বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » হেফাজতের ঢাকা অবরোধ চলছে : আসতে পারে কঠোর ঘোষণা

হেফাজতের ঢাকা অবরোধ চলছে : আসতে পারে কঠোর ঘোষণা


nছয় প্রবেশদ্বারে অবস্থান ; বিকেলে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশ
হেফাজতে ইসলামের অবরোধে অচল হয়ে হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। রাজধানীর ছয়টি প্রবেশদ্বারসহ ছোট-বড় সব প্রবেশপথে অবস্থান নিয়েছেন লাখ লাখ তৌহিদি মানুষ। আজ ফজরের সময় থেকে রাস্তায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে অবরোধ শুরু হয়েছে। লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ অবরোধ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। অসংখ্য গাড়িবহর গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখে রওনা দিয়েছে। ভোর হওয়ার আগেই এসব গাড়ি পৌঁছে যায়। হাতে জায়নামাজ, তসবিহ ও শুকনো খাবার সাথে নিয়ে এসেছে কর্মীরা।
হেফাজতের আমির আল্লামা শফীর পক্ষ থেকে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাজধানী অবরুদ্ধ করে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা। বেলা ৩টায় বায়তুল মোকাররম উত্তরগেটের সমাবেশ থেকে আল্লামা শফী পরবর্তী করণীয় ঘোষণা করবেন। দাবি আদায়ে যেকোনো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আভাস দিয়েছেন।
গতকাল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী যেকোনো মূল্যে অবরোধ কর্মসূচি সফল করার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, হেফাজতের ১৩ দফা দাবি না মেনে অন্য পথে এগোলে তার জন্য সরকারকে চরম খেসারত দিতে হবে। তিনি হেফাজতের দাবির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর শুক্রবার দেয়া বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর, অন্তঃসারশূন্য এবং হেফাজতকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয় বলে মন্তব্য করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করার আহবান প্রত্যাখ্যান করে অবরোধ বহাল রাখা এবং সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ দিকে অবরোধে আসতে পথে পথে বাধা এবং রাজধানীতে পৌঁছার পর গতকাল সকাল থেকেই হেফাজতকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন হেফাজত নেতারা।
সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের নীতি ফিরিয়ে আনা, ধর্ম অবমাননাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে আইন প্রণয়ন, শাহবাগের আন্দোলনের সাথে জড়িতসহ সব নাস্তিক ব্লগারের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবি আদায়ে হেফাজতে ইসলাম ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই দাবিতে ঢাকায় লংমার্চ এবং মহাসমাবেশ করে। মহাসমাবেশ থেকেই এই অবরোধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দাবি মানার জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েই অবরোধ করার ঘোষণা দেয় হয়। কিন্তু সরকার দাবি পূরণে কোনো সাড়া দেয়নি। বরং প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের দাবি খণ্ডিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি দাবি পূরণের কোনো আশ্বাস না দিয়েই হেফাজতে ইসলামকে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে হেফাজতে ইসলাম দাবি আদায় ছাড়া কোনোভাবেই রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ফজরের সময় থেকে অবস্থান :
হেফাজত সূত্র জানিয়েছে, আজ মধ্যরাতের পর থেকে রাজধানীর নির্ধারিত পয়েন্টগুলোয় ধর্মপ্রাণ মানুষ বসে পড়বেন। শুক্রবার থেকে গত রাত পর্যন্ত সারা দেশ থেকে লাখ লাখ লোক ঢাকা ও আশপাশে এসে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন এলাকার কওমি মাদরাসা, মসজিদ ও আত্মীয়স্বজনের বাসায় অবস্থান নিয়েছেন। ভোর রাতেই সবাই বের হয়ে আসবেন।

হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর প্রচার সেলের প্রধান মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল গত রাতে জানিয়েছেন, হেফাজত অবরোধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। শেষ রাতে লাখ লাখ লোক রাস্তায় শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেবেন। গত বারের লংমার্চের চেয়ে অনেক বেশি লোক অবরোধে অংশ নিচ্ছে বলে তিনি জানান।
গাজীপুর থেকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা খেলাফতে ইসলামীর মহাসচিব মাওলানা ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহপুর টঙ্গী ব্রিজসহ পুরো এলাকা লাখ লাখ লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই অন্তত দুই লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ আশপাশ বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন বলে তিনি জানান।
হেফাজতে ইসলামের আমির বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শফী ও মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা শুক্রবার থেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন।
৬টি প্রবেশপথে অবস্থান করে অবরোধ :
হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর প্রধান ছয়টি প্রবেশপথে অবস্থান নেবেন হেফাজতকর্মীরা। এ ছাড়া অন্যান্য পয়েন্টেও লোকসমাগম হবে। রাজধানীর ভেতরে বায়তুল মোকাররম উত্তরগেটে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বেলা ৩টায় সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। যে ছয়টি পয়েন্টে অবস্থান নেয়া হবে সেগুলো হচ্ছে কাঁচপুর ব্রিজ থেকে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ব্রিজ থেকে যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা ব্রিজের আগে ও পরে, বাবুবাজার ব্রিজ, আমিনবাজার ও টঙ্গী আব্দুল্লাহপুর।

অভ্যর্থনা আপ্যায়ন :
সারা দেশ থেকে আগত মানুষকে ৬ এপ্রিলের লংমার্চের মতো অভ্যর্থনা জানানো এবং আপ্যায়নের জন্য রাজধানীবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। হেফাজতের নিজস্ব প্রস্তুতিও রয়েছে। প্রস্তুত থাকছে বিশাল স্বেচ্চাসেবক বাহিনী ও মেডিক্যাল টিম। লংমার্চের মধ্যে ড্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা মেডিক্যাল টিম পাঠাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাধা-প্রতিবন্ধকতা গ্রেফতার :
অবরোধ কর্মসূচি বানচালে সরকারের তরফ থেকে বাধা দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে। রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, লংমার্চের মতো অবরোধ কর্মসূচিতে গাড়ি ভাড়া না দেয়ার জন্য পরিবহন মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। ধর্মঘট আহ্বান করানো হয়েছে। নৌযান না চালানোরও নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি দলের ক্যাডাররা নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে। শনিবার সকালে রাজধানীতে আগত কয়েক শ’ লোককে আটক করার অভিযোগ করেছেন নেতারা। তবে হেজাফত নেতারা বলেছেন, কোনো ভয়ভীতি অবরোধ কর্মসূচিকে ঠেকাতে পারবে না। যেকোনো মূল্যে অবরোধ সফল করা হবে।

অবরোধ কখন শেষ হচ্ছে? :
অবরোধ কর্মসূচি ফজরের সময় থেকে শুরুর কথা হেফাজতের পক্ষ থেকে জানানো হলেও কখন শেষ হবে তা জানানো হয়নি। গতকাল এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী জানান, হেফাজতের আমির আল্লামা শফী আজ অবরোধ কখন শেষ হবে তার ঘোষণা দেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৩ দফা দাবির পক্ষে সারা দেশে ব্যাপক জনমত গড়ে উঠেছে। এ জন্য হেফাজত নেতারা মনে করছেন তাদের দাবি সরকারের পক্ষে উপেক্ষা করা সম্ভবপর হবে না। এ জন্য হেফাজতে ইসলাম দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করার মতো পরিস্থিতির চিন্তা করছে। সেই ক্ষেত্রে অবরোধ অবস্থানকে দীর্ঘায়িত করে আলটিমেটাম দেয়া হতে পারে। পরিস্থিতি বুঝে আজ বিকেলে এমন ঘোষণা আসতে পারে।

অবরোধের আওতামুক্ত :
মানবিক দিক বিবেচনায় সাভার ট্র্যাজেডির সাথে সম্পৃক্ত লাশবাহী গাড়ি, সংবাদপত্র, অ্যাম্বুলেন্স, উদ্ধারতৎপরতায় নিয়োজিত সব ধরনের যানবাহন, দেশী-বিদেশী পরিদর্শকদের গাড়িসহ এ জাতীয় যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে হেফাজতের নেতারা জানিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের স্টিকার ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে জড়িত ব্লগাররা মহানবী সা:-কে অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় কটূক্তি করার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই আলেমসমাজ ুব্ধ হয়ে ওঠে। গত ৯ মার্চ হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে আয়োজিত শীর্ষ উলামাদের এক সম্মেলনে নাস্তিক ব্লগারদের গ্রেফতার ও শাস্তিদাবিসহ ১৩ দফা দাবি পেশ করা হয়। এতে সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসকে মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন, ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে সংসদে আইন পাস, রাসূল সা:-এর অবমাননাকারী শাহবাগের আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত সব নাস্তিককে গ্রেফতার ও শাস্তি, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বন্ধ করা, নারীর কর্মস্থলসহ সর্বত্র নিরাপত্তা বিধান, নারী ও শিক্ষানীতি সংশোধনের দাবি রয়েছে। হেফাজতে ইসলাম এসব দাবিতে ৬ এপ্রিল ঢাকায় লংমার্চ করে। এতে বাধা দেয়া হলেও ঢাকার মহাসমাবেশে লাখ লাখ লোক অংশ নেন। সেই সমাবেশ থেকেই ৫ মে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল।

1 comments:

  1. Anonymous18:55

    Mistakes committed by the Hefazat party-
    1.Movement of a big number
    2.Mixing of the miscreants looking like ordinary members of the Hefazat
    3. The miscreants responsible for doing bad activities in The Dhaka City-
    Taking arms and ammunition and other lethal weapons, and fighting with the law enforcement authority, exchange of bullets, setting fire on the private properties, looting of various shops, and govt.properties- Dhaka Stadium properties etc.
    3. The police, RAB and BGF totally supported the Chatra League and Chatra Dal and the fake members of the Hafazat.
    4. Burning of the Holy Quran by the so-called fake members of Hafazat introduced in the Mainstream.
    5. The Awamis and its associates planned these activities a long time ago. They did these activities in cool and cold brain.
    6. The Original plan was fabricated by the Indian agents, RAW stationed in Dhaka and other parts of Bangladesh.
    7. There are agents of the Awamis working between them and the Hafazat.
    8. The activities of the Jonoter Moncho members should be counted. They were ready to stab the members of Hafazat.
    9. The Nastik members are very active to take revenge against the Hafazat.
    10. The Hefazat members made several mistakes- giving challenge to the Awamis, big-bigheartedness of the Hafazat.
    11. All the media - TV, Press and so-called educated journalists (nastik) supported wholeheartedly the Awamis and its associates.
    12. Local administrative (awami) authorities helped the awamis and its associates.

    ReplyDelete

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন