ঢাকা: বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে বাঁচানোর জন্যই সেইদিন চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চে বাধা দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান। তিনি বলেন, লংমার্চ ঠেকানোর কাজটি করা হয়েছিল সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে। শুধু তিনিই নন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সবাই সেদিন ওই কাজে ছিল। তারা সেদিন বাধা না দিলে বড় ধরনের অঘটন ঘটত বলে জানান তিনি।
রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন জি-টিভিতে সংবাদ-সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অঞ্জন রায়ের উপস্থাপনায় ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সেলিম ওমরাও খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. নাজমূল আহসান কলিমুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯৮ সালের ৯ জুন বিএপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পার্বত্য শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে লংমার্চ চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে এ লংমার্চ বাধা দেন শামীম ওসমান ও তার বাহিনী। ওই অভিযোগে ২০০১ সালের ৫ ডিসেম্বর জনৈক আলাউদ্দিন আল আজাদ বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার শামীম ওসমানকে ১নং, তার ভাই ২নং এবং তার ভাতিজা আজমির ওসমান ৩নং সহ ৭৯ জনকে আসামি করা হয়।
রবিবার ওই অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান তার বিরুদ্ধে লেখালেখির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ১৯৯৮ সালের আগে তার বিরুদ্ধে কোনো লেখালেখিও হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা অভিযোগ করেন, লংমার্চে বাধা, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা গোলাম আযমকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্চিত এবং সংসদে বিরোধী দলের বিভিন্ন ছবি দেখানোর কারণে সংবাদপত্রগুলো তার বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু করে।
শামীম ওসমান বলেন, ‘১৯৯৮ সাল পর্যন্ত যেসব সাংবাদিকরা সংসদ বিট করতেন তারা কিন্তু বলে দিয়েছিলেন পরবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য সাংসদ কারা হবেন। আওয়ামী লীগ থেকে বলা হল আমার নাম। জাতীয় পার্টি থেকে জিএম কাদের ও বিএনপি থেকে মশিউর বা অন্য কারো নাম। ওই মুহূর্তে কেউই আমার বিরুদ্ধে কথা বলেনি। কিন্তু পরবর্তীতে লংমার্চটি নিয়ে কথা উঠল।’
সাবেক সংসদ সদস্য দাবি করে বলেন, ‘যদি আমি সেইদিন লংমার্চ না ঠেকাতাম তবে বড় ধরনের অঘটন ঘটত। কারণ, লংমার্চের আগে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা যখন সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে বিষয়টি জানাল তখন অনেক রাত। বিরোধী দলীয় নেত্রী জানতেন কি জানতেন না সে বিষয়ে আমি জানি না। সেদিন কিন্তু ওনাদের গাড়িতে মার্কিং (চিহ্নিত) করা হয়েছিল। প্রয়াত আকবর আলী খান উনি প্রেসক্লাবে বলেছিলেন, যার যার লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে আসবেন। কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার দায়িত্ব গোয়েন্দা সংস্থার, আমার না।’ তিনি জানান, ‘সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাদের জানান হল, ফেনীর কোনো এক জায়গায় মাটি কাটা লেবার (শ্রমিক) থাকবে দুটি বাসে। ওই বাসগুলোকে বোমা দিয়ে ব্লাস্ট করা হবে। সারাদেশে খবর ছড়িয়ে যাবে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া ক্ষতিগ্রস্ত, ৪৫জন নিহত শত শত আহত। ওইসময় দেশে একটা সংকট সৃষ্টি করা হবে।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা চিন্তিত হয়ে পড়লাম । আমার দল চিন্তিত হল। কারণ, লংমার্চ ঠেকানোর কাজ আমি কিন্তুএকা করিনি। আমার দলের সবাই গিয়েছিলাম। আমি কিন্তু প্রথমে এটা করতে চাইনি। কিন্তু যখন জানতে পারলাম এ কাজটি না করলে বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তখন সেখানে গেলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হল, চার ঘণ্টা টাইম সেভ কর। কেন? কারণ, বিরোধীদলীয় নেতা যেন নিরাপদে যেতে পারেন। চার ঘণ্টা পর আমাদের বলা হল রোড ক্লিয়ার কর। ওই সময়টা পর্যন্ত আপ-টু চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রাস্তা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছিল। আপনি বলতে পারেন আমি অজুহাত দাঁড় করাচ্ছি। ওকে ফাইন গণতান্ত্রিক কারণে এটি যদি আমার ভুল হয়ে থাকে তবে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু কোনটা বেশি অপরাধ? আমরা যেটা করেছি সেটা বেশি অপরাধ? ভুলতো হতেই পারে আমরা তো আর ফেরাস্তা না। নাকি ওইটা বেশি অপরাধ শান্তি চুক্তি হলে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে বলে প্রচার করা? কোনো মসজিদে আর আযান হবে না উলুধ্বনি হবে? মুসলমানদের ঈমান কি এতো দুর্বল? তারা কি ক্ষমা চেয়েছেন একবার?’
নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন কাজের জন্য বিতর্কিত এই নেতা বলেন, ‘লংমার্চের পর আমি যেটি করলাম সেটির কারণ গোলাম আযম। ওনার প্রতি আমার আলাদা সম্মান আছে। আওয়ামী লীগ সরকার থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে মামলা হল না। সে যাই হোক, তখন কবি শামসুর রাহমান, মান্নান স্যার, কবির চৌধুরী স্যার, আমার মামা হাসান ইমাম ও আবেদ খান সবাই নারায়ণগঞ্জে গেলেন। সব সিনিয়র নেতারা যাদের আমরা প্রগতিশীল হিসেবে চিনি। ওইখানে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করি আমরা। কবির চৌধুরী স্যার আজকে নাই। আমি তাকে সম্মান করি। ওনারা ওই অনুষ্ঠানে আমাকে বললেন শামীম একটা ঘোষণা দাও শুরু করি আসো আবার। তাদের ওই স্প্রিহা দেখে আমি ঘোষণা দিলাম নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে গোলাম আযম অবাঞ্চিত। ওটা ছিল আমার দ্বিতীয় কারণ। তার পর সংসদে কিছু ছবি দেখালাম। ওটা ছিল তৃতীয় কারণ। এ তিনটি জিনিস করাতে কিছু পত্রিকা আমার বিরুদ্ধে লাগলো। তারা আমাকে গড ফাদার এবং ফাদার’স অব দ্য গড ফাদার খেতাব দিল।’
শামীম বলেন, ‘‘আমি বুঝতে পারলাম না। ওনারা অনেক জ্ঞানী ও প-িত ব্যক্তি নিশ্চয়ই আমার ভুল হলে ওনারা ধরিয়ে দিতে পারেন। এক সম্পাদককে আমি বললাম ভাইয়া মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। শয়তান আর ফেরাস্তা ছাড়া সবার ভুল হতে পারে। আমি জিজ্ঞাস করলাম কী ভুল করেছি? সালামও করলাম তার পায়ে হাত দিয়ে। উনি বললেন, ‘আরে বোকা তুমি কোনো ভুল করোনি। তোমাদের বাসায় কত গিয়েছি, কত খেয়েছি।’ আমি পুলকিত হলাম। আনন্দিত হলাম। তাহলে সবকিছু ঠিক আছে তাহলে লিখছেন কেন? উনি বললেন, ‘আরে বোকা তোমার বোনের বিরুদ্ধে লিখছি।’ কিন্তু আমার বোনরা তো তখন বিদেশে থাকে? তখন বলল, ‘আরে তোমার এই বোন না। তোমার বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’ আমি অবাক কোথায় হিমালয় পর্বত আর কোথায় আমি একটা ঘাস। তিনি বললেন, ‘শেখ হাসিনার হাতগুলো কারা কারা তাদের ভেঙে দিচ্ছি।’
শামীম ওসমান চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কেউ যদি একটি অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। এই অনুষ্ঠান কিংবা বাইরে যেকোনো জায়গায়। প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি করব না। কারণ, আমাদের ঘরেও সন্তান বড় হচ্ছে। আমাদের মেয়েরা বড় হচ্ছে। তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
এক পর্যায়ে তিনি নিখোঁজ নারায়ণগঞ্জের যুবলীগ নেতা পারভেজের কথাও তুলে আনেন। বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি পারভেজকে নিয়ে গিয়ে থাকে তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু যেই দিন গাজীপুরে আওয়ামী লীগ হারছে তখন যুবলীগের একজন নেতাকে সরকারের সিদ্ধান্তে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। তাই তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের দোষের কারণে জনগণ আমাদের ফেলে দিতে পারে। কিন্তু তাই বলে প্রধানমন্ত্রীকে ফেলে রেখে কোথাও যাওয়া ঠিক হবে না।’ তিনি আওয়ামী লীগের সাংসদ ও মন্ত্রীদের সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রায় একশ সংসদ সদস্যের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাল যোগাযোগ নেই। তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এটা আওয়ামী লীগের জন্য সতর্কতা সংকেত। আমরা যদি মনে করি আওয়ামী লীগ দিয়েই পার পেয়ে যাব তাহলে ভুল হবে।’
dhakatimes24
রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন জি-টিভিতে সংবাদ-সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অঞ্জন রায়ের উপস্থাপনায় ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সেলিম ওমরাও খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. নাজমূল আহসান কলিমুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯৮ সালের ৯ জুন বিএপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পার্বত্য শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে লংমার্চ চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে এ লংমার্চ বাধা দেন শামীম ওসমান ও তার বাহিনী। ওই অভিযোগে ২০০১ সালের ৫ ডিসেম্বর জনৈক আলাউদ্দিন আল আজাদ বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার শামীম ওসমানকে ১নং, তার ভাই ২নং এবং তার ভাতিজা আজমির ওসমান ৩নং সহ ৭৯ জনকে আসামি করা হয়।
রবিবার ওই অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান তার বিরুদ্ধে লেখালেখির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ১৯৯৮ সালের আগে তার বিরুদ্ধে কোনো লেখালেখিও হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা অভিযোগ করেন, লংমার্চে বাধা, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা গোলাম আযমকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্চিত এবং সংসদে বিরোধী দলের বিভিন্ন ছবি দেখানোর কারণে সংবাদপত্রগুলো তার বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু করে।
শামীম ওসমান বলেন, ‘১৯৯৮ সাল পর্যন্ত যেসব সাংবাদিকরা সংসদ বিট করতেন তারা কিন্তু বলে দিয়েছিলেন পরবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য সাংসদ কারা হবেন। আওয়ামী লীগ থেকে বলা হল আমার নাম। জাতীয় পার্টি থেকে জিএম কাদের ও বিএনপি থেকে মশিউর বা অন্য কারো নাম। ওই মুহূর্তে কেউই আমার বিরুদ্ধে কথা বলেনি। কিন্তু পরবর্তীতে লংমার্চটি নিয়ে কথা উঠল।’
সাবেক সংসদ সদস্য দাবি করে বলেন, ‘যদি আমি সেইদিন লংমার্চ না ঠেকাতাম তবে বড় ধরনের অঘটন ঘটত। কারণ, লংমার্চের আগে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা যখন সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে বিষয়টি জানাল তখন অনেক রাত। বিরোধী দলীয় নেত্রী জানতেন কি জানতেন না সে বিষয়ে আমি জানি না। সেদিন কিন্তু ওনাদের গাড়িতে মার্কিং (চিহ্নিত) করা হয়েছিল। প্রয়াত আকবর আলী খান উনি প্রেসক্লাবে বলেছিলেন, যার যার লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে আসবেন। কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার দায়িত্ব গোয়েন্দা সংস্থার, আমার না।’ তিনি জানান, ‘সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাদের জানান হল, ফেনীর কোনো এক জায়গায় মাটি কাটা লেবার (শ্রমিক) থাকবে দুটি বাসে। ওই বাসগুলোকে বোমা দিয়ে ব্লাস্ট করা হবে। সারাদেশে খবর ছড়িয়ে যাবে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া ক্ষতিগ্রস্ত, ৪৫জন নিহত শত শত আহত। ওইসময় দেশে একটা সংকট সৃষ্টি করা হবে।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা চিন্তিত হয়ে পড়লাম । আমার দল চিন্তিত হল। কারণ, লংমার্চ ঠেকানোর কাজ আমি কিন্তুএকা করিনি। আমার দলের সবাই গিয়েছিলাম। আমি কিন্তু প্রথমে এটা করতে চাইনি। কিন্তু যখন জানতে পারলাম এ কাজটি না করলে বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তখন সেখানে গেলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হল, চার ঘণ্টা টাইম সেভ কর। কেন? কারণ, বিরোধীদলীয় নেতা যেন নিরাপদে যেতে পারেন। চার ঘণ্টা পর আমাদের বলা হল রোড ক্লিয়ার কর। ওই সময়টা পর্যন্ত আপ-টু চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রাস্তা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছিল। আপনি বলতে পারেন আমি অজুহাত দাঁড় করাচ্ছি। ওকে ফাইন গণতান্ত্রিক কারণে এটি যদি আমার ভুল হয়ে থাকে তবে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু কোনটা বেশি অপরাধ? আমরা যেটা করেছি সেটা বেশি অপরাধ? ভুলতো হতেই পারে আমরা তো আর ফেরাস্তা না। নাকি ওইটা বেশি অপরাধ শান্তি চুক্তি হলে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে বলে প্রচার করা? কোনো মসজিদে আর আযান হবে না উলুধ্বনি হবে? মুসলমানদের ঈমান কি এতো দুর্বল? তারা কি ক্ষমা চেয়েছেন একবার?’
নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন কাজের জন্য বিতর্কিত এই নেতা বলেন, ‘লংমার্চের পর আমি যেটি করলাম সেটির কারণ গোলাম আযম। ওনার প্রতি আমার আলাদা সম্মান আছে। আওয়ামী লীগ সরকার থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে মামলা হল না। সে যাই হোক, তখন কবি শামসুর রাহমান, মান্নান স্যার, কবির চৌধুরী স্যার, আমার মামা হাসান ইমাম ও আবেদ খান সবাই নারায়ণগঞ্জে গেলেন। সব সিনিয়র নেতারা যাদের আমরা প্রগতিশীল হিসেবে চিনি। ওইখানে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করি আমরা। কবির চৌধুরী স্যার আজকে নাই। আমি তাকে সম্মান করি। ওনারা ওই অনুষ্ঠানে আমাকে বললেন শামীম একটা ঘোষণা দাও শুরু করি আসো আবার। তাদের ওই স্প্রিহা দেখে আমি ঘোষণা দিলাম নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে গোলাম আযম অবাঞ্চিত। ওটা ছিল আমার দ্বিতীয় কারণ। তার পর সংসদে কিছু ছবি দেখালাম। ওটা ছিল তৃতীয় কারণ। এ তিনটি জিনিস করাতে কিছু পত্রিকা আমার বিরুদ্ধে লাগলো। তারা আমাকে গড ফাদার এবং ফাদার’স অব দ্য গড ফাদার খেতাব দিল।’
শামীম বলেন, ‘‘আমি বুঝতে পারলাম না। ওনারা অনেক জ্ঞানী ও প-িত ব্যক্তি নিশ্চয়ই আমার ভুল হলে ওনারা ধরিয়ে দিতে পারেন। এক সম্পাদককে আমি বললাম ভাইয়া মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। শয়তান আর ফেরাস্তা ছাড়া সবার ভুল হতে পারে। আমি জিজ্ঞাস করলাম কী ভুল করেছি? সালামও করলাম তার পায়ে হাত দিয়ে। উনি বললেন, ‘আরে বোকা তুমি কোনো ভুল করোনি। তোমাদের বাসায় কত গিয়েছি, কত খেয়েছি।’ আমি পুলকিত হলাম। আনন্দিত হলাম। তাহলে সবকিছু ঠিক আছে তাহলে লিখছেন কেন? উনি বললেন, ‘আরে বোকা তোমার বোনের বিরুদ্ধে লিখছি।’ কিন্তু আমার বোনরা তো তখন বিদেশে থাকে? তখন বলল, ‘আরে তোমার এই বোন না। তোমার বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’ আমি অবাক কোথায় হিমালয় পর্বত আর কোথায় আমি একটা ঘাস। তিনি বললেন, ‘শেখ হাসিনার হাতগুলো কারা কারা তাদের ভেঙে দিচ্ছি।’
শামীম ওসমান চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কেউ যদি একটি অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। এই অনুষ্ঠান কিংবা বাইরে যেকোনো জায়গায়। প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি করব না। কারণ, আমাদের ঘরেও সন্তান বড় হচ্ছে। আমাদের মেয়েরা বড় হচ্ছে। তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
এক পর্যায়ে তিনি নিখোঁজ নারায়ণগঞ্জের যুবলীগ নেতা পারভেজের কথাও তুলে আনেন। বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি পারভেজকে নিয়ে গিয়ে থাকে তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু যেই দিন গাজীপুরে আওয়ামী লীগ হারছে তখন যুবলীগের একজন নেতাকে সরকারের সিদ্ধান্তে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। তাই তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের দোষের কারণে জনগণ আমাদের ফেলে দিতে পারে। কিন্তু তাই বলে প্রধানমন্ত্রীকে ফেলে রেখে কোথাও যাওয়া ঠিক হবে না।’ তিনি আওয়ামী লীগের সাংসদ ও মন্ত্রীদের সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রায় একশ সংসদ সদস্যের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাল যোগাযোগ নেই। তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এটা আওয়ামী লীগের জন্য সতর্কতা সংকেত। আমরা যদি মনে করি আওয়ামী লীগ দিয়েই পার পেয়ে যাব তাহলে ভুল হবে।’
dhakatimes24





0 comments:
Post a Comment