বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » ভয়ানক খবর রাজধানীতেই নকশা বহির্ভূত ইমারত ১০ হাজার

ভয়ানক খবর রাজধানীতেই নকশা বহির্ভূত ইমারত ১০ হাজার

  নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা:: রাজধানীর অদূরে সাভার এলাকায় নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত বহুতল ভবন রানা প্লাজা ধসে এ পর্যন্ত ২৮১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিকসহ কয়েক হাজার মানুষ আহত হওয়ায় সারাদেশ শোকে শোকার্ত। এ জন্য বৃহস্পতিবার সারাদেশ জাতীয় শোক পালন করে।

২০০৬ সালে নির্মিত রানা প্লাজা রাজউকের অনুমতি ছাড়াই ৬ তলা থেকে ৯ তলা করা হয় (সাভার পৌরসভা থেকে ৬ তলা করার অনুমতি নেয়া হয়েছিল)। অথচ খোদ রাজধানী ঢাকায় এ রকম নকশা বহির্ভূত প্রায় ১০ হাজার ইমরাত বা বিল্ডিং রয়েছে যা থেকে ঘটতে পারে এর চেয়ে ভায়বহ কোনো দুর্ঘটনা। যেখানে একটি বিল্ডিংয়ের বিপর্যয় সামলাতে রাষ্ট্রযন্ত্র হিমশিম খাচ্ছে সেখানে এ রকম বড় ধরনের একাধিক কোনো বিপর্যয় মোকবেলা করার সামর্থ কতোটুকু তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন অবান্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে যদি রিকটার স্কেলের ৬ মাত্রা বা তার অধিক মাত্রার ভূমিকমপ হয় তবে ঢাকা হবে ধ্বংসের নগরী। এ ক্ষেত্রে নকশা বহির্ভূত ইমরাত ঝুঁকির দিক থেকে সবার প্রথমে রয়েছে। নকশা বহির্ভূত এ সব ইমারতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কাজ শুরু করলেও সমন্বয়ের অভাবে বর্তমানে সকল কর্মকা- থমকে আছে।

রাজউক ও দুদকের অনুসন্ধানী টিম এরই মধ্যে রাজধানীর প্রায় সাড়ে ১০ হাজার নকশা বহির্ভূত ইমারত সনাক্ত করেছে যার মধ্যে ২/৩ হাজার ভবন রয়েছে রাজউকের সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন। তাদের বিরুদ্ধেই রাজউক ও দুদক দ্বৈতভাবে অভিযান পরিচালনা করার কথা ছিল। এ অভিযান টিমের প্রধান হিসেবে স্বনামধন্য ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রোকন-উদ-দৌলা দুদকের সঙ্গে কাজ করছে এবং দুদক উপ-পরিচালক সাহিদুুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বিশেষ টিম দুদকের পক্ষে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করছেন।

মূলত ঢাকার আবাসন সক্রান্ত সকল কর্মকা-ের দায়-দায়িত্ব অবশ্যই সবার প্রথমে রাজউকের উপর বর্তায়। তারপরও যেহেতু রাজউকের দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে দুদক কাজ করছে তাই তাদের দায়ও কোনো অংশে কম নয়। কিন্তু নকশা বহির্ভূত ইমারত ভেঙে ফেলা বা ইমারত মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে এর দায় একপক্ষ অপর পক্ষকে দেয়া ছাড়া কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না।

কিন্তু কেন এ অবৈধ ইমারত ও নকশা বহির্ভূত ইমারত মালিকদের বিরুদ্ধে এখনো অভিযান শুরু হচ্ছে না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের অনুসন্ধান এক কর্মকর্তা জাস্ট নিউজকে জানান, রাজধানী ঢাকার যেসব বাড়িওয়ালা বিল্ডিং তৈরির সময় রাজউক প্রদত্ত নকশা অনুযায়ী বাড়ি তৈরি করেননি বা নকশা সঠিকভাবে অনুসরণ করেননি তাদের বিরুদ্ধেই আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে আমরা আমাদের অনুসন্ধান অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি। কিন্তু অভিযানের বিষয়ে কমিশন থেকে কোনো অফিসিয়াল নির্দেশনা না পাওয়ায় রাজউকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ এগুতে পারছি না।

অন্যদিকে অভিযানের বিষয়ে রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রোকন-উদ-দৌলার কাছে জানতে চাইলে তিনি জাস্ট নিউজকে বলেন, ঢাকা শহরে নকশা বহির্ভূত ইমারতের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজারেরও অধিক হতে পারে। কিন্তু আইনগত জটিলতা থাকার কারণেই বর্তমানে অভিযান বন্ধ রয়েছে। কারণ রাজউক আইনে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একত্রিত হয়ে কোনো অভিযান চালানো নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই জটিলতার মীমাংসা হলেই অভিযান শুরু হবে।

আইনগত জটিলতা নিয়ে দুদকের ওই কর্মকর্তার কাছে জানতে তিনি বলেন, যেহেতু দুদক পুরো বিষয়টি অনুসন্ধান করছে তাই আমরা যে কোনো অভিযানে নামতে পারি। এ ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা নেই। তবে আমি যতোটুকু জানি রাজউকের মোবাইল কোর্টের সঙ্গে যৌথভাবে কোনো অভিযান চালানোর বিষয়ে আইনি জটিলতা থাকতে পারে। তাই বলে অভিযান থেমে থাকবে সেটা ঠিক নয়।

তাছাড়া আইনত অভিযান পরিচালনা রাজউক করবে তা শুরু করলেই পারে আমরা তাদের সঙ্গে থাকতে তো কোনো দোষ নেই।

তবে দুদক সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধানী দলকে অভিযানের বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনা দিলেও কোনো অফিসিয়াল আদেশ দেয়নি। তাছাড়া এ ধরনের জটিলতার বিষয়ে উচ্চপর্যায় থেকে পদক্ষেপ নিলে তা সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

আইনি জটিলতার বিষয়ে দুদক সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করার কাজ রাজউকের। আমরা কেবল তাদের সঙ্গে থাকতে পারি। মূলকাজ তাদেরই করতে হবে।

ইমারতে বা স্থাপনায় অনিয়মের ক্ষেত্রে দুদক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দুদকের অনুসন্ধান দল প্রায় ২ হাজার ৫০০ ভবনের কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছে এবং ৩ শতাধিক স্থাপনা পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনে তারা বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ও বিল্ডিং মালিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। যেখানে তারা রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা বিশেষ করে রাজউকের ফিল্ড অফিসারদের কর্তব্য অবহেলার প্রমাণ পেয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বেশ কিছু বাড়ি আবাসিক হিসেবে অনুমতি নিলেও অনাবাসিক এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় ৩ হাজার পাকা বাড়ি অবৈধ পন্থায় অনাবাসিক এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু সংখ্যক বাড়িওয়ালারা রাজউকের অনুমতি না নিয়ে তাদের বাড়ির ছাদে মোবাইল টাওয়ার বসিয়েছেন যা রাজউক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

দুদক সূত্র জানায়, রাজউক ৮ ফুট ৩ ইঞ্চির কম প্রশস্ত রাস্তায় কোনো পাকা বাড়ির নির্মাণের অনুমতি না দেয়ার কথা থাকলেও এ রকম অনেক বাড়ি আছে যা রাজউকের অনুমতি নিয়ে করা হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীতে সরু রাস্তার পাশে এরূপ কয়েক হাজার বিল্ডিং রয়েছে এবং এ সব হাউজিং কোম্পানি কিংবা বাড়ির মালিকরা রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করেননি। অথচ এসবের জন্য রাজউক দায়সারা গোছের কার্যক্রম অর্থাৎ নোটিশ প্রদানের মতো নগণ্য কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

কি ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে সে বিষয়ে জানা যায়, নকশা বহির্ভূত ইমারত ও ইমারত মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযানকে দুটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। তার একটি অংশ হলো- যে সব ইমারত মালিকরা রাজউকের বিল্ডিং কোড পুরোপুরি অনুসরণ করেননি অথচ  বসবাসের অনুপযোগী নয় এবং পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর নয় তাদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র আর্থিক দ- দেয়া হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে তার নকশা বহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে সে সব ইমরত মালিকরা রাজউকের বিল্ডিং কোড পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে এবং তার বিল্ডিং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সে হিসেবে তাদেরকে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানাসহ সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদ- দেয়া হতে পারে। এ ছাড়া রাজউক ওই সব ইমারাত বা বিল্ডিং পুরোপুরি ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

ওই অভিযানের সময় রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত, পরিবেশ অধিদপ্তরে কর্মকর্তা, রাজউকের স্পেশাল টিম এবং দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিম থাকবে। অভিযানকালে অনিয়মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আর্থিক দ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজার দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

এ ধরনের অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে দুদকের ওই অনুসন্ধানী কর্মকর্তা জাস্ট নিউজে জানান, এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে সরকার যেমন কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে তেমনি জনগণের মধ্যে ইমারত আইন সম্পর্কে এক ধরনের সচেতনতা তৈরি হবে। তাছাড়া অভিযানের সময় অনুসন্ধান টিম বাড়ির মালিকদের পরিবেশের কথা বিবেচনা করে নকশা অনুসরণ এবং স্থাপনার অবৈধ অংশটুকু ভেঙে ফেলার জন্য উদ্যোগ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে। তারপরও বাড়ির মালিকরা কোনো ব্যবস্থা না নিলে রাজউকের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন