ঢাকা : সাভারে ধসে পড়া ভবন ঘিরে এখন কেবল লাশের গন্ধ আর
স্বজন হারাদের কান্নার রোল। তাদের চোখে-মুখে কেবল বেদনা আর শঙ্কা। জীবিত
কিংবা মৃত যাই হোক প্রিয় মানুষটাকে ফেরত পাওয়ার আকুতি তাদের।
শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৪-এ। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮৫ জনকে। সাভার থানায় নিখোঁজদের সন্ধান চেয়ে জিডি করেছে ৫৩০ জনের স্বজন।
অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লাশ হস্তান্তরে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, ২৮৭ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ৩৯টি লাশ রয়েছে। এদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগের লাশ ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে।
ধসে যাওয়া ওই ভবনের নিচে আরও ২ হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করছেন উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসা স্থানীয়রা। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, ওই ভবনের পোশাক কারখানার ৫টি ইউনিটে ৩ হাজার ১২২ জন শ্রমিক কাজ করতেন। এছাড়া নিচের দুই তলা ছিল মার্কেট। সেখানেও অনেক মানুষ ছিলেন।
বহু মানুষ এখনও ধ্বংস স্তূপে আটকে রয়েছেন। ধ্বংস স্তূপের ভেতর থেকে আটকে পড়া মানুষ জনের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। অনেক মহিলা, পুরুষ তাদের বের করার জন্য আকুতি জানিয়ে চিৎকার করছেন। অনেকে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টের কথা বলছেন। কিন্তু ইট, লোহা আর কংক্রিটের স্তূপে এমনভাবে তারা আটকে রয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধারে কোনো নিরাপদ রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না।
এখনও উদ্ধার কাজ চলছে। উদ্ধার কাজ শেষ হবে কবে কখন তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। তবে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি, ভালোবাসা সবই আছে চাপাপড়া হতভাগাদের সঙ্গে।
বিবিসিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর বিবিসিকে বলেছেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ইমারত নির্মাণের নিয়ম কানুন যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তবে একইসাথে মন্ত্রী বলেন, কিছু হরতাল সমর্থক ভবনটির ফাটল ধরা দেয়ালের বিভিন্ন স্তম্ভ এবং গেট ধরে নাড়াচাড়া করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ভবনটি ধসে পড়ার পেছনে সেটাও একটি সাম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
মন্ত্রী জানান, তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দমকল বাহিনীর প্রধান বলেন, ভেঙে পড়া ভবনটির অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে বিভিন্ন দিক থেকে কেটে ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, উদ্ধারকাজ বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত গড়াতে পারে।
সন্ধ্যার পর ফ্লাড লাইট নিয়ে উদ্ধার চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলেও, ভবন কাটার জন্য ভারী কোনো যন্ত্র ব্যাবহারের তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। উদ্ধারকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন সেনা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আটকে পড়া মানুষজনের প্রাণহানির ভয় পাচ্ছেন তারা।
তিনি বলেন, তারা চেষ্টা করছেন ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া লোকজনকে যতটা সম্ভব নিরাপদে বের কর আনতে।
আবারো ট্রাজেডির শিকার পোশাক শ্রমিক
ধারণা করা হচ্ছে, আহত নিহতদের অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক, কারণ ভেঙে পড়া ভবনটিতে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা ছিল। দেশে ভবন ধসে অথবা অগ্নিকান্ডে কিছুদিন পরপরই পোশাক শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এর আগে ২০০৫ সালের এই মাসেই অর্থাৎ এপ্রিলে সাভারের কাছে স্পেকট্রাম নামে একটি পোশাক কারখানা ধসে ৬০ জনেরও বেশি শ্রমিক মারা গিয়েছিল।
ভবনটিতে ফাটল ছিল?
মঙ্গলবার রানা প্লাজা নামে ভবনটিতে ফাটল চোখে পড়ে, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের নিষেধের পরেও বুধবার তা খোলা রাখা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল নয়টার দিকে হঠাৎ করে বিকট শব্দ এবং কাঁপনে তারা ভূমিকম্পের আশঙ্কা করেন। পরে বেরিয়ে দেখেন বিরাট এলাকা ধুলা বলিতে ধোঁয়াটে হয়ে পড়েছে।
সরাসরি দেখুন এখানে LIVE SHOW




ডাক্তারের ভুলে মরে ১জন আর
ReplyDeleteপ্রকৌশলীর ভুলে মরে এক সাথে ১০০০ জন...