংলাদেশ ৫ম।’
গৃহহীনে আশ্রয় শিরোনামে একটি বিলবোর্ডে লেখা, ‘১৬৩টি গুচ্ছ গ্রামে ১৯,০০৩ পরিবারকে পুনর্বাসন; ৭, ১৮৮ গৃহহীন পরিবারের জন্য ১০৯৮ ব্যারাক হাউজ নির্মাণ।’
যোগাযোগ ব্যবস্থায় অসামান্য অগ্রগতি শিরোনামের বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে, ‘মেট্রোরেলে নির্মাণকাজ অচিরেই শুরু; বিমানবন্দর-যাত্রাবাড়ী এলিভেটেডওয়ে প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন।’
সরকারের স্বাস্থ্যসেবা তুলে ধরে একটি বিলবোর্ডে লেখা, ‘উন্ননের অঙ্গিকার ধারাবাহিক সরকার। ১২,২৪৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু; ৫১,০০০ নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ।’
প্রযুক্তিখাতের উন্নয়ন তুলে ধরে এতে বলা হয়েছে, ‘দেশের সর্ব প্রথম দ্রুতগতির থ্রি-জি মোবাইলসার্ভিস চালু।’
এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জনগণকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এমন-ই একটি বিলবোর্ডের ভাষা, ‘আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন- সোহরাব হোসেন স্বপন।’
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, অর্থনীতি, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতওয়ারি সরকারের সাড়ে চার বছরের উন্নয়ন চিত্র এসব বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে তুলে ধরে আরো উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিকতার কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে আছে পবিত্র ঈদুর ফিতরের আগাম শুভেচ্ছার পোস্টারও।
তবে কারা এই বিলবোর্ড, পোস্টার টানিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। বিলবোর্ড বা পোস্টারেও তার কোনো আলামত পাওয়ার উপায় নেই। অনেক এলাকায় বিলবোর্ডের আগের বিজ্ঞাপনের ওপর সেটে দেয়া হয়েছে সরকারের উন্নয়নের বিজ্ঞাপন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। দলীয় ফোরামে এ নিয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। তাদের ধারণা, সরকারের কোনো সংস্থা এই প্রচারণা চালিয়ে থাকতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে দলীয় সিদ্ধান্তেই এসব বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। আর দলের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঈদের আগেই আরো উন্নয়ন প্রতিশ্রতি সম্বলিত বিলবোর্ড পোস্টার রাজধানীতে টানানো হবে।
দলটির নেতাদের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবির পর নেতাকর্মীরা হতাশ। আর জনগণের মনে ধারণাই জন্মে গেছে এই সরকারের কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নেই। আর এই ভুল ভাঙতেই খাতওয়ারি সরকারের সাফল্যের ফিরিস্তি এসব প্রচারণায় স্থান পেয়েছে।
এতে দেশের দারিদ্র বিমোচন ও জণশক্তি রপ্তানিতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে আগামীতে বাকি উন্নয়ন বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। তবে এ সব বিলবোর্ড কারা প্রচার করেছে সে সম্পর্কে সেখানে কিছুই বলা হয়নি।
এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কিছু জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন আরটিএনএন- কে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রচার তো আওয়ামী লীগই করবে। দলের প্রচারের জন্য প্রচার সেল সব ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু এই বিলবোর্ড কে টানিয়েছে সেটা না দেখে কিছু বলা যাবে না।’
তবে তিনি বলেন, এটি আওয়ামী লীগ করলে সেখানে প্রচার সেলের নাম অবশ্যই থাকতো।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আরটিএনএন- কে বলেন, ‘দলীয় নেত্রীর নির্দেশে সরকারের একটি সংস্থা বিগত সাড়ে চার বছরের উন্নয়ন চিত্র নিয়ে বিলবোর্ড লাগিয়েছে। কিন্তু দলীয় ফোরামে এ ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি।’
আর সবচেয়ে অবাক করা তথ্য দিয়েছেন দপ্তরে কাজ আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস। তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে আরটিএনএন- কে জানিয়েছেন।
রাজধানীতে হঠাৎ করেই সরকারের উন্নয়ন চিত্র নিয়ে বিলবোর্ড লাগানোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ বেশকিছু কৌশল হাতে নিয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এই সরকারের উন্নয়ন ও বিরোধী জোটের অব্যাহত অপপ্রচারের জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত তার অন্যতম একটি। আর এরই অংশ হিসেবে এই প্রচারণা চালানো হয়েছে।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। ঈদের পর থেকে সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা হবে।
ফার্মগেট এলাকায় টানানো সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরে একটি বিলবোর্ডের ভাষা, ‘বিশ্ব ব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩’ এ সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির হার অর্জন তালিকায় বাংলাদেশ ৫ম।’
গৃহহীনে আশ্রয় শিরোনামে একটি বিলবোর্ডে লেখা, ‘১৬৩টি গুচ্ছ গ্রামে ১৯,০০৩ পরিবারকে পুনর্বাসন; ৭, ১৮৮ গৃহহীন পরিবারের জন্য ১০৯৮ ব্যারাক হাউজ নির্মাণ।’
যোগাযোগ ব্যবস্থায় অসামান্য অগ্রগতি শিরোনামের বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে, ‘মেট্রোরেলে নির্মাণকাজ অচিরেই শুরু; বিমানবন্দর-যাত্রাবাড়ী এলিভেটেডওয়ে প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন।’
সরকারের স্বাস্থ্যসেবা তুলে ধরে একটি বিলবোর্ডে লেখা, ‘উন্ননের অঙ্গিকার ধারাবাহিক সরকার। ১২,২৪৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু; ৫১,০০০ নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ।’
প্রযুক্তিখাতের উন্নয়ন তুলে ধরে এতে বলা হয়েছে, ‘দেশের সর্ব প্রথম দ্রুতগতির থ্রি-জি মোবাইলসার্ভিস চালু।’
এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জনগণকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এমন-ই একটি বিলবোর্ডের ভাষা, ‘আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন- সোহরাব হোসেন স্বপন।’




0 comments:
Post a Comment