তিনি বলেন, ‘এখন মানুষকে দেখানোর জন্য সরকার রানার আত্মীয়-স্বজনদের গ্রেপ্তার করছে। অথচ তারাই নানা তালবাহানা করে সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।’
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় সকল রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভায় খন্দকার মোশাররফ এই অভিযোগ করেন।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘সাভার রানা প্লাজার ধসের আগে ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছিল। তখন যদি শ্রমিকদের কাজে বাধ্য করা না হতো, তাহলে এত মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতো না।’
তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে সরকার রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যার কারণে এখন রাজনীতিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। তারা যদি এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে না দেয়, তাহলে রাজনীতিতেও সাভারের মত বিপর্যয় ঘটবে।’
খন্দকার মোশাররফ অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে সাভারের ঘটনা বিরোধী দলের ওপর চাঁপানোর চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী রানা প্লাজার মালিককে বাঁচাতেই সে (রানা প্লাজার মালিক) কোনো দল করে তা নিয়ে বিব্রত বোধ করছেন।’
তিনি দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘সাভারে উদ্ধারকারীরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চাচ্ছে অথচ সরকার তা দিতে পারছে না। তাহলে আমাদের দুর্যোগ মন্ত্রণালয় করেটা কি?’
‘চার দিন হয়ে গেছে, এখন অনেক মানুষ সেখানে আটকে আছে। সরকার কতটুকু সফল হয়েছে, তা এখনই বলতে চাই না’- যোগ করেন মোশাররফ।
মানবিক বিপর্যয়ের কথা চিন্তা করে বিএনপি আপাতত কোনো কঠোর কর্মসূচি দিচ্ছে না জানিয়ে দলের এই প্রভাবশালী সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিচ্ছি না। সুতরাং আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের এই বিপর্যয় মোকাবেলা করি।
একই সঙ্গে তিনি সরকারকে দেশের বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করতে আহ্বান জানান।
বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া ও নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার।




0 comments:
Post a Comment