জানা যায়, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার
পদে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে না সরকার। শওকত আলীই ডেপুটি স্পিকার থাকুন
এমনটাই চাইছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত চার বছরে ডেপুটি স্পিকার
হিসেবে তিনি নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্বপালন করেছেন। তাই ওই পদের জন্য
তিনিই যোগ্য বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তবে শওকত আলীর ঘনিষ্ঠ
সূত্র এবং এলাকাবাসী জানিয়েছেন, শওকত আলী স্পিকার হতে আগ্রহী ছিলেন।
কিন্তু মঙ্গলবার শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার হিসেবে শপথ নেয়ার পর আর কোনো
পথ খোলা নেই। তাই ডেপুটি স্পিকারের পদেও থাকতে চান না তিনি।
সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে,
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শুরু থেকেই চাইছিলেন একজন নারী
স্পিকার হোক। তার সেই ইচ্ছের কথা তিনি দলের নীতি নির্ধাকরদেরও বলেছিলেন।
কিন্ত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট স্পিকার হিসেবে এর আগেও দায়িত্ব
পালন করেছিলেন। এছাড়া তার মতো একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদের বিকল্প পাওয়াও
সম্ভব ছিল না। তাই তখন তাকেই স্পিকার করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আবদুল হামিদ
অ্যাডভোকেট রাষ্ট্রপতি হওয়ায় পর প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছেপূরণ করা সম্ভব
হয়েছে। তাছাড়া শিরীন শারমিন চৌধুরী মেধাবী একজন রাজনীতিবিদ। কম বয়সে
শিক্ষা ও কর্মজীবনের ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। তাই স্পিকার হিসেবে
তাকেই যোগ্য মনে করেছেন সভানেত্রী।
আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা
যায়, আগে থেকেই স্পিকার হতে না পারলে ডেপুটি স্পিকারের পদ ছেড়ে দেয়ার
কথা বলেছিলেন শওকত আলী। বিষয়টি তিনি তার ঘনিষ্ঠদের কাছেও বলেছিলেন। জানা
গেছে, শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই
মনক্ষুণ্ন হয়েছেন শওকত আলী। এখন তিনি ডেপুটি স্পিকার পদ ছেড়ে দিতে চান।
তবে রাষ্ট্রের স্বতন্ত্র কোনো দায়িত্ব দেয়া হলে তাতে তার আপত্তি নেই বলে
তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন।
সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে,
সরকার এখনও ডেপুটি স্পিকারের পদে পরিবর্তনের কথা ভাবছে না। কারণ ডেপুটি
স্পিকার হিসেবে শওকত আলী অনেকটা নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন
করছেন। তাছাড়া তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই
তুলনামূলকভাবে তিনিই ওই পদের জন্য যোগ্য বলে দল মনে করছে। তবে শওকত আলী এ
পদে থাকতে তার অনীহার কথা রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছালে
তখন বিকল্প কিছু চিন্তা করা হবে।
এদিকে সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা আবদুর
রাজ্জাক মারা যাবার পর শরীয়তপুরের লোকজন শওকত আলীকেই তাদের অভিভাবক হিসাবে
গ্রহণ করেছে। স্পিকার পদ না দেওয়াতে শওকত আলীর আসনের লোকজন অনেকটা হতাশ।
তারাও চাপ সৃষ্টি করছেন তাকে ডেপুটি স্পিকার পদ ছাড়ার জন্য।




0 comments:
Post a Comment