বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » এ মেয়াদে ফিরছেন না তারেক

এ মেয়াদে ফিরছেন না তারেক

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বর্তমান সরকারের আমলে দেশে ফেরার কোনো সম্ভবনা নেই। এ সরকারের মেয়াদ শেষে নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে ফিরবেন তিনি। মা বেগম খালেদা জিয়াও চান না তিনি এ সরকারের মেয়াদে দেশে ফিরে আসেন। দলের একাধিক সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাসই পাওয়া গেছে।

বিএনপি নেতারা জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারেক বড় ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেককে দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি এবার নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবেন। আর তাই নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠায় উঠে-পড়ে লেগেছে বিএনপি। কেননা নিরপেক্ষ সরকার ক্ষমতায় থাকলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনকার চেয়ে অনেকটাই অনুকূলে থাকবে। তাই বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

দলের তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে তারেক রহমানকে প্রয়োজন বলে মনে করছে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। কারণ তৃণমূলের কাছে তিনি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। তবে তারেক রহমান এ মুহূর্তে দেশে ফিরতে না পারলেও দলের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিতই যোগাযোগ রাখছেন।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলামেইলকে বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার দেশে ফেরার বিষয়টি নির্ভর করছে চিকিৎসকের ওপর। চিকিৎসক বললেই তিনি দেশে ফিরবেন।’

এদিকে গত ১৬ জুলাই লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই বৈঠকে দলের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

লন্ডন সূত্র জানায়, বৈঠকে তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে নির্বাচনের জোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ঈদের পর তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে কঠোর আন্দোলন করার পরামর্শ দেন। তারেক রহমান ২০০৫ সালে নিজ উদ্যোগে তৃণমূলে প্রতিনিধি সভা করেন। সে অনুযায়ী তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন তিনি। সেই সঙ্গে যেসব জেলায় কমিটি হয়নি যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি গঠনের পরামর্শও আসে তার কাছ থেকে। এছাড়া ঈদের পর দলের কাউন্সিলের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তারেক।

লন্ডন সফর শেষে বিমানবন্দরে পৌঁছে তারেকের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের আলাপকালে ফখরুল বলেন, ‘লন্ডনে চিকিৎসাধীন তারেক রহমানের সঙ্গে আমি দেখা করেছি। তার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিয়েছি। তারেক রহমান অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন।’

এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মোট ২২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৩টি, কোকোর ৫টি ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৪টি। বর্তমান সরকারের সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২টি মামলা হলেও বাকিগুলো বিগত ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দায়ের করা হয়। এসব মামলায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তারেক রহমান এখন লন্ডনে বসবাস করছেন।

তবে বর্তমান সরকারের আমলে তারেকের নামে দায়ের করা মামলাগুলো তার দেশে ফেরার সবচেয়ে বড় বাধা। অবশ্য দলের নেতারা এটা মানতে নারাজ। তারা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকার তারেকের বিরুদ্ধে আনিত কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি। এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিহিংসামূলক। তাই কোনো মামলা-হামলায় তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঠেকানো যাবে না। যেদিন তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন সেদিন বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর রাজপথ থাকবে জাতীয়তাবাদী শক্তির দখলে।’

‘মামলার কারণে তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না’ এমন কথা মানতে নারাজ তারেকের আইনজীবী ব্যরিস্টার কায়সার কামালও। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা করা হয়। প্রত্যেকটি মামলায় সুপ্রিমকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে তিনি বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। সুস্থ হলেই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।’ তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মামলা নয় তার সুস্থতাই বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন এ আইনজীবী।

সম্প্রতি তারেককে লন্ডনে দলের এক রাজনৈতিক সভায় দেখা যায়। যেখানে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগকে চাপ দিতে প্রবাসীদের আহ্বান জানান। তারেকের ওই বক্তব্যের পর দেশে তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তারেকের তীব্র সমালোচনা করেন। সেই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে মুদ্রা পাচারের অভিযোগে এক মামলায় তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার জজ আদালত।

বিএনপি নেতারা বলেন, ‘তারেক রহমান বর্তমান সরকারের কাছে মূর্তীমান আতঙ্ক। বিদেশে একটি সভায় বক্তব্য রেখেছেন তারেক রহমান। আর তাতেই সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার মতো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারেক দেশে ফিরলেই মামলাগুলো সচল করে সরকার তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করবে। তাকে কারাগারে পাঠানো হবে, এটা অনেকটাই নিশ্চিত। কারাগারে থাকার চেয়ে বাইরে থেকে দলের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছেন এটাই দলের জন্য অনেক ভালো।’

এদিকে তারেক রহমান এখন অনেকটাই সুস্থ বলে জানা গেছে। তিনি ইতোমধ্যে মায়ের সঙ্গে সৌদি আরবে ওমরা পালন করেছেন।

দেশে ফেরা প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘তারেক রহমান যে কোনো সময় দেশে ফিরবেন।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দেশের মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজনে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।’

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তিনি বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন আছেন। সুস্থ হলে নিশ্চই তারেক দেশে ফিরে আসবেন। দলে তার দায়িত্ব বুঝে নেবেন। অবশ্য লন্ডনে বসেও তারেক তার দায়িত্ব পালন করছেন।’

বর্তমান সরকারের মেয়াদে তারেক দেশে ফিরবেন কি না প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘সুস্থ হলে যে কোনো সময় তারেক দেশে ফিরবেন। সেই সঙ্গে দলের হাল ধরবেন।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান যাতে নির্বিঘ্নে দেশে ফিরতে পারেন সে জন্য দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতাও চালানো হচ্ছে। তবে দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট কোনো মহল থেকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ার আগে দেশে ফিরতে পারছেন না তারেক।

উল্লেখ্য, ওয়ান ইলেভেনের পর দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কয়েক দফা রিমান্ডে নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে আদালতের অনুমতি নিয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন আছেন। তার স্ত্রী-সন্তানও সেখানে রয়েছে। তিনি সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বার-অ্যাট-ল করছেন। 
>>banglamail24<<

0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন