বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » কে হচ্ছেন খুলনা সিটির পরবর্তী নগরপিতা?

কে হচ্ছেন খুলনা সিটির পরবর্তী নগরপিতা?

: কথায় কথায় ‘হোয়ারের বাচ্চা’ আর কারণে অকারণে মানুষের গায়ে হাত তোলা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া ৫ বছরের মাথায় বছরে আয় কিভাবে ৪ গুণ হইলো?
এভাবেই প্রশ্ন করে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সাবের মেয়র এবং এবারের নির্বাচনের পুনরায় মেয়র প্রার্থী আবদুল খালেকের ওপর নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সদরে একটি বইয়ের দোকানের মালিক আনিসুর রহমান।

তার প্রশ্ন- শুনেছি গত ৫ বছরে খুলনার জন্য সবচেয়ে বড় অর্থায়ন ১ হাজার কোটি টাকা সরকার থেকে এসেছিল, কিন্তু এলাকার উন্নতি তো তেমন দেখি না। টাকাগুলো কোথায় গেলো?

এবার আসন্ন কেসিসি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তিনজন প্রার্থী। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন মহাজোটের সমর্থন নিয়ে লড়ছেন সদ্য বিদায়ী মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে লড়ছেন মনিরুজ্জামান মনি এবং জাতীয় পার্টির হয়ে লড়ছেন শফিকুল ইসলাম মধু।

তবে নির্বাচনী প্রচারণা এবং জনসমর্থনে তালুকদার আবদুল খালেক এবং মনিরুজ্জামান মনি এগিয়ে রয়েছে। এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে, সাবেক মেয়রের সময়কালে অনেক প্রতিশ্রুতি পূরণ অসমাপ্ত রেখেই ফের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে অস্বস্তি প্রকাশ করলেন তারা।

খুলনার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সাবেক মেয়র খুলনার অনেক উন্নতি করতে পারতেন। সেই প্রত্যাশাই এই জনপদের মানুষ করেছিল, কিন্তু শুধু শহরভিত্তিক কয়েকটি রাস্তাঘাট সংস্কার করেই অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি।

তারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প এসেছিল, কিন্তু সে আনুযায়ী সুন্দরবন ঘেষা এই জনপদের মানুষকে তেমন উন্নয়নমূলক কাজ দেখতে পারেননি তিনি।

তারা জানান, ২০০৮ সালে কেসিসি নির্বাচনের সময় তালুকদার আবদুল খালেকর যে পরিমাণ বাৎসরিক অর্থ আয় ছিল এখন তা ১৭১ গুণ বেড়েছে যা তার মোট সম্পত্তি ৪ গুণ। কিন্তু ৫ বছরে বৈধ পথে আয় করা প্রায় অসম্ভব।

তাদের অভিযোগ, এখনো খুলনায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। বিশেষকরে ড্রেন ব্যবস্থার অসুবিধার কথা তুলে ধরেন তারা। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অবকাঠামোগত এবং বিনোদনের যতেষ্ট উন্নয়ন সাধন হয়নি।

তালুকদার আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে অনেকক্ষেত্রে জোর করে কার্য আদায় করাসহ অকথ্য গালি-গালাজ এবং মারধর করার মতো ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ করেন তারা।

তার পরেও নিজস্ব কিছু গুণ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়াসহ মহাজোট সরকারের কর্তাব্যক্তিদের দ্বারা জনসংযোগে টানা ভোটই এবার তার পুঁজি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বন্ধ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করে। তালুকদার আবদুল খালেক নিজেও শ্রমিক রাজনীতি থেকে উঠে আসা মানুষ। তাছাড়া আওয়ামী লীগসহ বামপন্থী দলগুলোর একটা প্রভাব রয়েছে। এর ফলে শ্রমিকদের ভোট তালুকদার খলেকের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে ওয়ান-ইলেভেনের সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির প্রথমবারের মতো সরাসরি মেয়র প্রার্থী পদে লড়ছেন।

ওই সময় খুলনাবাসীর জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ হাতে নেওয়ার কারণে এখনো মানুষের মাঝে ঠাঁই করে নিতে পেরেছেন বলে সাধারণ মানুষের ধারণা।

এছাড়া কেসিসি এলাকায় বেশ সক্রিয় জামায়াত ইসলামের মেয়র পদে কোনো প্রার্থী না থাকায় এই দলটি মনিরুজ্জামানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এই বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ মনির সমর্থনে কাজ করে যাওয়ার বিষয়টি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপি সমর্থিত এবং ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরাম মননীত মেয়র প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছি এবং তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে ভোটারদের আহ্বান জানাচ্ছি।’

এছাড়া নির্বাচনী এলাকার হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরাও মনিরুজ্জামান মনির সঙ্গে একত্মতা পোষণ করেছেন। এই বিষয়ে হেফাজত ইসলামের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, তারা মনিরুজ্জামান মনিকে সমর্থন জানিয়েছেন।

তারা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী জনসংযোগে সরাসরি অংশ নিতে না পারলেও ভোট দেওয়ার সময় তা প্রকাশ করবো।’

এদিকে জোরেশোরেই জনসংযোগে অংশ নিলেও ভোটারদের নিজেদের ভাগে টানতে পারছেন না জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু। তার পরেও যুদ্ধ জয়ের মতো সাহস নিয়ে বড় দুই দলের বাঘা দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে লড়ার সাহস দেখিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

কেসিসি’র সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার নগরপিতার আসনটি দখল মোটেই সহজ হবে না। কঠিন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই মধ্য দিয়েই প্রার্থীদের দখল করতে হবে আসনটি।

বৃহস্পতিবার রাত ১২ পর্যন্ত প্রার্থীদের সর্বশেষ জনসংযোগের পর ১৫ জুন নির্বাচনের ফলাফলেই বলে কে হতে যাচ্ছেন এবারের কেসিসি নগরপিতা।

এবারের কেসিসি নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ২৪ হাজার ৪৭১ জন এবং মহিলা দুই লাখ ১৬ হাজার ৯৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৮টি এবং বুথ এক হাজার ৪২৮টি। এর মধ্যে ২০৮টি ভোট কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন