ঢাকা: সাভারে ধসে পড়া ‘রানা প্লাজা’র মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানাকে মাদকসহ আটক করেছে র্যাব। তাকে ইতোমধ্যে হওয়া ইমারত আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এরপর মাদকদ্রব্য আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
রবিবার সাড়ে ৫টায় সদরদপ্তরে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে র্যাব মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘সাভারের রানা প্লাজায় পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল। দুর্ঘটনার আগেই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবু জোর করে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়। ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য ভবন মালিক সোহেল রানাই দায়ী।’
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, র্যাব জানতে পারে বেনাপোল সীমান্তে বন্ধু শাহ আলম মিঠুর বাড়িতে অবস্থান করছিল সোহেল রানা। সে ভারতে পালানোর চেষ্টার করছে বলেও র্যাব জানতে পারে।
‘এই তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইয়িংয়ের একটি দল হেলিকপ্টারে যশোর গিয়ে তাকে বেনাপোলেরও ওই বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে’ জানান তিনি।
মোখলেছুর জানান, আটকের সময় তার কাছে দুই বোতল মদ এবং তিনটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সাভার থানায় হওয়া ইমারত আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এছাড়া অবৈধ মাদক রাখায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনেও মামলা করা হবে।
র্যাব মহাপরিচালক জানান, সাভার থানার মামলাটি তদন্ত করবে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ডিবি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে থাকা আগের কয়েকটি মামলাও তদন্ত করে দেখা হবে।
তিনি জানান, ভবন ধসের ঘটনার পর প্রথম দুই দিন সোহেল রানা মোহাম্মদপুর এলাকায় আত্মগোপন করে। এরপর মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর হয়ে সর্বশেষ যশোরের বেনাপোলে পৌঁছায়।
এছাড়া, তাকে আত্মগোপনে সহযোগিতা, আশ্রয় প্রদান এবং ভারতে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে তার বন্ধু মিঠু এবং অনিলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানান মোখলেছুর।
প্রসঙ্গত, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন নয় তলা ‘রানা প্লাজা’ গত ২৪ এপ্রিল বুধবার সকালে ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে সহস্রাধিকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগেরদিন মঙ্গলবার বিকেলেই ভবনটিতে বড় ধরনের ফাটল দেয়। এরপর ব্যাংকসহ কিছু কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু বুধবার সকালে ভবনের পোশাক কারাখানাগুলোতে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করে ভবন ও কারখানার মালিকরা।
ভবনটি ধসে পড়ার দিন সোহেল রানাও আহত হন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর থেকে রানা পলাতক ছিলেন। তাকেসহ ওই ভবনের গার্মেন্টস মালিকদের আগামী ৩০ এপ্রিল আদালতে হাজিদের নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট।
ইতোমধ্যে এই ঘটনায় রানা প্লাজার পাঁচটি পোশাক কারখানার মধ্যে তিনটির মালিক তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ- এর কাছে আত্মসমর্পণ করার পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আর সোহেল রানার স্ত্রীসহ আরও চারজনকে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।




0 comments:
Post a Comment