ঢাকা: সাভারে উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণ ও চিকিৎসা কাজে অসুবিধার কথা বিবেচনায় এনে হরতাল প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়েছে ১৮ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবারের হরতাল প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। একইভাবে জাতীয় প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকেও নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলের দাবির প্রতি সাড়া দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।
মঙ্গলবার বিএনপির প্রেস সচিব স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, “আমরা যেভাবে জাতীয় স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি আশা করি জাতির বৃহত্তর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীও সেভাবেই আমাদের আহ্বানে সাড়া দেবেন। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্মত হয়ে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেবেন বলে আমরা আশা করি।”
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বিগত বিএনপি সরকারের আমলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস, যমুনা সেতুর ভিত্তিস্থান, গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি মেহমানদের উপস্থিতি, পাবলিক পরীক্ষা, জাতীয় দুর্যোগ কোনো কিছুই আজকের প্রধানমন্ত্রীকে হরতাল পালন থেকে বিরত করতে পারেনি। কিন্তু আমরা তাকে অনুসরণ করবো না।
উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণ ও চিকিৎসা কাজে অসুবিধা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী বলছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে, মানবতার স্বার্থে ও জাতীয় এ ট্র্যাজেডির সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবার সুযোগ করে দিতে আমরা আগামী ২ মে, বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল স্থগিত ঘোষণা করছি।”
১৮ দলের হরতাল আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ হরতাল ডাকা হয় মর্মান্তিকভাবে নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া কর্মীদের পুনর্বাসনের দাবিতে। উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারের সীমাহীন ঔদাসিন্য, সমন্বয়হীনতা ও ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানাতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এ হরতাল ডাকা হয়।
রানা প্লাজার ভবন মালিক সোহেল রানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে যতই অস্বীকার করুন না কেন সকলেই জানে যে, মূল অপরাধী ঘৃণ্য সন্ত্রাসী সোহেল রানা সাভার পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্যই হচ্ছেন তার সকল সন্ত্রাস ও অপকর্মের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা গডফাদার। সে কারণেই স্থানীয় প্রশাসন হয়ে উঠেছিল এ ঘৃণ্য সন্ত্রাসীর হাতের পুতুল।
তিনি তার শাস্তি দাবি করে বলেন, সাভার ট্র্যাজেডির কুখ্যাত ভিলেন সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তার বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযোগ এনে হত্যা মামলা দায়ের এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেবেন বলে আমরা আশা করি।
নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার জন্য সরকারকে পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার-নির্যাতন বন্ধ এবং সভা-সমাবেশ-মিছিলসহ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতায় থেকে কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসার লালসা পরিত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী অনতিবিলম্বে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ খুলে দেবেন বলে আমরা আশা করি।
বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালে হরতালের প্রসঙ্গ এনে বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জ্বালাও-পোড়াও, বন্দর অচল, হত্যা, ভাঙচুর, গণকার্ফু জারি, অফিসগামী নাগরিকদের দিগম্বর করা, সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে মলমূত্র নিক্ষেপ, গান পাউডার দিয়ে চলনত বাসে আগুন লাগিয়ে যাত্রীদের পৈশাচিক হত্যার মাধ্যমে ১৭৩ দিন হরতাল পালন করার সময় কোথায় ছিল তার মানবতা? আজও তিনি ক্ষমতায় থেকে একের পর এক সারাদেশে পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করছেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হাস্যকর মিথ্যা মামলায় দলে দলে জেলে পুরছেন আর শোনাচ্ছেন মানবতার বাণী।
আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমি জনগণের মনের ভাষা পড়তে অনুরোধ করবো। তিনি যদি মনে করে থাকেন গণহত্যা করে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে, গুম-অপহরণ করে, নির্যাতন-কারারুদ্ধ-মিথ্যা প্রচার চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন তাহলে সেটা হবে আত্মঘাতী। আমি আশা করি, সংকটের ভয়াবহতা তিনি উপলব্ধি করবেন এবং ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে তিনি নিজে ধাবিত হবেন না, জাতিকেও নিক্ষেপ করবেন না। হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে শান্তির পথে ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের শেষ সুযোগ গ্রহণের জন্য আমি তার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি
।
মঙ্গলবার বিএনপির প্রেস সচিব স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, “আমরা যেভাবে জাতীয় স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি আশা করি জাতির বৃহত্তর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীও সেভাবেই আমাদের আহ্বানে সাড়া দেবেন। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্মত হয়ে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেবেন বলে আমরা আশা করি।”
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বিগত বিএনপি সরকারের আমলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস, যমুনা সেতুর ভিত্তিস্থান, গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি মেহমানদের উপস্থিতি, পাবলিক পরীক্ষা, জাতীয় দুর্যোগ কোনো কিছুই আজকের প্রধানমন্ত্রীকে হরতাল পালন থেকে বিরত করতে পারেনি। কিন্তু আমরা তাকে অনুসরণ করবো না।
উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণ ও চিকিৎসা কাজে অসুবিধা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী বলছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে, মানবতার স্বার্থে ও জাতীয় এ ট্র্যাজেডির সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবার সুযোগ করে দিতে আমরা আগামী ২ মে, বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল স্থগিত ঘোষণা করছি।”
১৮ দলের হরতাল আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ হরতাল ডাকা হয় মর্মান্তিকভাবে নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া কর্মীদের পুনর্বাসনের দাবিতে। উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারের সীমাহীন ঔদাসিন্য, সমন্বয়হীনতা ও ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানাতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এ হরতাল ডাকা হয়।
রানা প্লাজার ভবন মালিক সোহেল রানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে যতই অস্বীকার করুন না কেন সকলেই জানে যে, মূল অপরাধী ঘৃণ্য সন্ত্রাসী সোহেল রানা সাভার পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্যই হচ্ছেন তার সকল সন্ত্রাস ও অপকর্মের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা গডফাদার। সে কারণেই স্থানীয় প্রশাসন হয়ে উঠেছিল এ ঘৃণ্য সন্ত্রাসীর হাতের পুতুল।
তিনি তার শাস্তি দাবি করে বলেন, সাভার ট্র্যাজেডির কুখ্যাত ভিলেন সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তার বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযোগ এনে হত্যা মামলা দায়ের এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেবেন বলে আমরা আশা করি।
নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার জন্য সরকারকে পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার-নির্যাতন বন্ধ এবং সভা-সমাবেশ-মিছিলসহ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতায় থেকে কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসার লালসা পরিত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী অনতিবিলম্বে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ খুলে দেবেন বলে আমরা আশা করি।
বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালে হরতালের প্রসঙ্গ এনে বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জ্বালাও-পোড়াও, বন্দর অচল, হত্যা, ভাঙচুর, গণকার্ফু জারি, অফিসগামী নাগরিকদের দিগম্বর করা, সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে মলমূত্র নিক্ষেপ, গান পাউডার দিয়ে চলনত বাসে আগুন লাগিয়ে যাত্রীদের পৈশাচিক হত্যার মাধ্যমে ১৭৩ দিন হরতাল পালন করার সময় কোথায় ছিল তার মানবতা? আজও তিনি ক্ষমতায় থেকে একের পর এক সারাদেশে পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করছেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হাস্যকর মিথ্যা মামলায় দলে দলে জেলে পুরছেন আর শোনাচ্ছেন মানবতার বাণী।
আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমি জনগণের মনের ভাষা পড়তে অনুরোধ করবো। তিনি যদি মনে করে থাকেন গণহত্যা করে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে, গুম-অপহরণ করে, নির্যাতন-কারারুদ্ধ-মিথ্যা প্রচার চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন তাহলে সেটা হবে আত্মঘাতী। আমি আশা করি, সংকটের ভয়াবহতা তিনি উপলব্ধি করবেন এবং ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে তিনি নিজে ধাবিত হবেন না, জাতিকেও নিক্ষেপ করবেন না। হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে শান্তির পথে ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের শেষ সুযোগ গ্রহণের জন্য আমি তার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি
।




0 comments:
Post a Comment