বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » ড. ইউনুস রাজনীতিবিদ, সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন: মুহিত

ড. ইউনুস রাজনীতিবিদ, সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন: মুহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘ড. ইউনুস একজন রাজনীতিবিদ। তিনি আমাদের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিচ্ছেন। সরকার গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে বিশ্বব্যাপী সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’

‘গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই, বরং এখন ব্যাংকটি আরো ভালো চলছে’ দাবি করেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সিনিয়র সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তব্য গ্রামীণ ব্যাংকের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইউনুস সাহেব ঋণ দিয়ে ছোট একটি প্রকল্প শুরু করেন। গ্রামীণ ব্যাংক আইনটি পাস হওয়ার সময় সরকারের শেয়ার ছিল ৬০ শতাংশ।’

মুহিত বলেন, ‘১৯৮৬ সালে একটি চটি বইয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রসার বিশ্বে ঘটতে থাকে। আমি ড. ইউনুসকে বলেছি, আপনি প্রমাণ করেন আপনি ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি চলবে। খুব বেশি বড় করবেন না।’

‘২০০২ সাল থেকে শাখা বাড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে আইন সংশোধন করে সরকারের শেয়ার থাকে ২৫ শতাংশ, ৭৫ শতাংশ শেয়ার থাকে গ্রামীণ মহিলাদের। সরকার চেয়ারম্যান ও ২ জন পরিচালক নিয়োগ করবে। বাকিটা তারা করবে। সরকার সব সময় চেয়ারম্যান নিয়োগ করে আসছে। চেয়ারম্যানরা কাজ করতে পারে না, ইউনুস সাহেব যা বলেন, তাই করা হতো’ অভিযোগ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯০ সালে একটি সিদ্ধান্ত হলো অনির্দিষ্টকালের জন্য ড. ইউনূসকে পরিচালক করা হোক। ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত থাকার বিধান আছে। কিন্তু তার অনিদিষ্টকালের জন্য পরিচালক থাকার সিদ্ধান্তটি আর সরকারের কাছে রেফার করা হয়নি।’

‘অডিটে দেখা গেলো তার বয়স ৬০ বছর, তিনি থাকতে পারবেন না। কিন্তু  এ অডিট রিপোর্ট আর সরকারের কাছে আনা হলো না। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবারই বিষয়টি উল্লেখ করে, কিন্তু কেউ সাহস পায় না ড. ইউনূসকে বলতে’ দাবি করেন তিনি।

মুহিত বলেন, ‘আমি ড. ইউনূসকে বললাম, রিভিউ ফাইনাল হলে আপনি রিজাইন নিতে পারেন। আর আপনাকে আমরা সম্মান করবো। মিটিং বসার আগে ইউনূস সাহেবের সাথে কথা বললাম। আপনি রিজাইন দিলে কোনো আলোচনা হবে না আর সম্মান থাকবে। এ মিটিং ইউনূস সাহেব হতে দিলেন না।’

‘তারপর গওহর রিজভী ও আমি ইউনূস সাহেবকে বললাম, আপনাকে অন্য কোনোভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে রাখবো। তিনি বললেন, তা হবে না। আমি বললাম, সরকারের সাথে সাংঘর্ষিক সর্ম্পক থাকলে সুবিধা হবে না’ যোগ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনূস সাহেব বললেন, ‘আমি ছাড়বো না, আমি ছাড়লে ব্যাংক কলাপস করবে। এটা তো আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এখানেই গ্রামীণ ব্যাংকের আলেচনা শেষ হয়ে যায়। তিনি কোর্টে গেলেন, কোর্টের সিদ্ধান্ত হয়, তিনি পদত্যাগ করেন।’

‘তারপর থেকেই তিনি এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করলেন। গ্রামীণ মহিলাদের বললেন, তোমরা যারা চাকরি করো তাদের চাকরি শেষ, তোমরা আন্দোলন কর’ দাবি করেন তিনি।

মুহিত আরো বলেন, ‘ড. ইউনূস সাহেব চলে যাওয়ার পর থেকে গ্রামীণ ব্যাংক আরো ভালো চলছে। আগে সিদ্ধান্ত হতো না, এখন সিদ্ধান্ত হয়; কার্যকর হয়।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের ধ্বংস এ সরকার কখনো করতে পারে না। ইউনূস সাহেব পৃথিবীব্যাপী বলছেন, সরকার এটিকে কলাপস করতে চান। গ্রামীণ ব্যাংক ইউনুস সাহেবের সৃষ্টি। সেভাবেই চলছে।’

অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, ‘ড. ইউনূস সাহেব বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে গ্রামীণ ফোনের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বক্তব্য মিথ্যা। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা দেয়া হয় গ্রামীণ ফোনকে। গ্রামীণ ফোন গ্রামীণ ব্যাংককে অনেক ডেভিন্টেও দিয়েছে। গ্রামীণ মেয়েরা এ প্রতিষ্ঠানের কেউ নয়।’

‘তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে কিছু সাহায্য দিয়েছেন। গ্রামীণ ফোন থেকে কয়েকশ’ কোটি টাকা পেয়েছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের নামেই তিনি এসব টাকা নেন। এ সব টাকা গ্রামীণ মহিলাদের দেয়া হলে, তারা দরিদ্র থাকতো না’ যোগ করেন তিনি।

মুহিত বলেন, ‘গ্রামীন ব্যাংকের সঙ্গে আমি শুরু থেকে জড়িত। যে ব্যাপার নিয়ে হইচই করছেন, তা নিয়ে কোনো কারণই নেই। তিনি একজন রাজনীতিবিদ। তিনি আমাদের সঙ্গে কথা না বলে, আমাদের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিচ্ছেন। গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই।’


0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন