ঢাকা: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা একেএম ইউসুকে কারাগারে পাঠিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আগামীকাল সোমবার তার জামিন আবেদনের শুনানি হবে।
রবিবার বিচারক এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।
এর আগে সকালে শুনানি শেষে মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাকে আগামী ২৬ তারিখের মধে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাওলানা ইউসুফের ধানমন্ডির বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর আগে তার বাড়ি ঘিরে রেখে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
রাজধানীর ধানমন্ডির ১০/এ রোডের ৩৭/এ নম্বর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন মাওলানা ইউসুফ। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কিছুদিন যাবৎ শয্যাশায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ৮ মে রাষ্ট্রপক্ষ মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানান।
গত ২২ এপ্রিল তদন্ত সংস্থা ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। ১১১ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদনসহ মোট ২ হাজার ৩৪৬ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। এতে জব্দ তালিকার ৬ জন সাক্ষীসহ ৭১ জন সাক্ষী করা হয়।
একেএম ইউসুফের (৮৪) বিরুদ্ধে মোট ১৫টি অভিযোগের ভিত্তিতে মূল ৮৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
একাত্তরে সাতশ’ জনকে গণহত্যা, আটজনকে হত্যা, দুইশ’ হিন্দু লোককে জোর করে ধর্মান্তরিত করাসহ তিনশ’ বাড়ি লুণ্ঠন এবং চারশ’ দোকান লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ইউসুফের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, একেএম ইউসুফের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল তদন্ত শেষ হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে ‘রাজাকার’ বাহিনী গঠনের ধারণাটি প্রথম দেন একেএম ইউসুফ। তার কথা মতোই এ বাহিনী গঠন করা হয়।




0 comments:
Post a Comment