ঢাকা: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি আলোচনায় যোগ দেবে। বুধবার মুজিবনগর দিবসে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয়ার ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে আরো একবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে এসময় দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও মহিউদ্দিন খান আলমগীর এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, সতীশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা বঙ্গবন্ধুর স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালন করেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রধান বিরোধীদল নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে যে লাগাতার হরতাল দিলে জনসমর্থন হারাতে হবে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আশা প্রকাশ করে বলেন, যাতে একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা যায়- জনগণ যাতে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে- সেই লক্ষ্যে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি নিশ্চয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংলাপে আসবে।
তিনি মনে করেন, “আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধান হবে। বিরোধী দল ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি থেকে বিরত থেকে আলোচনার জন্য যেন উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয় সেক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। কারণ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই জাতির একমাত্র প্রত্যাশা। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে, আজকের দিনে এমনটিই প্রত্যাশা। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের মানুষ তাদের পছন্দের সরকার নির্বাচিত করবেন।”
“মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসের মাইলফলক”, আখ্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতির পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের জন্য মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন ১৭ এপ্রিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে।
এদিন ঘোষিত ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়। ঘোষণাপত্রে সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে প্রজাতন্ত্রের উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া তাজউদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।




0 comments:
Post a Comment