ঢাকা: নির্দলীয় নয়, সর্বদলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
তারা বলেছেন, সংলাপ বলেন আর নির্বাচন তা কেবল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে পুনর্বহাল করলেই হবে।
শনিবার বিকেলে মতিঝিলে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এসব কথা বলে বিরোধী জোটের নেত্রী খালেদা জিয়াকে সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিতে আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আহ্বান নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের একজন নেতা জেলে থাকা পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।’
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই গণতন্ত্র হুমকিতে পড়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার গণতন্ত্র চালু করবে।’
তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সরকার সংলাপের কথা বলে নাটক তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা সরকারের কোনো পাতানো জালে পা দেব না।’
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, ‘যারা দেশপ্রেমিক মানুষদের সরকারের নির্দেশে গুলি করে মেরেছে। তাদের বিচার বাংলার মাটিতে এক দিন হবেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের সমাবেশ স্থগিত করার কথা বলেছেন? বিএনপির জনসমর্থন দেখার ভয়ে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানিয়েছেন। আমি উনাকে বলব জনগণ আপনাকে মাইনাস করে দিয়েছে। আপনার আর রক্ষা নেই।’
স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি আলোচনার কথা বলেছেন। আলোচনার জন্য পরিবেশ প্রয়োজন। নেতাদের জেলে রেখে কোনো আলোচনা হবে না। নির্দলীয় সরকারের নির্বাচনের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আলোচনার কথা বললে হয় না, আলোচনার জন্য পরিবেশ দরকার। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব কমাতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়ে এক কদম এগিয়েছেন। এটির সফলতা পেতে হলে তাকে আরো দুই কদম এগোতে হবে বলেও জানান তিনি।
মওদদু আরো বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে গত চার বছরে যত মামলা করেছে সরকার, তা প্রত্যাহার করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ সবাইকে মুক্তি দিতে হবে। মিছিল-মিটিং বাধা দিতে পারবেন না। তবেই আলোচনার জন্য একটা পরিবেশ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘গতকাল সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যে সর্বদলীয় অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন, তা আমরা প্রত্যাখ্যান করি। আপনাদের ঘোষণা দিতে হবে আগামী নির্বাচন নিদর্লীয় সরকারের অধীনে হবে। তবেই আমাদের নেত্রী প্রস্তাবে সাড়া দিবে।’
মওদুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি ১/১১’র পুনরায় চান না। তাকে বলতে চাই ১/১১ সরকার কাকে ক্ষমতায় এনেছিল। আপনারা কেন তাদের বিচার করেননি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জনগণ এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। মাননীয় নেত্রী আপনি গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিন। জনগণ আপনার সঙ্গে আছে।’




0 comments:
Post a Comment