ঢাকা: সভা-সমাবেশে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজধানীর চারটি স্পটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইনকে রিমান্ডে নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং তার মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকালে এসব মিছিল করে ছাত্রশিবির।
কেন্দ্রীয় সভাপতিকে রিমান্ডে নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং তার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৮টা বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব শাখা।
শাখা সভাপতি মো. রাশেদুল হাসান রানার নেতৃত্বে খিলগাঁ ফ্লাইওবারের নিচে থেকে মিছিলটি শুরু হয়।
একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা। মিছিলটি শাখা সভাপতি শাহীন আহম্মেদের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ৯ টায় রাজধানীর দয়াগঞ্জ এলাকায় থেকে শুরু হয় দয়াগঞ্জ মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
কেন্দ্রীয় সভাপতিকে নির্যাতনের প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে মিছিল করে ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ। সকাল ৯ টায় মিছিলটি নিউ মার্কেট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ঢাকা কলেজ সভাপতি সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি শাহ মাহফুজুল হক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় পুলিশ মিছিলে বাধা দিয়ে দুজনকে আটক করার চেষ্টা করলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতিসহ শিবিরের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হন।
একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী উত্তর। বিক্ষোভ মিছিলটি শাখা সভাপতি রাকিব মাহমুদের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ৯ টায় রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচ থেকে শুরু হয়ে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে শিবিরের সাথী তরিকুল ইসলাম ও মাহমুদসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
প্রসঙ্গত, রাজধানীতে একমাসের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর সোমবার প্রথম মিছিল বের করে বাম মোর্চা ও বাসদ। এতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। আজ মঙ্গলবার মিছিল বের করল ইসলামী ছাত্রশিবির।
অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আশু রোগমুক্তি কামনায় দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া-মাহফিল ভণ্ডুল করে দেয় পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে কার্যালয়ের নিচ তলায় জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংসদ-জাসাস এই দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করে।
প্রসঙ্গত, সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি গত শনিবার থেকে প্রয়োগ হলেও প্রকাশিত হয় রবিবার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীরের বক্তব্যে। শনিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেশ কয়েকটি সংগঠনকে কোনো কর্মসূচি করতে দেয়নি পুলিশ।
এদিকে, এক মাস সব ধরনের সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির পর সরকারে ও বাইরে তুমুল বিতর্কের জন্ম হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কাজের সমন্বয় নিয়ে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা দলের কোনো ফোরামেই কখনো আলোচনা হয়নি।
অবশ্য, এই ঘোষণার দিন রাতেই আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের লিখিত ব্যাখ্যা দেন। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিবৃততে সব ধরনের সভা-সমাবেশের পরিবর্তে সাধারণ সভা-সমাবেশে সরকারের আপত্তি নেই বলে জানানো হয়।




The members of Jamat are courageous. They are doing rightful acts at this time. We must congratulate them for this act of courage and bravery. They did right act at the right time. Long live Jamat. Free this country from the tyrant awamis.
ReplyDelete