বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » হাসানাত-হিরন দ্বন্দ্বে বরিশাল আওয়ামী লীগে বিভক্তি

হাসানাত-হিরন দ্বন্দ্বে বরিশাল আওয়ামী লীগে বিভক্তি

বরিশাল: হাসানাত-হিরন দ্বন্দ্বে ক্রমেই ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব এখন অনেকটাই প্রকাশ্যে।

সম্প্রতি হয়ে যাওয়া সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রশ্নে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরনের সরাসরি অভিযোগের পর থেকেই এই দুই শীর্ষ নেতার বিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে নানা ঘটনায় একের পর এক প্রতিবাদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো বরিশালের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতার জের ধরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এমনকি বিক্ষোভ পর্যন্ত করে বেশ কয়েকটি উপজেলার নেতাকর্মীরা। আর এবার ঘটল প্রকাশ্য জনসভায় অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনা।

হিরনের বক্তব্যের প্রতিবাদে নিজের লোকজনকে দিয়ে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন করে পরিস্থিতি অনুকূলে আনার চেষ্টা করছেন হাসানাত। কিন্তু তাতে দলের বিভক্তি যেন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। বরিশাল নগরীর কোনো নেতা থাকছেন না এসব সংবাদ সম্মেলনে। ফলে আরও প্রকট হয়ে ধরা পড়ছে হাসনাত-হিরনের অন্তর্দ্বন্দ্ব আর কোন্দল।

ভোটের আগেই কয়েকটি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল যে হাসানাত চাইলে তবেই কেবল জিতবেন হিরন। নতুবা বরণ করতে হবে নিষ্ঠুর পরাজয়। ভোটের ঠিক একদিন আগেই সেই হাওয়া টের পায় সবাই। এর আগেও অবশ্য মিলেছে নানা আভাস, ইঙ্গিত।

অন্য তিন সিটিতে যাই হোক না কেন, বরিশালে হিরন জিতবেন এমন ধারণা ছিল সবার। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় রাখার কারণে তাকে নিয়ে এমন ধারণা ছিল সবার। কিন্তু প্রায় ১৭ হাজার ভোটে হেরে যান হিরন।

পরাজয়ের তিনদিন পর বরিশাল ক্লাবের এক সমাবেশে পরাজয়ের জন্য হাসানাতকে দায়ী করেন তিনি। বেশ কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রমাণ দেন, নির্বাচনে হাসানাত এবং তার পরিবার কাজ করেছে তার বিরুদ্ধে। তাকে হারাতে বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে হাসানাতের অনুসারীরা।

মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, বরিশালের বাইরের প্রায় সব উপজেলার নেতারা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে এসেছিলেন বরিশালে। দু/একদিন থাকার পর রহস্যজনক কারণে তারা সবাই আবার ফিরে যান। সংরক্ষিত মহিলা আসনের এক এমপিকেও ফিরিয়ে নেয়া হয় এখান থেকে।

শওকত হোসেন হিরন বলেন, ‘দল বর্তমানে ক্ষমতায়, নেত্রীর নিজস্ব নানা উৎসও রয়েছে, যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা নিজস্ব মাধ্যমে খোঁজ নিলেই এসব তথ্যের সত্যতা মিলবে। আমরা হারিনি। পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। বিগত নির্বাচনের তুলনায় আমি ২১ হাজার ভোট বেশি পেয়েছি। কিন্তু ভাইয়ের (হাসানাত) নির্দেশে তার লোকজন আমাকে না দিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে।’

হিরনের এই অভিযোগ নিয়েই এখন তোলপাড় চলছে বরিশালে। হাসানাতও আছেন চরম বিব্রতকর অবস্থায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে এভাবে প্রকাশ্যে অভিযোগ এই প্রথম। এর আগে মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমসহ আরও অনেকের নির্বাচনে পরাজয় প্রশ্নে নেপথ্যে আলোচনা হয়েছে তাকে নিয়ে। কিন্তু সরাসরি এভাবে অভিযোগ তোলার সাহস পায়নি কেউ।

একক নেতৃত্ব ধরে রাখা আর পুনরুদ্ধারের টার্গেটেই বিগত এবং বর্তমানের পরিকল্পিত এসব পরাজয়গুলো ঘটানো হয়েছে বলেও বলছেন অনেকে।

মহানগর ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘ভোটের চার দিন আগে বরিশাল ছেড়ে চলে যান হাসানাত। পরাজয়ের পর তার উচিত ছিল এখানে এসে হিরনকে সান্ত্বনা দেয়া। কিন্তু আসা তো দূর তিনি একবার ফোন করেও খোঁজ নেননি। উপরন্তু বরিশালে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বাড়িতে আয়োজন করা হয় ভুরিভোজের। এসব কারণে আরও ক্ষিপ্ত হয় নেতাকর্মীরা।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে অনুসারী লোকজনকে দিয়ে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন করাচ্ছেন হাসানাত। নিজে উপস্থিত না থাকলেও তাদের দিয়ে বলাচ্ছেন, নির্বাচনে তিনি হিরনের পক্ষে ছিলেন।

এখন পর্যন্ত এরকম দুটি সংবাদ সম্মেলন হলেও তার কোনোটিতেই উপস্থিত ছিলেন না বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ কিংবা এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেউ। বরিশাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মেলনে উপস্থিত থাকেন বরিশালের বাইরের নয় উপজেলা ও পৌরসভার আওয়ামী লীগ নেতারা। দ্বিতীয় সম্মেলনেও ছিলেন না বরিশাল মহানগরের বলতে গেলে কেউই।

ফলে আপাতঃদৃষ্টিতে জেলা আর মহানগর এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে বরিশাল আওয়ামী লীগ। আর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ফলে এই বিভক্তি এখন প্রকাশ্যে। তবে মুখ খুলতে নারাজ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘ভোটে কি হয়েছে বা না হয়েছে সে ব্যাপারে মুখ খোলার সাহস নেই। তবে নেতার নির্দেশ অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনে না এলে একদিকে যেমন পদ-পদবি হারানোর ভয় আছে, তেমনি জেলা কমিটিতে ঢোকার সুযোগ থাকবে না। তাই তিনি যেভাবে বলছেন সেভাবেই করতে হচ্ছে।’

মাঠপর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলেন, একজন বলছেন তিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। অন্যজন তুলেছেন বেঈমানির অভিযোগ। দলীয় প্রধানের উচিত, বিশেষ কোনো গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে আসলে কি হয়েছে তা বের করা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রু পদক্ষেপ নেয়া না হলে এই দ্বন্দ্বে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। তাছাড়া দলও হবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। এই পরিস্থিতিতে কী করলে ভালো হয় তা ঠিক করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এদিকে, হাসানাত-হিরন গ্রুপের দ্বন্ধে বরিশালে প্রায়ই ঘটছে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা। নির্বাচনের পর হিরন সমর্থক যুবলীগ নেতা বিদ্যুৎ সিকদারকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ গ্রুপ। এ ঘটনায় হাসানাত সমর্থক যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম খোকন ওরফে মামা খোকনসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

অন্যদিকে, হাসানাতের পক্ষ হয়ে সংবাদ সম্মেলন করার অভিযোগে জেলা কৃষক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম গিয়াসকে মোবাইল ফোনে শওকত হোসেন হিরন হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন