চট্টগ্রামের রাউজান থানার উনসত্তর পাড়ার বাসিন্দা সুজিত মহাজনের সাক্ষ্যদান শেষ হলে তাকে জেরা শুরু করেন সালাউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা। জবানবন্দীতে সুজিত জানান, একাত্তর সালে তিনি ক্লাস ফাইভে পড়তেন।
জেরার এক পর্যায়ে আহসানুল হক হেনা সুজিতকে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি পড়াশোনা কতদূর করেছেন?” এর উত্তরে তিনি বলেন, “আমি মেট্রিক পাস করেছি।”
আহসানুল হক হেনা বলেন, “আপনি মেট্রিক পাস করেছেন, এসএসসি পাশ করেননি?” উত্তরে সুজিত বলেন, “তখন এসএসসি ছিলো না, আমি মেট্রিক পাশ করেছি।”
এ সময় প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, “গ্রামের মানুষরা সবাই মেট্রিক পাসই বলে, এসএসসি পাশ বলে না।”
এ সময় হালকা বাকবিতণ্ডা শুরু হলে আহসানুল হক হেনাকে বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আপনি এটা নিয়ে এতো বিতর্ক করছেন কেন? এমন অনেকে আছে যারা মাস্টার্স পাশ করেছে, কিন্তু একটা বাংলা বাক্যও ঠিকমতো লিখতে পারে না।”
উত্তরে হেনা বলেন, “ওই তো, স্বাধীনতার পর সব নকল করে পরীক্ষায় পাস করেছে। বাক্য লিখতে পারবে কি করে?”
এ সময় পর্যবেক্ষকের সারিতে বসে থাকা কেএম সফিউল্লাহ বলে উঠেন, “তাহলে ওইখানে থাকাই ভালো ছিল, তাই না?”
আহসানুল হক হেনা বলেন, “আমি আপনার সঙ্গে কথা বলছি না।”
এর কিছুক্ষণ পর আসামিপক্ষ জেরা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আদালত মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনা করার জন্য ১৫ মিনিট সময় চেয়ে নেন মুলতবি ঘোষণার আগে।
আইনজীবীরা কথা বলতে গেলে ডক থেকে নামার সময় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, “১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ‘গাজী’ হইসে, এখনও সেইটা নিয়ে ‘ফাল’ পারে। শহীদদের নিয়ে কথা বললে আসতে বলো।"
সফিউল্লাহকে ‘সেক্টর কমান্ডারদের ফোঁড়া’ বলেন তিনি।
আদালত ভবনের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “নিজের প্রেসিডেন্টকে বাঁচাতে পারে নাই, সে আবার কিসের সেনাপ্রধান?”




0 comments:
Post a Comment