ঢাকা: ২৪ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে ১৫০ কেজি সোনার বার উদ্ধার করে বিমানবন্দর কাস্টমস। ৬ জুলাই একই বিমানবন্দর থেকে আটক হয় ২৫ কেজি সোনা।
১৭ জুলাই চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ১৭ কেজি সোনাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এভাবে দুই মাসে দেশের দুই প্রধান বিমানবন্দর থেকেই আটক হয়েছে ১৭০ কেজিরও বেশি সোনা। এর বাইরে দেশের স্থল বন্দরগুলোতেও মাঝেমধ্যে উদ্ধার হয় চোরাই সোনা।
কথা হচ্ছে, এতো সোনা যায় কোথায়? খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনার রিজার্ভের একটি অংশ এসেছে এসব চোরাই সোনা থেকে। বিনামূল্যে পাওয়া এই মূল্যবান ধাতুর কারণে দিনে দিনে স্ফীত হচ্ছে বাংলাদেশের সোনার রিজার্ভ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ নির্বাহী ঢাকা টাইমসকে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সরকারের অন্য সংস্থা দেশের যে কোনো প্রান্তেই সোনা আটকের পরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেয়। এরপর আইন অনুযায়ী কেউ যদি এর প্রকৃত দাবিদার হয় তাকে ফেরত দেয়া হয়। অন্যথায় এটা সরকারের স্থায়ী সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটা বিক্রি করে সরকারের কোষাগারে অর্থ জমা করে। তবে অধিকাংশ সোনাই চোরাচালানকারিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ায় এর মালিক পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সোনার রিজার্ভের বিপরীতেই টাকা ছাপাতো বাংলাদেশ। এখন অবশ্য কেবল সোনা নয়, বৈদেশিক মুদ্রাতেও রিজার্ভ রাখছে বাংলাদেশ। তারপরও সোনার রিজার্ভ নেহায়েত কম না।
বাংলাদেশ ব্যাংকে বর্তমানে সোনা রিজার্ভ আছে ১৩ হাজার ৪৭ কেজি। এর মধ্যে ২০১২ সাল পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া চোরাই সোনার সংখ্যা এক হাজার ৮৪৩ কেজি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১২ সালে সবচেয়ে বেশি চোরাই সোনা উদ্ধার হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় দশ কেজি, একেবারে সঠিকভাবে বললে ৩৮৬ কেজি।
২০১৩ সালে এখন পর্যন্ত মোট কত পরিমাণ চোরাই সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা পড়েছে তার সঠিক হিসাব দিতে পারেননি ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা। তবে ২০১২ সালের জুলাই মাসের চেয়ে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণ বেশি বলে নিশ্চিত করেছেন ওই কর্মকর্তা।





0 comments:
Post a Comment