ঢাকা: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা একেএম ইউসুফের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারক এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ’৭২ এ একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে তিনি সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পান। এখন তার বিরুদ্ধে ১৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে যা ‘৭২ এর সাথে মিল নেই।
তিনি বলেন, একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট এ অভিযোগ আনা হয়েছে তিনটি কারণে- ১. পাকিস্তানকে সমর্থন, ২. পাকিস্তান মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং ৩. জামায়াতে ইসলামির জেষ্ঠ্য নায়েবে আমির হওয়ায়।
সাইফুর রহমান বলেন, ২০১০ সালে তার নামে মামলা করলে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এছাড়া যারা তার ব্যপারে মামলা করেছিল তারাই ওই সময় আদালতে এসে এপিডেফিড করে তার নাম তুলে নেয় এবং ইউসুফ সাহেব এ ধরনের কোনো অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলেও সাক্ষ্য দিয়েছে।
তিনি বলেন, একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এ মামলা দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ।
রবিবার দুপুরে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাওলানা ইউসুফকে তার ধানমন্ডির বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
ওই দিন বিকেলে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সোমবার তার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়। আজ এই বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য ছিল।
রাজধানীর ধানমন্ডির ১০/এ রোডের ৩৭/এ নম্বর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন মাওলানা ইউসুফ। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কিছুদিন যাবৎ শয্যাশায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ৮ মে রাষ্ট্রপক্ষ মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানান।
প্রসঙ্গত, ’৭১ সালে মাওলানা ইউসুফ পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক মন্ত্রী পরিষদে রাজস্ব, পূর্ত, বিদ্যুৎ ও সেচ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।




0 comments:
Post a Comment