ঢাকা: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকে যাতে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানো হয় – এই আবেদন জানিয়ে তাঁর পরিবার ভারতের কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা করেছে, মঙ্গলবার তার শুনানী রয়েছে।
ইতিমধ্যেই ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বালিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ওপরে স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
জামায়াত নেতা সাঈদীর পক্ষের ওই সাক্ষী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার ঠিক আগেই নিখোঁজ হয়ে যান। আর তার বেশ কিছুদিন পরে জানা যায় যে তিনি কলকাতার একটি জেলে বন্দী রয়েছেন অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অপরাধে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব ব্যানার্জীর এজলাসে সুখরঞ্জন বালির ভাইয়ের ছেলে – বাসুদেব বালা মামলাটি করেন। এর আগে এই আদালতই কোনও নির্দিষ্ট আদেশ না দিয়ে ভারত সরকারের কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট চেয়েছিল –বালির ব্যাপারে।
আর সেই নির্দেশের পরে সুখরঞ্জন বালির পরিবার সুপ্রীম কোর্টে গিয়েছিল স্থগিতাদেশ পেতে।
সুপ্রীম কোর্টে আবেদনকারীর আইনজীবী কলিন গঞ্জালভেস জানিয়েছেন, সুখরঞ্জন বালিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ওপরে স্থগিতাদেশ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে মূল আবেদনটির বিচার হবে কলকাতা হাইকোর্টেই।
আইনজীবী দেবাশীষ ব্যানার্জী যিনি সুখরঞ্জন বালির পরিবারের হয়ে মামলা লড়ছেন কলকাতা হাইকোর্টে, তিনি জানিয়েছেন বালি ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় চান কী না, সেটা ঠিক করতে কিছুটা সময় দেওয়া দরকার – যাতে তিনি ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আইনজীবী দেবাশীস ব্যানার্জী জানিয়েছেন যে বাংলাদেশে ফেরত না যাওয়ার ব্যাপারে বালি আর তাঁর পরিবারের আশঙ্কা যে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে তাঁকে হয়রানি আর নিপীড়ন করা হতে পারে। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বালি চলে আসার গোটা ঘটনাটাই রহস্যজনক আর তার পেছনে বাংলাদেশের কয়েকটি সরকারী এজেন্সির হাত আছে – এই অবস্থায় বাংলাদেশে ফেরত গেলে সেই সব সরকারি সংস্থার সামনে তিনি এক্সপোজড হয়ে যাবেন এবং হয়রান বা নিপীড়ন করা হতে পারে তাঁকে।
এই জন্যই বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানোর আবেদন জানিয়েছে সুখরঞ্জন বালির পরিবার।
বালি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে বর্তমানে কলকাতার দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন, যদিও তাঁর সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে, কয়েকমাস আগে জেল থেকে পাঠানো বলে কথিত একটি বয়ানে তিনি অভিযোগ করেন যে তাঁকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সামনে থেকে অপহরণ করে নিপীড়ন করে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি, আর তারপরে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বিবিসি র হাতে যেসব নথি এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার দায়ে উত্তর চব্বিশ পরগণার স্বরূপনগর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ২৩ ডিসেম্বর রাতে সুখরঞ্জন বালিকে আটক করে বি এস এফ। আদালতে তিনি নিজেই ভারতের আদালতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অপরাধ স্বীকার করে নেন।
পুলিশের কাছে, আদালতে বা অন্য কোথাও বালি এটা উল্লেখ করেন নি যে তাঁকে ঢাকা থেকে অপহরণ করে, নিপীড়ন চালিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবিসি





0 comments:
Post a Comment