রাজধানীর শাপলা চত্বরে গত ৫ মে গভীর রাতে যৌথ অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেছেন, এই ঘটনা জাতীয় জীবনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, পুরো ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি এখনো রহস্যের অন্ধকারে ঢাকা। সরকার এ পর্যন্ত যা বলেছে তাতে সন্দেহ অবিশ্বাস আরো ঘনীভূত হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় তিনি বলেন, আলেম সমাজের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আলো নিভিয়ে তাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে। তারা হতাহতের যে সংখ্যা উল্লেখ করেছেন, তাতে শিউরে উঠতে হয়।
খালেদা জিয়া বলেন, ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে সৃষ্ট গভীর বেদনা প্রশমনে সরকার কোনো চেষ্টা করছে না, বরং প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ নিয়ে নানা বিদ্রুপ করছেন।
এ ঘটনায় সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে অভিযানের পর এখনো অনেকে নিখোঁজ। মসজিদ মাদরাসায় ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্য চিৎকার করে নিখোঁজ ও নিহতদের তালিকা দেয়ার দাবি জানালে বেগম জিয়া বলেন, তালিকা আপনাদের কাছে আছে।
বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারি হস্তক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সরকারের কমিশন গ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে ১৯ টুকরা করার যে সুপারিশ করেছে, তাতে বিএনপি স্তম্ভিত। সরকার প্রতিশোধমূলক চক্রান্ত হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে টুকরো টুকরো করতে চাচ্ছে। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক কংগ্রেশনাল পদক পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি ইউনূসের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিকে সবার সম্মান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রকে জিএসপি সুবিধা ফের চালু করার জোরালো আহবান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। সংসদের অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, জিএসপি সুবিধা বাতিলে চিঠি দিয়েছি বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা। এধরনের চিঠি দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমার কাছে চিঠিটি আছে, তা আমি সংসদে দেখাতে পারবো।
তিনি বলেন, দেশবাসী জানে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বলে কারা বিদেশে প্রচারণা চালিয়েছিল।
সংসদে একে অপরের প্রতি কাদা ছুড়াছুড়ির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেন, জাতীয় সংসদ কোনো মেঠো বক্তৃতার জায়গা নয়। কিন্তু এবারের এই বাজেট অধিবেশনে যে ভঙ্গি ও ভাষায় বক্তৃতা শুরু হয়েছে তা আমাদের জন্য চরম লজ্জার বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের দায়িত্বশীল সদস্যরা, মন্ত্রীবর্গ এমনকি সংসদ নেতা পর্যšত্ম বিরোধী দল ও জাতীয় নেতাদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় যেসব নোংরা ইঙ্গিত করেছেন তাতে দেশের মানুষ মর্মাহত।’
বক্তব্যের শুরুতে আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনসহ বাংলাদেশের ইতিহাসের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া।




0 comments:
Post a Comment