ঢাকা: ষড়যন্ত্রের চোরাবালিত সরকার তলিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু।
তিনি বলেন, দমন-পীড়ন চালিয়ে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ করা যাবে না। গণবিপ্লব অত্যাসন্ন। গণরোষের হাত থেকে বাঁচতেই সরকার নানা ধরনের কটূকৌশল করছে।
মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আঠারো দলীয় জোটের ডাকা ৩৬ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনের বর্ণনা তুলে ধরতে গিয়ে শামসুজ্জামান দুদু এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি জানান, হরতাল পালন করতে গিয়ে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের হামলায় সারা দেশে বিরোধী জোটের অন্তত ২৯০ জন আহত হয়েছে। আর ১৭০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রামমাণ আদালত ৭ জনকে কারাদণ্ড এবং দুজনকে জরিমানা করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গোটা দেশ আজ বিক্ষোভে উত্তাল। জনগণ সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। তারা সরকারের হাত থেকে বাঁচতে চায়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এক মন্তব্যের জবাবে দুদু বলেন, ‘এই সরকারের মেয়াদ শেষেই নির্বাচন হবে এবং তা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে হবে। না হলে জনগণ থেকে বিচ্চিন্ন হয়ে পড়বে।’
প্রয়োজনে বিএনপির বাকি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হবে- আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদের এই মন্তব্যের জবাবে বিএনপি এই মুখপাত্র বলেন, ‘জেলখানায় এখনই একটু আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করে রাখুন।’
তিনি বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় এসে তিন দিনে ৩০০ মানুষকে হত্যা করেছে, ৫৭ সেনা অফিসারদের হত্যা করেছে। যারা এসব ঘটনার জন্ম দিয়েছে জেলেতো তাদের যেতে হবে। নির্বাচনের পর দেখা যাবে কে জেলে যায়! তখন আমরাই তা নির্ধারণ করব।’
দুদু আরও বলেন, ‘আমরা জানি হরতালে মানুষের কিছুটা কষ্ট হয়। কিছুটা ক্ষতি হলে তবুও মানুষ হরতাল পালন করছে, নিজেদের দাবি আদায়ে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, কৃষিবিদ শামীমুল ইসলাম শামীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন জসিম, বেলায়েত হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।




0 comments:
Post a Comment