তারা আরো মনে করেন, যদি অনভিজ্ঞ কোনো পার্লামেন্টারিয়ানকে স্পিকার করা হয়, তাহলে সংসদের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আর মনোনীত কাউকে এ পদে নির্বাচিত করলে রাজনীতির ক্ষেত্রে তা অশুভ বার্তা বয়ে আনবে।
সংসদ সংশ্লিষ্টদের মতে, সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সংবিধান ও সংসদীয় কার্য-প্রণালী বিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণাই যথেষ্ট নয়। এর জন্য কিছু ‘নর্মস’ থাকা অপরিহার্য যা সংবিধান ও কার্য-প্রণালী বিধি দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে না।
তাদের মতে, সংসদ ও স্পিকারকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সাবেক স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের রুলিং ছিল সংসদের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এসময় সংসদ এবং বিচার বিভাগের মুখোমুখি অবস্থানে এক ধরনের সাংবিধানিক সঙ্কট দেখা দেয়ার সমূহ আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হওয়াতে স্পিকার আবদুল হামিদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল এমন একটি বাস্তবধর্মী ও গ্রহণযোগ্য রুলিং দেয়া যা সব মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। অনভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তিকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করলে ওই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কঠিন হবে।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান বলেন, ‘অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাই স্পিকার হওয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। সংসদ, সংবিধান ও সংসদীয় কার্য-প্রণালী বিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে স্পিকার হওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, একাধিকবার সংসদে নির্বাচিত হয়ে আসা ও রাজনৈতিক সংকট ইস্যুতে সংসদ বির্তকে অংশ নেয়া জরুরি।’
স্পিকার হিসেবে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারই যোগ্য। আর ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে স্পিকার নয় ডেপুটি স্পিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, এমনটাই আমার ধারণা- বলেন কৃষিবিদ শওকত মোমেন।
সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত বিরোধী দলের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া বলেন, ‘একজন নারী হিসেবে শিরীন শারমিন স্পিকার হলে আমি স্বাচ্ছদ্যবোধ করবো, এটা ঠিক। তবে অভিজ্ঞতাকে সম্মান করতেই হবে। সেই অর্থে উনি (শিরীন) স্পিকার পদের অযোগ্য। কারণ, একজন সংসদ সদস্যের ন্যূনতম ১০ বছর নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসার পর স্পিকার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন হতে পারে। তবে এটিই একমাত্র বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। সেখানে শিরীন শারমিন নির্বাচিত নন, মনোনীত হয়ে সংসদে এসেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘একবার সংসদ সদস্য হয়ে ডা. দীপু মনিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে তার ব্যর্থ পররাষ্ট্রনীতির কারণে আজ দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে। আর শিরীন শারমিনকে স্পিকার করে সংসদকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় সরকার। তবে এতো অনভিজ্ঞ এবং মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে স্পিকার করা হলে তা সরকার এবং বিরোধী দল কারও জন্য শুভ হবে না।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও ইউজিসির সাবেক সদস্য এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, ‘জাতীয় সংসদের যিনি স্পিকার হবেন, তাকে অবশ্যই সরকার ও বিরোধী দল সবাইর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। পাশাপাশি সংসদীয় পার্লামেন্টের অভিজ্ঞতা, সংবিধান, সংসদীয় কার্য-প্রণালীবিধি এবং বিশ্বের পার্লামেন্ট সর্ম্পকে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকতে হবে। এসব সম্পর্কে শিরীন শারমিন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা আছে বলে আমি মনে করি না।’
বর্তমানে দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে এমন ব্যক্তিকে স্পিকার করা উচিৎ যার গ্রহণযোগ্যতা দেশের মানুষ এবং সংসদের কাছে রয়েছে। বর্তমান সরকারি দলে এমন অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি আছেন তাদের মধ্যে থেকে স্পিকার করা যেতে পারে। এছাড়াও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে এ পদে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।




0 comments:
Post a Comment