বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » শনিবার শক্তির মহড়া দেখাবে ১৮ দল

শনিবার শক্তির মহড়া দেখাবে ১৮ দল

ঢাকা: রাজধানীতে শনিবারের সমাবেশে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামছে বিরোধী জোট ১৮ দল। সমাবেশের আড়ালে মহাসমাবেশ করারই চেষ্টা করছে তারা। আর এই কর্মসূচিতে বড় ধরনের শোডাউনের মাধ্যমে সরকারকে ‘বার্তা’ দিতে চায় বিরোধী জোট।

সমাবেশে জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এই সমাবেশে বিপুল লোক সমাগমের পরিকল্পনা রয়েছে। একইসাথে বাধা আসলে সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে অবস্থান করারও সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, ‘শনিবারের সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন। এতে হরতাল, ঘেরাও এবং অবরোধের মতো কর্মসূচি থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘সমাবেশে বিপুল লোক সমাগোম করাই জোটের প্রথম লক্ষ্য। সরকার এতে বাধা দিলে যেখানে বাধা সেখানেই অবস্থান করবে জোটের নেতাকর্মীরা। তবে আমরা আশাকরছি সরকার তা করবে না। আমাদের ডাকে তারা সাড়া দিবে।’

প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, শীর্ষ নেতাদের মুক্তি ও গণহত্যা বন্ধের দাবি এবং সাভার ‘হত্যাকাণ্ড’ ও উদ্ধারকাজে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে ঢাকায় সমাবেশ করবে বিরোধী জোট ১৮ দল।

গত ২৭ এপ্রিল রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটি এবং ১৮ দলের পৃথক বৈঠক শেষে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

ইতিমধ্যে সমাবেশের জন্য ১৮ দলের পক্ষ থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও কাকরাইলের নাইটঙ্গেল মোড়ের অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ‘বিএনপি প্রধান স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে হেফাজতে ইসলামের ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

অন্যদিকে, সমাবেশ সফল করতে দফায় দফায় নয়াপল্টনে ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ প্রত্যকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বৈঠক করেছেন। তারা যে কোনো মূল্যে শনিবারের সমাবেশকে মহাসমাবেশে পরিণত করতে চায়।’

এ জন্যে বৈঠকে ঢাকা মহানগরের প্রত্যেক ওয়ার্ড ও থানা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সার্বিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সারাদেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ৪ মে’র আগেই ঢাকায় আনা হবে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা বলেন, ‘শনিবারের সমাবেশের মধ্য দিয়ে সরকারের বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিএনপি কতটা শক্তিশালী। শনিবারের সমাবেশ মহাসমাবেশে পরিণত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে এই ধরনের জনসমুদ্রের লোক নির্ণয় করা কঠিন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সমাবেশকে মহাসমাবেশে পরিণত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি চলছে। ঢাকা মহানগর ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিবে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জনসভায় টাগের্ট করে লোক আনতে হয় না। কেননা এই সরকারের প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। তারা এখন পরিবর্তন চায়। শনিবারের সমাবেশে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির মুখপাত্র শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, ‘সমাবেশের প্রস্তুতি জোরালোভাবে চলছে। তবে এখন পর্যন্ত অনুমতি না পাওয়াই সমাবেশের মূল কাজ শুরু করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সমাবেশ করতে লিখিতভাবে দুইটি স্থানের (শাপলা চত্বর ও নাইটঙ্গেল মোড়) অনুমতি চেয়েছি। এখনও আমাদেরকে লিখিত বা মৌখিক কোনোভাবে কিছুই জানানো হয়নি। তবে আশা করি অনুমতি পাবো।’

1 comments:

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন