বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » দেশে বেকারের সংখ্যা ৫০ লাখ বাড়তে পারে

দেশে বেকারের সংখ্যা ৫০ লাখ বাড়তে পারে

ঢাকা: চলতি অর্থবছরে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা, কূটনৈতিক ব্যর্থতা আর দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের অদক্ষতা ও অকর্মন্যতায় বেকারের সংখ্যা ৫০ লাখ বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে কেবল এই খাতেই চাকরি হারাবে ৩২ লাখ নারী শ্রমিক।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগের হার হওয়া উচিত জিডিপির ৩০-৩২ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে দেশে বিনিয়োগের হার মাত্র ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

‘এর মধ্যে আবার গত চার বছরে কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অদক্ষতায় বৈদেশিক বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে নতুন করে তেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি’ যোগ করেন তিনি।

বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে কর্মসংস্থান কমবে প্রায় আট লাখ লোকের।

‘এছাড়া প্রতিবছর দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে ১৩ লাখ। এ বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য সরকারি ও বৈদেশিক উদ্যোগে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে জাতীয় অর্থনীতিতে ধস নামবে’ আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ দিকে পোশাক শিল্পের মালিকরা জানান, গত ৩০ বছরে বস্ত্রখাত এমন ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়নি। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ অবস্থায় লাগাতার হরতাল ও চলমান সঙ্কটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তারা বলেন, পোশাক শিল্পে চলতি বছরের মার্চে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ শতাংশ। এই সময়ে যে রপ্তানি হয়েছে তা গত বছরের জুন-জুলাই এর অর্ডার অনুযায়ী। কিন্তু জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি থেকে অন্য চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে আর কোনো নতুন অর্ডার পাওয়া যাবে না।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে। অথচ মজুরি ১০ শতাংশ, বিদ্যুৎ খরচ ৩৫ শতাংশ, পরিবহন ব্যয় ১২ শতাংশ যা সাম্প্রতিক হরতালের কারণে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, ব্যাংক সুদ ৪০ শতাংশ এবং সোর্স টেক্স বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, জানুয়ারি ২০১২ সালে ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ দশমিক ৪০ টাকা। যা বর্তমানে ৭৭ দশমিক ২০ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম আরটিএনএন-কে বলেন, ‘স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে আমরা যখন সামনে এগোনোর চেষ্টা করছি, ঠিক তখন আমাদের সামনে হাজির হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা নামক এক বিশাল দানবের।’

তিনি বলেন, ‘হরতালসহ রাজনৈতিক সহিংসতায় আমাদের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও চরম মূল্য দিতে হচ্ছে এই শিল্পকে। ক্রেতারা ইচ্ছামত অর্ডার বাতিল করছেন।’

‘সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারলে ডিসকাউন্ট দিতে হচ্ছে। সমুদ্রপথে শিপমেন্ট না করতে পারলে এয়ারফ্রেইট করতে হচ্ছে। যেখানে সমুদ্রপথে এক কেজি পণ্য পাঠাতে খরচ হয় ৩০ সেন্ট, সেখানে আকাশপথে পাঠাতে খরচ হয় ৪ দশমিক ১৫ ডলার। শুধুমাত্র জানুয়ারি-মার্চ ২০১৩ সময়ে হরতালের কারণে স্বাভাবিকের চাইতে প্রায় ৩৯০ কোটি টাকার এয়ারফ্রেইট বাবদ লোকসান দিতে হয়েছে’ জানান আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত ৪ বছরে নতুন বাজার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এখন আর এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যাচ্ছে না। পুরোনো ক্রেতারা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিচ্ছেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত থাকলে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এমনিতেই প্রায় ২৭০টি কারখানা বন্ধের দ্বারপ্রান্তে। এর ফলে চাকরি হারাতে পারে ৩২ লাখ নারী শ্রমিক।

0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন