গত ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব দিয়ে বলেছিলেন, সুযোগ আসলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন নারীকেই বাসাবেন।
তার এই বক্তব্যে আশাবাদি হয়ে রাষ্ট্রপতি পদে দলের দুই শীর্ষ নেত্রী সাজেদা চৌধুরী এবং মতিয়া চৌধুরী রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। কিন্তু ১৯ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ২১ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে আওয়ামী লীগ থেকে স্পিকার আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি পদে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়।
এতে দলের এই দুই শীর্ষ নেত্রী ভীষণভাবে মনোক্ষুন্ন হন। এদের মধ্যে সাজেদা চৌধুরী প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগ থেকে অবসর নেয়র ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে মতিয়া চৌধুরী দলীয় কর্মকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জাস্ট নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেয়ার পর পরই স্পিকারের পদটি শূণ্য হতে চলছে। ডেপুটি স্পিকার কর্ণেল (অব.) শওকত আলীকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তিনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার কথা ভাবছেন। শওকত আলীর কয়েকজন ঘনিষ্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপর দিকে আওয়ামী লীগ বান্ধব হিসাবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান একে আজাদও ছিলেন রাষ্ট্রপতি পদের একজন প্রত্যাশী। এই পদের জন্য নিজের যোগ্যতা প্রমানের জন্য বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত দল ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মূল্যায়ন না হওয়ায় তিনিও আওয়ামী লীগ থেকে মূখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া শূণ্য স্পিকার পদে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আলী আশরাফ এবং দলের আইন সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরুর নাম তালিকায় রয়েছে। পদ পাওয়ার জন্য তারাও বিভিন্ন ভাবে দলীয় প্রধানের নজরে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর চয়েজ লিস্টের শীর্ষে অবস্থান করছেন নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, স্পিকার অনেক শীর্ষ নেতাদের ডিঙ্গিয়ে শিরিন শারমিন চৌধুরীকে স্পিকার পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দিলে দলের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। অবশ্য সকল বিষয় মাথায় রেখেই পরবর্তীতে সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে দাবি সভাপতিমন্ডলির বেশ কয়েকজন নেতা।
এ বিষয়ে সাজেদা চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, সময় আসলে সবই দেখতে পারবেন।
অবশ্য মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। কারণ তিনি একা কোনো সিদ্ধান্ত দেন না। আলোচনার মাধ্যমেই সব হচ্ছে। দল ছাড়ার বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি।
প্রসঙ্গত, ১৯ এপ্রিল দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে স্পিকার আব্দুল হামিদ এডভোকেটের নাম প্রস্তাব করেন তোফায়েল আহমেদ। এই প্রস্তাবনায় আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং শাহজাহান খান সমর্থন দিয়ে বক্তৃতা করেন।
বৈঠকের শেষ দিকে সাজেদা চৌধুরী নিজের ত্যাগ ও প্রজ্ঞা তুলে ধরে নিজেকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যোগ্য হিসাবে বক্তৃতা করেন। পরে তোফায়েল আহমেদ সাজেদা চৌধুরীর ত্যাগের আরো ফিরিস্তি দিয়ে তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বৈঠকে উপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যরা এর তিব্র বিরোধীতা করেন। এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তেই সমর্থন দেন। এসময় সাজেদা চৌধুরী নিজেকে ক্লান্ত উল্লেখ করে দল থেকে বিদায় দেয়ার জন্য নেতাদের অনুরোধ করেন।




The opinions of the top leaders to become the president of Bangladesh are correct. These leaders worked many years with the party. Their desire was not fulfilled.
ReplyDeleteThe top leaders of the Awamis are not satisfied with the selection of the president of Bangladesh. These leaders have been serving the awami party for a long time. The desire is genuine.
ReplyDelete