কথাগুলো বলছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগ প্রকম্পিত করা স্লোগান কন্যা লাকী আক্তার। বিস্ময়ভরা কণ্ঠে তিনি বলছিলেন এ কথাগুলো। সম্প্রতি প্রথম আলোয় প্রকাশিত হাসনাত আবদুল হাইয়ের গল্প ‘টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি’ নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয় বাংলামেইলের নিউজরুম এডিটর কাজল কেয়ার।
বললেন, ‘আমি ইতিহাস ও সাহিত্য খুব পছন্দ করি। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকোনমিকসে সুযোগ পেয়েও জগন্নাথে ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হয়েছি। তাই একজন সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে আমি বলবো, সাহিত্য বিচারে “টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি” নামের গল্পটি খুবই নিকৃষ্টমানের। এই গল্পে লেখক মূলত শাহবাগকেই অ্যাটাক করেছেন। শাহবাগের মেয়েদের হেয় করেছেন, বিব্রত করেছেন। স্লোগানের কথা যদি আসে তাহলে আমার নাম আসবে না, এটা হতে পারে না। তাই গল্পটি যারা পড়েছেন তারা সীমা চরিত্রের সঙ্গে আমাকে মিলিয়েছেন। হাসনাত আবদুল হাইয়ের মতো একজন লেখকের কাছে আমরা এটা প্রত্যাশাই করি না।’
‘তার নভেরা অসাধারণ একটি বই। আমি মনে করি, একটা মেয়ে কেন, প্রত্যেকটা ছেলেরই নভেরা পড়া উচিৎ। তার কালজয়ী উপন্যাসের মধ্যে সুলতান একটি। আমার কাছে কেউ এলে আমি তাকে পরামর্শ দেই যদি নিজেকে বিকাশ করতে চাও তাহলে হাসনাত আবদুল হাইয়ের নভেরা, সুলতান বইগুলো পড়ো। আমার মাথায় আসে না যে নভেরা লিখতে পারে, সুলতানের মতো একটি চরিত্রের জন্ম দিতে পারে, সে কীভাবে এমন গল্প লিখতে পারে! আমি মিলাতেই পারি না, একটার সঙ্গে আরেকটা কিছুতেই মিলাতে পারি না।’
শাহবাগের এই আন্দোলনকর্মী প্রথম আলো সম্পর্কে বললেন, ‘হাসনাত আবদুল হাই একজন লেখক। তিনি অনেক কিছুই লিখতে পারেন। কিন্তু প্রথম আলো এতো দায়িত্বশীল একটা জায়গায় থেকে গল্পটি কীভাবে ছাপালো এটা আমি বুঝতে পারছি না। তারা কেন, কী উদ্দেশে, কী মনে করে এটি ছাপালো এটাই তাদের কাছে আমার প্রশ্ন।’
বললাম, প্রথম আলোতো এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে?
জবাবে লাকী বললেন, ‘দুঃখ প্রকাশ তারা করেছে। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এটা অনেকটা গুলি ছুড়ে কাউকে আহত করার পর দুঃখ প্রকাশের মতো। জানি না, দারুণ রাজনৈতিক সঙ্কটের বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের যে ইতিহাস রচিত হচ্ছে প্রথম আলো কোন পরিচয় সেখানে স্থান পাবে? তবে আমি আশা করবো, অনুরোধ করবো পরবর্তীতে প্রথম আলো আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে, আরও সচেতন হবে।’
গ্রামের বাড়ি পাবনা হলেও লাকী আক্তারের জন্ম, বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া, আন্দোলন ও রাজনীতি সবকিছুই ঢাকায়। লেখাপড়ায় ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো লাকী। তিনি ঢাকার মালেকা বানু আদর্শ বিদ্যানিকেতন থেকে মাধ্যমিক এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ২০০৭ সালে ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
জগন্নাথে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গেই থেকেছেন তিনি। কিন্তু বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূরের পথ। তাই নিয়মিত ক্লাস করার জন্য তাকে ওঠতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি একটি মেসে।
ছোটবেলা থেকেই রাজনীতিবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। লেলিন, কালমার্কস, বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন তার রাজনৈতিক আদর্শ। তিনি মনে করেন এ দেশে রাজনীতি করেই রাজনীতির পরবর্তন করতে হবে। আর সে লক্ষ্যেই ২০১১ সালে যোগ দিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নে। বর্তমানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মেম্বার।
ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন লাকী। বাবা যুদ্ধ করেছিলেন পাবনা জেলা থেকে। কিন্তু এখনও মুক্তিযুদ্ধের সেই সার্টিফিকেট তোলেননি। এ নিয়ে অবশ্য কোনো আফসোস নেই বাবা-মেয়ে কারোরই।
পরিবারের প্রসঙ্গ আসতেই তিনি বললেন, ‘বাবা-মা ও ছয় ভাইবোন নিয়ে আমাদের সুখী সংসার। পরিবারের প্রতিটি মানুষের সঙ্গেই আমার খুব ভালো সম্পর্ক। আমার ইচ্ছা-অনিচ্ছার গুরুত্ব দেয় আমার পরিবার। আর তাই আমার জীবনসঙ্গীকেও তারা মেনে নিয়েছেন খুব সহজে। আমি মেয়ে বলে কোনো কিছু থেকে আমাকে কখনও বঞ্চিত করেননি বাবা। আমার ভাই আছে তবুও বাবা আমাকে বাবা বলে ডাকেন। আমার বাবাও রাজনীতি করেন। কিন্তু তার রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে আমার মতপার্থক্য রয়েছে। এ নিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের দুজনের মধ্যে তর্ক হয়, ঝগড়া হয়। আবার একটু পড়ই সব ঠিক হয়ে যায়।’
‘আমার রাজনীতি বা আন্দোলন নিয়ে আমার পরিবার কখনও বাধা দেয়নি। শাহবাগের আন্দোলনে আমার ওপর হামলা হওয়ার পর বাবা-মা আমাকে নিয়ে একটু বেশি চিন্তা করেন। আমার মনে হয় সব বাবা-মা তাই করেন। এরপর থেকে আমাকে তারা সব সময় বলেন সাবধানে থাকতে, সাবধানে চলাচল করতে, একা একা কোথাও না গিয়ে কাউকে সঙ্গে নিতে।’
আন্দোলন ও রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়ার পেছনে সাবজেট না পাওয়া ছাড়া আরও একটা কারণ ছিল। জগন্নাথে ভর্তি হওয়ার পর দেখলাম সেখানে হল নেই, পরিবহন কম, উন্নয়ন ফি বেশিসহ অনেক সমস্যা। তখন মনে হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তো সব কিছুই আছে। এরচেয়ে বরং এখানে থেকে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করি। এখানে আমার মতো একটা লাকীর প্রয়োজন আছে। এরপর থেকেই শুরু হয়ে গেলো আমাদের হল আন্দোলনসহ নানা আন্দোলন। জগন্নাথে যে সমস্ত উল্লেখযোগ্য আন্দোলন হয়েছে তার প্রতিটির প্রথমসারিতে ছিলাম আমরা কয়েকজন। জগন্নাথের প্রতিটি ইট পাথরও তার সাক্ষী।’
‘২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো আন্দোলন করেছি। ২০১১ সালে ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেয়ার পর অনেক আন্দোলন করেছি। ক্যান্টিন মুভমেন্ট আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্যিকিকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন, উন্নয়ন ফি বৃদ্ধি, পরিবহন বৃদ্ধি ইত্যাদি অনেক আন্দোলন করেছি। এছাড়া জামায়ত-শিবিরবিরোধী আন্দোলন তো চলছেই।’
শাহবাগে আন্দোলন প্রসঙ্গে লাকী বললেন, ‘শাহবাগে আমরা যে বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছি এই আন্দোলন আমরা অনেক আগে থেকেই করে আসছি। কিন্তু যখন যুদ্ধাপরাধীদের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারলাম না, দেশের কোটি মানুষের প্রাণের দাবি পূরণ হলো না, তখন আমরা রাজপথে নেমে আসি। আমাদের দাবির সঙ্গে এক হয় বাঙলার কোটি মানুষ। তারাও একই দাবিতে আমাদের সমর্থন দিতে রাজপথে নেমে আসে।’
‘এ আন্দোলন করতে এসে আমরা খেয়ে না খেয়ে, বিশ্রাম না নিয়ে, নিজেদের কথা না ভেবে দিনের পর দিন শাহবাগে থেকেছি। রাতের পর রাত আমরা একই দাবিতে ইটপাথরের ওপর, রাস্তার ওপর কখনও ঘুমিয়ে আবার কখনো নির্ঘুম থেকেছি।’
‘অথচ এক সময় এই শাহবাগে আমাদের অবস্থান, রাত কাটানো নিয়ে নানা কুৎসা রটানো হয়েছে, অনেক নোরাং কথা বল হয়েছে নারী আন্দোলন কর্মীদের নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন কারসাজি করে আমাদের আন্দোলনকে আপমান করা হয়েছে, ছবির সঙ্গে ছবি জুড়ে মিথ্যা ঘটনা সাজানো হয়েছে। নাস্তিক বলা হয়েছে। নষ্ট বলা হয়েছে। এমনকি কয়েকদিন আগে আমার মোবাইল নম্বরটি পর্যন্ত পর্ন সাইডে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সব সহ্য করছি একমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের সুষ্ঠু বিচারের জন্য।’
‘আমার মনে প্রশ্ন জাগে যারা আমাদের নিয়ে এ সমস্ত প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, নোংরা কথা বলছে, এতে তাদের কী লাভ হচ্ছে? এ দেশটা আমাদের সবার। এটাকে সুন্দর করার দায়িত্বও আমাদের সবার। যারা শাহবাগের আন্দোলনরত নারীদের নানা কুৎসা রটাচ্ছে, আমি সেই সব মানুষদের বলবো- আপনারা আমাদের নিয়ে কোনো কিছু বলার আগে চোখ বন্ধ করে একবার আপনার মা, বোন, স্ত্রী, মেয়ে ও প্রিয় মানুষটির কথা ভাবুন। দয়া করে কোনো নারীর নামে অপবাদ দেয়ার আগে একবার নিজের পরিবারের নারী সদস্যটির কথা ভাবুন। তাদের এমন আপমান করা হলে আপনি কি সহ্য করতে পারতেন?’
"""এই লেখাটি হুবহু বাংলামেইল থেকে নেয়া হয়েছে""""




লাকি ত এখন কত কথা কইব আসলে হাই মিয়া সব ফাস করি দিছে
ReplyDeleteহ "শয়তান পুলা" তমারে মিয়া কইছে ফাউল লুক েকাথায় কার
ReplyDeleteKeep going Lucky. Keep your belive and go on. Prove in the future that it was doen by the BNP-Jamat-Hafazat gong.
ReplyDeleteIt is propaganda by antie Bangladesh force who were always against lebaration of Bangladesh. sensative religious issues is always used to gain sympathy of good people. End of the day, their effort will be in vain.
ReplyDeleteহ আমলীগ খুব বালা।বিএনপি জামাত কিছু কইলেই আম্লীগ কয় ধর্ম নিয়া ব্যাবসা করে তারা কিন্তু আম্লিগরা যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ব নিয়া ব্যাবসা করে।শুধু ব্যাবসা না আরও খারাপ কাজে আম্লিগ স্বাধীনতা কে ব্যাবহার করে।আর নির্বাচন কাছে গনাইলে কারা তসবি নিয়া আর মাথায় হিজাব নিয়া গুরে এটা সবাই জানে
ReplyDeleteIn 1971, Rajakar, Albadar Shantibahinee also were saying same and helping PAK Army to rape & kill. Today again they gain strength due to BNP and trying to destroy Bangladesh. Allah will help in prevailing the trouth.
ReplyDeleteLucky ra sob pare koto koti takar malik hoyese seta dekhar bisoy
ReplyDeleteআওয়ামী লীগ/মামলা লীগ/সন্ত্রাস লীগ/গুন্ডা লীগ/ধর্শক লীগ/নাস্তিক লীগ/ যাই বলুন এরা দেশ ও জাতীর শত্রু, ধর্মের শত্রু, ইসলামের শত্রু এবং গনতন্ত্রের দুশমন তাই এদের বর্জন করুন, বয়কট করুন, ঘৃনা করুন
ReplyDeleteলাকি এখনো সময় আছে ইমরান লুচ্ছার কাছ থেকে সরে পড় নিজের ইজ্জত বাচাও নইলে সারা জীবন চেহারা খাতুনের মত কুমারী থেকে যাবে, ঘরের মেয়ে ঘরে যাও, যা কামিয়েছ সারা জীবন পায়ের উপর পা তুলে খেতে পারবে
ReplyDelete