তিনি বলেন, ‘সরকার এটাকে ভেঙে ফেলতে চাইছে। তারা অসীম ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু জনগণ চাইলে সরকার শত চেষ্টা করেও তা করতে পারবে না। জনগণ জেগে উঠলে যত বড় ক্ষমতাধরই হোক তাদের রুখে দেবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল’ ড. ইউনূস পাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট আয়োজিত তাকে দেয়া এক সংবর্ধনা সভায় এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।
দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এমএ মালেকের সভাপতিত্বে দুই পর্বের অনুষ্ঠানমালায় সকালে ছিল ছাত্র ও তরুণ সমাবেশ।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে নোবেলজয়ী ড. ইউনূস সুহৃদ-চট্টগ্রাম। দিনব্যাপী দুপর্বের এ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছাত্র-তরুণদের উদ্দেশ্যে ড. ইউনূস দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন এবং তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
তিনি বলেন, সরকারের অসীম ক্ষমতা থাকতে পারে কিন্তু মানুষ যেটা চায় সেটা রোধ করার ক্ষমতা কারও নেই। এটা আমার মুখের কথা নয়। মানুষের চাওয়া হচ্ছে বন্যার পানির মতো। মানুষ চাইলে অনেক কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
ইউনূস আরো বলেন, ‘আমি অনেক দেশে যায় যেখানে আমাকে ব্যাংকার টু দ্যা পুওর বলা হয়। আবার কাউকে বলা হয় শুধু ব্যাংকার। আমি এতে অস্বস্তিবোধ করি। আমি ব্যাংকার টু দ্যা পুওর হলে বাকিরা ব্যাংকার টু দ্যা রিচ। আমি ব্যাংকার টু দ্যা পুওর হওয়ার জন্য একটা আইন বানাতে পেরেছিলাম, যে আইনের কারণে গ্রামীণ ব্যাংক হয়েছে। এ আইনে এখনো পর্যন্ত কোনো খুঁত পাওয়া যায়নি।’
‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করছেন না কেন’ তরুণদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘অনেক কিছুই করার ইচ্ছে আছে। তবে সরকার আমাদের ওপর খুশি নয়।’
শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘সরকার চাচ্ছেন, এটা ভেঙে ফেলবেন। তাকি হবে?’ তখন সমাবেশে আগতরা সমস্বরে বলেন- ‘না, তা সম্ভব নয়’।
ড. ইউনূস তার বক্তব্যে বর্তমান তরুণ সমাজকে মানব জাতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ শক্তি উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রযুক্তির কল্যাণে শক্তিশালী এই তরুণ সমাজকে বেকারত্ব আর দারিদ্র নির্মূলের কল্পনা হতে হবে।’
গ্রামীণ ব্যাংকের সফলতার পেছনে অসংখ্য তরুণের অবদান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ড. ইউনূস।
গ্রামীণ ব্যাংকের ধ্বংস রোধ করতে সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে এই নোবেল লরিয়েট বলেন, ‘করবো বলে ঘুমিয়ে পড়লে তো হবে না। করতে হবে। কাজেই দেশের মানুষ যদি জেগে উঠে বলে- না, এটা হবে না। তাহলে এটা করার কারো সাধ্য নেই। সরকারের যত ক্ষমতাই থাকুক।’




0 comments:
Post a Comment