বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » তুরস্কে অব্যাহত বিক্ষোভ সমর্থনে দুদিনের শ্রমিক ধর্মঘট

তুরস্কে অব্যাহত বিক্ষোভ সমর্থনে দুদিনের শ্রমিক ধর্মঘট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইস্তাম্বুল: পার্কে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে তুরস্কে চলা বিক্ষোভ চতুর্থ দিনেও অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভ সমর্থনে দুদিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দেশটির সরকারি শ্রমিক ইউনিয়ন।

সোমবার চতুর্থ রাতের মতো তুরস্কের কয়েকটি শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।

দিনের শেষে হাজার হাজার লোক আবারো তাকসিম স্কয়ারে জড়ো হয়। এ সময় একটি হেলিকপ্টার উড়ে এসে সার্চ লাইট জ্বালিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর একটি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। অথচ দিনের বেলা তারা নেচে গেয়ে এবং পতাকা উড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ করছিল।

তাকসমি স্কয়ার থেকে কয়েক মাইল দূরে শহরের কেন্দ্র বেসিকতাসে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছেও বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বিক্ষোভকারীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাদের দাবি, সরকার ডিক্রি জারি করে এবং জনগনের কথা না শুনে স্বৈরাচারী আচরণ করছে।

আঙ্কারায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেখানে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর টিয়ারশেল এবং জলকামান নিক্ষেপ করে।

বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। সংঘর্ষে শতাধিক লোক আহত হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ করছে। তবে পুলিশ এরপরও ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে।

সোমবার আঙ্কারা থেকে ৫০০ এবং ইজমির থেকে ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিক্ষোভ চলাকালে এ পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন দুর্ঘটনায় মারা যায়।

এদিকে, মরোক্কো সফররত প্রধানমন্ত্রী রেসেফ তায়েপ এরদোগান এ বিক্ষোভের জন্য বিরোধীদের দায়ী করেছেন। তিনি আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর আফ্রিকায় চারদিনের সফর শেষ করে দেশে ফিরে আসবেন।

এদিকে, তুরস্কের সরকারি শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশন বিক্ষোভের সমর্থনে আজ মঙ্গলবার থেকে দুই দিন ধর্মঘট পালন করার ঘোষণা দেয়। এ কনফেডারেশনের অধীনে দুই লাখ ৪০ হাজার শ্রমিক এবং ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার তাকসিম স্কয়ারের একটি পার্কে গাছ কাটা, শপিং মল নির্মাণ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনাকে কেন্দ্র করে এ সহিংস বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। এটি এখন ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী একে পার্টির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।

এরদাগানের প্রায় এক দশকের শাসনে তুরস্কে বিভিন্ন সংস্কার আনা হয়। তিনি ইউরোপের মধ্যে তুরস্ককে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশে পরিণত করেন। এর ফলে তিনি এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে স্বীকৃত।

তবে সমোলোচকদের মতে, এরদোগান কর্তৃক তুরস্কের মতো একটি সেক্যুলার প্রধান রাষ্ট্রে জনগনের ব্যক্তিগত জীবনে বিভিন্ন ধর্মীয় রক্ষণশীলতা চাপিয়ে দেয়ার বিষয়টিও এ বিক্ষোভের পেছনে একটি চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

সম্প্রতি তুরস্কে মদ বেচা-কেনা এবং জনসম্মুখে নারী পুরুষের চুমু খাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। জনসম্মুখে চুমুর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর প্রায় একশ’ যুগল জনসম্মুখে চুমু খেয়ে এর প্রতিবাদ জানায়।

এছাড়াও সিরীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং কুর্দী সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান করতে না পারার কারনেও তুরস্ক ফুঁসে উঠছে বলে ধারণা সমালোচকদের।

0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন