নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে
চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালাতে যাচ্ছেন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ইতোমধ্যে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ
তালিকায় আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির
কয়েকজন নেতা। জেল-জুলুম, হামলা-মামলা থেকে বাঁচতে ওই নেতারা সরকারের সঙ্গে
লিয়াজোঁ করছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সরকারকে জানিয়ে দিচ্ছেন।
তবে এবারকার শুদ্ধি অভিযান চালাতে তৈরি করা হয়েছে গজারি বাহিনী। এ বাহিনীর
সদস্য অধিকাংশই ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী। এদের জন্য
দুই ফুট সাইজের গজারির লাঠিও জোগাড় হয়ে গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা
জিয়ার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র এ অভিযানের কথা জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, দলের কিছু নেতার মতিভ্রম
হয়েছে। জেল-জুলুম, হামলা-মামলা থেকে বাঁচতে ওই নেতারা সরকারের সঙ্গে
লিয়াজোঁ করছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সরকারকে জানিয়ে দিচ্ছেন।
কখনও কখনও উদ্ভট পরামর্শ দিয়ে চেয়ারপারসনকে বিভ্রান্ত করছেন। ইতোমধ্যে এর
প্রমাণও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আগে নয়াপল্টনে দলের
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে দলের স্থায়ী
কমিটির এক সদস্য চেয়ারপারসনকে হরতাল ডাকার পরামর্শ দেন। তখন চেয়ারপারসন
তাকে নয়াপল্টনে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে হরতাল ঘোষণা করার নির্দেশ দেন।
কিন্তু তিনি তা না করে সরাসরি তার বাসায় চলে যান। পরে চেয়ারপারসন খালেদা
জিয়ার উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও দলের মুখপাত্র শামসুজ্জামান দুদু সংবাদ
সম্মেলন করে হরতালের ঘোষণা দেন। পরে এ নিয়ে দলের মধ্যে সমালোচনা হলে
সন্ধ্যায় আবার সংবাদ সম্মেলন করে হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া
দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য যিনি পেশায় আইনজীবী তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবে
এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন আগামী বাজেট অধিবেশনে যোগ দেবে বিএনপি। তার এই
ঘোষণার পর দলের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিব্রত হন দলের হাইকমান্ড। পরে
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া এক
সাক্ষাত্কারে বলেন, সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দলীয়ভাবে তারা কোনো সিদ্ধান্ত
নেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ মে রাতে বিএনপি
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে তার গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী
কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় হেফাজতে অংশ নেওয়া হুজুরদের পাশে
দাঁড়ানোর। পরে দলের মুখপাত্র শামসুজ্জামান দুদু এক বিবৃতিতে দলের
চেয়ারপারসনের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। দফতর থেকে অঙ্গ
সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ মহানগর নেতৃবৃন্দকে চেয়ারপারসনের নির্দেশনা
পৌঁছানো হয়। দলের চেয়ারপারসন এমন নির্দেশ দিলেও মহানগরের দুই শীর্ষ নেতা
পাল্টা নির্দেশ দেন মহানগর নেতাদের মাঠে না নামার জন্য। এতে রাতে ছাত্রদলের
মুষ্টিমেয় কিছু নেতাকর্মী ছাড়া মহানগর কিংবা অন্য অঙ্গ সংগঠনগুলোর কোনো
নেতাকর্মী মাঠে নামেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের স্থায়ী কমিটির
এক সদস্য গতকাল সন্ধ্যায় জানান, কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স
ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত দলের সর্বশেষ নির্বাহী কমিটির সভায় বিএনপি
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন,
ওয়ান-ইলেভেনে যারা দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন তাদের অনেককে মাফ করে দেওয়া
হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে দলের সঙ্গে কেউ বেইমানি করলে গজারি লাঠি দিয়ে তাদের
সাইজ করা হবে। যাদের ওপর গজারি থেরাপি চালানো হবে তাদের শরীরের বাইরে দাগ
পড়বে না তবে ভেতরে খবর হয়ে যাবে। ওই নেতা আরও জানান, বিগত ওয়ান-ইলেভেনের
সময় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সংস্কারপন্থী কিছু নেতাকে জুতাপেটা
করেছিলেন। এখন আবার তারা প্রয়োজনে গজারি থেরাপি দিয়ে মতিভ্রম হওয়া নেতাদের
চিকিতসা করবেন। সূত্র: সকালের খবর




0 comments:
Post a Comment