ঢাকা: সংঘাত এবং বিক্ষোভে ব্যাহত হতে পারে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ব্রিটেনের জনপ্রিয় দৈনিক ‘দ্যা গার্ডিয়ান’। মঙ্গলবার গার্ডিয়ানের অনলাইন সংস্করনে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশের নির্বাচন সংঘাত এবং বিক্ষোভে পণ্ড হয়ে যেতে পারে। যদিও দেশটির সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তারা এখনো ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলেই যাচ্ছেন, নির্বাচন অবাধ এবং স্বচ্ছ হবে।
গত মাসের সংঘর্ষের পর থেকেই বিরোধী দলগুলো বড় ধরনের বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম জনসংখ্যার এ দেশটি আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার অতলে তলিয়ে যেতে পারে।
ছয় বছর আগে একবার সংঘাত এবং ধর্মঘটে দেশটির একটি জাতীয় নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। তখন দেশটিতে দুই বছর ধরে জরুরি অবস্থা চলে এবং একটি সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় বসে।
এবারো ৪২ বছর আগের যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত একটি ‘বিতর্কিত’ আদালত দেশটির রাজনৈতিক শিবিরকে স্পষ্টত দুটি ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে।
ফেব্রুয়ারিতে এ আদালতের এক রায়ের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। এরপরই ঘটে সাভারে স্মরণকালে ভয়াবহ ভবন বিপর্যয়। সব মিলিয়ে এবারো পরিস্থিতি খুবই ঘোলাটে।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান মুখপাত্র ড. গওহর রিজভী বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ম মাফিকই চলছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারও সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচনও সময় মতই অনুষ্ঠিত হবে। সরকার এ ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আছে বলেও জানান তিনি।
যদিও এখনো অনেক বিষয়েরই সমাধান হয়নি। যেমন- বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির বিষয়টির এখনো কোনো সমাধান দেয়নি সরকার এবং শেখ হাসিনার সরকারের নেতৃত্বেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলে আসছে ক্ষমতাসীনরা।
তবে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া সহজেই এসব মেনে নিবেন বলে মনে হয় না। বিএনপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতা জানান, আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচন বয়কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যেন তারা ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে আবারো ক্ষমতায় আসতে পারে এবং একদলীয় শাসন কায়েম করতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কেউই একবারের বেশি নির্বাচনে জিততে পারে না। বর্তমান ক্ষমতাসীনরাও বুঝে গেছে তারা জিততে পারবে না। তাই তারা যে কোনো উপায়ে ক্ষমতায় আসতে চায়।
এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এবং রমজানের আগের সময়টুকুতে বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে শক্তি প্রদর্শনের কথা ভাবছে। আর রমজানের পর শুরু হবে আসল লড়াই।
আগামী নির্বাচনে তিনটি ইস্যু প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করবে। এক. বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর ভূমিকা, দুই. চলমান যুদ্ধাপরাধ আদালত এবং তরুণ ভোটাররা।
ইসলামি দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা এখনো অসংখ্য নির্বাচনী আসনের ফলাফল উল্টে দেয়ার ভূমিকা রাখার মতো ক্ষমতা রাখে বলে গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি আবির্ভাব ঘটেছে নতুন শক্তি হেফাজতে ইসলামের। হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ বলেন, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষেতার প্রভাব থেকে ইসলামকে রক্ষা করার জন্যই তাদের দল গঠিত হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামও আবারো তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে রাস্তায় নেমে আসবে। শাহবাগের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নবী মুহাম্মদ (সা:) এর অবমাননাকারী ব্লগারদের শাস্তির দাবিই তাদের প্রধান দাবি।
অন্যদিকে, শাহবাগের আন্দোলনকারীদের দাবি হলো যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি নিশ্চিত করা। শাহবাগের আন্দোলনের ২৯ বছর বয়সী নেতা ইমরান এইচ সরকার বলেন, তারাও তাদের আন্দোলন পুনরায় শুরু করবেন। তবে তিনি এখন গা ঢাকা দিয়ে আছেন বলে জানা গেছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সাবারই রাজপথে নেমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার অধিকার আছে।’
অবস্থাদৃষ্টে যা মনে হচ্ছে একটা বিষয়ে সবাই একমত। আর তা হল সংগ্রাম। আগামী দিনের রাস্তার সংগ্রামই নির্ধারণ করে দিবে কে জিতবে আর কে হারবে, মন্তব্য এই আইনজীবী জামায়াত নেতার।




0 comments:
Post a Comment