ঢাকা: গত ৬ মে ভোর রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের অবস্থান কর্মসূচিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা সরকারের দেয়া সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ চ্যানেল আল জাজিরা।
মঙ্গলবার আল জাজিরার একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
নিজেদের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে দাবি করা হয়, ওই অভিযানে নিহতের ব্যাপারে সরকার ভুল পরিসংখ্যান দিয়েছে।
সরকারের দাবি অনুযায়ী, ইসলামী দল হেফাজতে ইসলামের ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়।
তবে নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানায়, ওই বিক্ষোভে ঠিক কতজন নিহত হয়েছে তা পরিষ্কার নয়।
গত শনিবার এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়, নিরপেক্ষ সংবাদ সূত্রগুলো নিহতের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত বলে জানিয়েছে। এছাড়া বহু আহত হয়েছে।
তবে আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাতকারে নিহতের ভুল তথ্য দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দীপু মনি বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে, এর তদন্ত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘অন্তত ২৩টি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মোবাইল ফোন আছে। এখানে গোপন করার কিছু নেই। অনেকে নিহতের ভান করে শুয়ে থাকলেও পর তাদেরকে হেঁটে চলে যেতে দেখা গেছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এবং দেশের অধিকাংশ মানুষ এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক আছে বলে মনে করে না। কিছু মানুষ যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এ ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করে।’
সরকারি গোরস্থানের গোরখোদক বধির ও মূক আবদুল জলিল ইশরায় বলেন, বিক্ষোভের পর কেবল ওই রাতেই দাঁড়িওয়ালা ১৪ জন মানুষের কবর খুঁড়েছেন তিনি। লাশগুলোর অধিকাংশই ছিল গুলিবিদ্ধ।
এদিকে, ওই অভিযানে ঠিক কী ঘটে ছিল তা খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।




0 comments:
Post a Comment