বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » প্রতীক্ষিত রায়ে গোলাম আযমের ৯০ বছর জেল

প্রতীক্ষিত রায়ে গোলাম আযমের ৯০ বছর জেল

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে করীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হচ্ছেন- বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা ৫ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬১টির সবগুলো অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে এ রায় প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল। এগুলো হলো ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উস্কানি, সংশ্লিষ্টতা এবং হত্যা ও নির্যাতন।

জামায়াত নেতা গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে তাকে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ হিসেবে সব অপরাধের দায় বর্তায় বলে বলা হয়েছে।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনীত পাঁচ ধরনের অভিযোগের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে ১০ বছর করে, তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে ২০ বছর করে ও পঞ্চম অভিযোগে ৩০ বছর মোট ৯০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাকিস্থানি বাহিনীর সঙ্গে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত ছয়টি, সহযোগিতা সংক্রান্ত তিনটি, উস্কানির ২৮টি, সম্পৃক্ততার ২৩টি এবং ব্যক্তিগতভাবে হত্যা-নির্যাতনের ১টিসহ মোট ৬১টি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘গোলাম আযম যে অপরাধ করেছেন তা মৃত্যুদণ্ডতুল্য। কিন্তু তার বয়স ৯১ বছর। এ বিবেচেনা করে তাকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো।’

এ রায়ের মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি মামলার বিচার শেষ হলো। এর আগে ঘোষিত চারটি রায়ের মধ্যে প্রথম ট্রাইব্যুনাল দিয়েছে একটি, বাকি তিনটি রায় দিয়েছে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল। এর তিনটিই বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

প্রথম ট্রাইব্যুনালে মোট ২৪৩ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ ৭৫ পৃষ্ঠা পাঠ করা হয়। সোমবার বেলা ১১টা ৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত রায় পাঠ করেন তিন বিচারপতি।

সকাল ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১০ মিনিটের মামলা ও রায় বিষয়ে সূচনা বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর।

এই রায়ের মধ্যদিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অধ্যাপক গোলাম আযমের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে (এখন বাংলাদেশ) শাসনকারী পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে দেশ স্বাধীনের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিচারের দাবি ওঠে।

আওয়ামী লীগ বর্তমান মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়। তারই আলোকে বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এ বিচার অনুষ্ঠানে সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহিত হয়।

অধ্যাপক গোলাম আযমের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সংক্ষুব্দরা আপিল দায়েরের আইনি সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে গত ১৭ এপ্রিল  প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখে ট্রাইব্যুনাল-১।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতের বিচারের লক্ষ্যে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর ৫ম কোনো আসামির মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

গত বছরের ১১ জানুয়ারি গোলাম আযমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়।

0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন