বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » আত্মরক্ষার আন্দোলনে বিএনপি

আত্মরক্ষার আন্দোলনে বিএনপি


ঢাকা: আজ ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩২তম শাহাদাতবার্ষিকী। দলটি এমন এক সময়ে এই কর্মসূচি পালন করছে, যখন দেশে সভা-সমাবেশে সরকারি নিষেধাজ্ঞা।

বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নেতা জেলে। যা দু-একজন বাইরে আছেন, তারা দুই কার্যালয়ের বাইরে মুভ করতে পারছেন না। সীমিতসংখ্যক কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সভা-সমাবেশ করতে না পারায় হরতাল দিলেও তারা নিজেরাই মাঠে নামতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই অবস্থা থেকে বিএনপি আর বড় ধরনের কোনো আন্দোলনে আপাতত যাচ্ছে না। অনেকটা কৌশলী হয়ে যতটুকু কর্মসূচি পালন না করলেই না, তা করবে। শক্তি সঞ্চয়ের জন্য আত্মরক্ষা বা রক্ষণাত্মক আন্দোলনের এই নির্দেশনা হাই-কমান্ড থেকেই দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি ও তাদের জোট সূত্র জানায়, আগামী রমজান পর্যন্ত বিরোধী জোট এভাবেই চলবে। তবে রোজা শুরুর আগে আরো বেশ ক’দিন হরতাল কর্মসূচি দেওয়া হবে। সরকারি বিধি-নিষেধের এক মাস পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এই সময়সীমা শেষে কর্মসূচি পালনের সুযোগ আসলে আরেকটু আন্দোলন জোরদার করা হবে।

তবে মূল টার্গেট ঈদের পরে। তখন সরকারের প্রায় শেষ সময়। তারেক রহমানও সে সময়ে ফেরার আভাস দিয়েছেন। আর সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে ওই সময়কে বেছে নেওয়ার জন্য বিএনপির হাই-কমান্ড থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশ মোতাবেক কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আর তারা সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের। এই অল্প কয়েক মাসে গ্রেপ্তার এড়িয়ে কর্মসূচি পালনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তৃণমূলে যে ক্ষোভ বিদ্যমান, তা রমজানের মধ্যেই মিটিয়ে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ইতোমধ্যে চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার প্রভাব দেখা গেছে। একজোট হয়ে সবাই দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে রয়েছেন। রাজশাহীতে দীর্ঘবিরোধ মিটিয়ে মিজানুর রহমান মিনু ও নাদিম মোস্তফা একমঞ্চে বুলবুলের জন্য কাজ করছেন।

সিলেটে প্রথমে শক্ত হয়ে থাকলেও ঢাকায় ডাকার পর নরম হন অন্যরা। আরিফুল হক চৌধুরীকে সবাই মিলে সমর্থন দেওয়ার সঙ্গে মাঠেও কাজ করার অঙ্গিকার করেছেন। জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের হিসাব-নিকাষেই এই সমঝোতা হয়েছে। একই অবস্থা খুলনা ও বরিশাল সিটিতেও।

এর বাইরে যুব, স্বেচ্ছাসেবক, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে তাদের সব ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এসব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় থেকে শুরু করে বেশিরভাগ শাখায় মূল দ্বন্দ্ব সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে। তাদের ঘিরে আলাদা দুটি বলয় কাজ করে। দলীয় চেয়ারপারসন বলয় ভেঙে এক করতে সভাপতি ও সম্পাদকের প্রতি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

খালেদা জিয়া নিজে ঢাকা মহানগরসহ বিভাগীয় মহানগরের ঝামেলা মেটাতে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব কমিটির মধ্যে সবার আগে আন্দোলন বাস্তবায়নের মূল ভূমিকা পালনকারী ঢাকা মহানগরকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

আর বিরোধী জোটকে নাড়া দিতে খালেদা জিয়া নিজে এবং খন্দকার মোশাররফসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা এই সময়সীমার মধ্যে আন্দোলন ও নির্বাচনভিত্তিক জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দল ও জোটের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল- সবখানে খালেদা জিয়ার একটিই নির্দেশনা এখন শক্তি ক্ষয় করা যাবে না। কোনোভাবেই অযথা গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়া যাবে না। কৌশলে রাজপথে থেকে আন্দোলন করতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘সভাপতি ও সম্পাদক সবাইকে গ্রেপ্তার এড়িয়ে হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে মাঠে থাকতে বলেছেন।’

তিনি জানান, ‘এভাবে রমজান পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরতে বলেছেন হাই-কমান্ড। এর মধ্যে তারেক ভাই দেশে আসবেন। তখন পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা বলেন, ‘আমরা তাকিয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ হওয়ার দিকে। পুলিশের নিরপেক্ষ অবস্থান স্পষ্ট হলেই মাঠে নামবে বিএনপি-জামায়াতের বিরোধী জোট। আশা করি, রমজানের মধ্যেই প্রশাসন নিরপেক্ষ হয়ে যাবে।’

নাম প্রকাশে ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় নেতা দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশনার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ছাত্রদল সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। শুধু চেয়ারপারসনের ঘোষণার অপেক্ষায় আছে।’

দলের ‘কৌশল’ হিসেবে রাজপথে এখন ছাত্রদল আত্মগোপনে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে ২৭ মে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আন্দোলনের নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

বৈঠক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া জোট নেতাদের আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৈঠকে জোট নেতারাও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের রাজপথে নামার নির্দেশ দিতে খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেন। এতে বিরোধী নেত্রীও সায় দেন। তবে আরেকটু সময় জোটের শরিকদের তিনি ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান।

বৈঠকে অংশ নেওয়া আঠারো দলীয় জোটের শরিক দলের এক নেতা বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনের আগে আপাতত নতুন কোনো কর্মসূচি নেই। রমজান শুরুর আগে কৌশলের অংশ হিসেবে দু-একটি হরতাল-অবরোধ দেওয়া হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমরা আন্দোলনের মধ্যেই আছি। সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের নতুন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন দলের নীতিনির্ধারকরা। অপেক্ষা করুন আরো কঠোর কর্মসূচি আসবে। তবে এখন সব নেতাকর্মীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সামনে রমজান। জনগণের দুর্ভোগ হয় এমন কর্মসূচি বিএনপি দিবে না। তবে সরকার বাধ্য করলে ভিন্ন কথা।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের পরে বিরোধী জোট কর্মসূচি ঘোষণা করবে এবং সরকারের পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরবে না।’

তবে সরকার পতনে কি ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে তা মাহবুবুর রহমান এখনই বলতে রাজি হননি।

0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন