এ
ছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠারও অপেক্ষা করা হচ্ছে। এ
ক্ষেত্রে সরকারের দায়ের করা মামলা এবং কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের
হয়রানির বিষয়টিকে সামনে রাখা হচ্ছে। হেফাজতের নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
হেফাজতের
নেতারা জানিয়েছেন, সংগঠনের বিভিন্নপর্যায়ের নেতারা তৃণমূলের দাবির
পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় প্রতিদিনই হাটহাজারী গিয়ে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ
আহমদ শফীর সাথে দেখা করে সাংগঠনিক বিষয় এবং আন্দোলন প্রশ্নে তৃণমূলের
চিন্তাভাবনার বিষয় তার কাছে তুলে ধরছেন। আল্লামা শফী কওমি মাদরাসার
বার্ষিক পরীক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আপাতত বড় কর্মসূচি না দেয়ার বিষয়টি
তাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি সংগঠনকে আরো সুসংগঠিত করার পরামর্শ
দিচ্ছেন।
আগামী
১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া কওমি মাদরাসার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই
নতুন কর্মসূচি দেয়ার চিন্তার কথা জানাচ্ছেন তিনি সাক্ষাৎকারীদের।
জানা
গেছে, মাঠপর্যায়ে আন্দোলনের দাবিসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে
সিলেটের সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনুর পাশা, হেফাজত নেতা অধ্যাপক আবদুল করিম,
হেফাজতের আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা থেকে আল্লামা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ,
মাওলানা জাফরুল্লাহ খান সম্প্রতি আল্লামা শফীর সাথে দেখা করেন। মাওলানা নূর
হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইনসহ ঢাকা
মহানগরীর নেতারাও অতি সম্প্রতি আল্লামা শফীর সাথে দেখা করেছেন।
এ
ছাড়া মুফতি ইজহারুল ইসলামসহ হেফাজতের চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতারা প্রায়ই
আল্লামা শফীর সাথে দেখা করছেন এবং ফোনে যোগাযোগ করছেন। এসব নেতা
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি আল্লামা শফীর কাছে তুলে ধরছেন। শাপলা চত্বরের
ঘটনায় হতাহতের পরিসংখ্যান, মামলা পরিস্থিতি, কওমি মাদরাসার ছাত্রদের
নানাভাবে হয়রানি এবং কওমি মাদরাসা বোর্ডের আসন্ন পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো
নিয়েই সাক্ষাতে বেশি আলোচনা হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ের নেতারা আন্দোলন
কর্মসূচি না থাকায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশার বিষয়টিও সামনে আনছেন। এ
ক্ষেত্রে তারা আন্দোলন কর্মসূচিতে আগের মতোই পাশে থাকার কথা হেফাজতের
আমিরকে আশ্বস্ত করছেন।
সূত্র
মতে, হেফাজত নেতাদের পাাশাপাশি সরকারি দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আল্লামা
শফীর সাথে নানাভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ৫ মের ঘটনার পর জাতীয় পার্টির নেতা
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি দুইবার সাক্ষাৎ করেন। পুলিশের একজন
অতিরিক্ত ডিআইজি সর্বশেষ আল্লামা শফীর সাথে ৫ ঘণ্টারও বেশি বৈঠক করেছেন।
তার সাথে ঢাকার হেফাজতের কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন। তার আগে স্থানীয়
আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের বিভিন্নপর্যায়ের কর্মকর্তারা তার সাথে দেখা করেন।
সূত্র
মতে, আল্লামা শফীকে আন্দোলন কর্মসূচিতে না যাওয়ার ব্যাপারে নানাভাবে
বোঝানো হচ্ছে। অরাজনৈতিক সংগঠনটির আমিরসহ নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল
দিয়ে করণীয় নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে অনভিজ্ঞ
হেফাজতের শীর্ষ নেতারা নিজেরা পরিস্থিতির শিকার এমন মনোভাব ব্যক্ত করছেন।
তবে ১৩ দফা দাবি আদায়কেই তারা এখনো প্রধান বিষয় হিসেবে সামনে রেখে
কর্মপন্থা ঠিক করছেন।
এ
ব্যাপারে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনুর পাশার কাছে
জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সিলেট থেকে একটি প্রতিনিধিদল গিয়ে
তৃণমূলপর্যায়ে নেতাকর্মীদের চিন্তাভাবনা এবং সার্বিক অবস্থা নিয়ে আল্লামা
শফীর সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার পরামর্শ
দিয়ে বলেছেন, কওমি মাদরাসার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলেই কর্মসূচি দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ১৩ দফা আদায়ের আন্দোলনকে আরো জোরালো করে দাবি আদায় না হওয়া
পর্যন্ত হেফাজত পিছপা হবে না বলে আল্লামা শফী আমাদের দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার তো চাইবে আমাদের আন্দোলন থেকে বিরত
রাখতে। মামলা দিয়ে বর্তমানে কিছু বেকায়দায়ও রেখেছে। কিন্তু গণদাবির
সামনে এসব বাধা কোনো কাজে আসবে না।
হবিগঞ্জ
জেলা হেফাজতের সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল বাসিদ আজাদের নেতৃত্বে জেলা
হেফাজতের একটি প্রতিনিধিদল গত শুক্রবার আল্লামা শফীর সাথে দেখা করেন।
প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক আবদুল করিম বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ের
বিষয় আমিরকে অবহিত করে জানিয়েছি, হেফাজতের যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে
আগের মতোই সবাই ঝাঁপিয়ে পড়বে। তিনি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে
পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হচ্ছে বলে আমাদের জানিয়েছেন।
হেফাজতের
ঢাকা মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী এ ব্যাপারে নয়া
দিগন্তকে বলেন, আমরা আল্লামা শফীর সাথে দেখা করে সার্বিক বিষয়ে কথা বলেছি।
কেন্দ্রীয় নেতারা আলাপ-আলোচনা করে করণীয় ঠিক করছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল
থেকে আন্দোলনের দাবি থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে কওমি মাদরাসার
পরীক্ষার কারণে এখন দোয়া মাহফিল ছাড়া আর কোনো কর্মসূচি থাকছে না। জেলা ও
উপজেলাপর্যায়ে সংগঠনকে আরো সুসংগঠিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে
নেতাকর্মীদের মধ্যে আন্দোলন প্রশ্নে হতাশা আছে কি নাÑ জানতে চাইলে রব
ইউসুফী বলেন, হতাশার কিছু নেই, আমরা পরিস্থিতির শিকার। পরিস্থিতি উত্তরণে
যা যা করণীয় তা করা হচ্ছে। যেহেতু হেফাজত কোনো রাজনৈতিক দল নয়, সেহেতু
আমাদের সব কিছু মাথায় রেখে কর্মসূচি দিতে হবে।
সরকারের
সাথে সমঝোতার কোনো বিষয় আছে কি নাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমঝোতার কিছু
নেই। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেও আলোচনা করা হয়েছে এখনো হচ্ছে।
সরকার যদি আমাদের নতুন করে আন্দোলন শুরুর আগে ১৩ দফা দাবি পূরণ করে ফেলে সে
ক্ষেত্রে আন্দোলনের আর প্রয়োজন পড়বে না। তিনি বলেন, ১৩ দফা ঈমানি দাবি।
এই দাবির কারণে আমাদের রক্ত ঝরেছে। আমরা আন্দোলন থেকে পিছপা হয়ে আলেমদের
রক্তের সাথে বেঈমানি করতে পারব না।
কেন্দ্রীয়
নেতাদের অনেকে আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা পরিস্থিতির কারণে।
তিনি জানান, ৫ মের ঘটনার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের কাছ এগিয়ে চলেছে।




0 comments:
Post a Comment