প্রচার সংখ্যায় দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ দৈনিকটিতে রোববার নববর্ষ সংখ্যায় ‘টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি’ শিরোনামের একটি ছোট গল্প প্রকাশিত হয়, যা লিখেছেন সাবেক আমলা হাসনাত আবদুল হাই।
গল্পে বলা না হলেও মূল চরিত্র ‘স্লোগান দেয়া নারী’টি শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারী নারীদের দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত করে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ওঠে।
সমালোচনার মুখে প্রকাশিত গল্পটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওই লেখাটি ‘অসাবধানতাবশত’ প্রকাশ হয়েছিল। একই কারণ দেখিয়ে পাঁচ বছর আগেও ক্ষমা চেয়েছিল পত্রিকাটি।
সোমবার প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে বলেছে, “অসাবধানতাবশত লেখাটি মুদ্রণের জন্য প্রথম আলো আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং পাঠকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা এ লেখাটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।”
প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেছেন, “এটা শুধু আমরা প্রত্যাহারই করছি না, আর্কাইভ থেকেও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”
বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর কথা বলা হয় আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে।
তিনি বলেন, প্রকাশিত গল্পটি তাদের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে ‘একেবারে বেমানান’, তবে ‘অসাবধানতাবশত’ ছাপা হয়ে গেছে।
এই অসাবধানতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা অনুসন্ধান করে দেখছি যে কোন জায়গায়, কার কতটুকু ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এটা আর না হয়, তার প্রতিকারের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।”
পাঁচ বছর আগে মহানবী (সা.) কে নিয়ে প্রকাশিত একটি কার্টুন নিয়ে সমালোচনার মুখে কার্টুনিস্ট আরিফুর রহমান এবং বিভাগীয় সম্পাদক সুমন্ত আসলামকে বরখাস্ত করে প্রথম আলো। আরিফকে তখন গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।
২০০৭ সালের ওই ঘটনার সময়ও প্রথম আলো একইভাবে ক্ষমা চেয়ে কার্টুনটি প্রত্যাহার করে নেয়। শুধু তাই নয়, বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিবের হাত ধরে ‘মাফ চেয়ে’ নিষ্কৃতি পান প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
প্রথম আলোর বিরুদ্ধে ওই সময় আন্দোলনরত মাওলানাদের সমঝোতায় ভূমিকা রাখেন তখনকার সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন।
হাসনাত আবদুল হাইয়ের গল্পের মূল চরিত্র এক নারী, যিনি মফস্বল থেকে ঢাকায় পড়তে এসে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। স্লোগান দিয়ে জনপ্রিয়তা পেলেও তিনি এই সঙ্কটে পড়েন যে, মঞ্চে স্লোগান অব্যাহত রাখতে তাকে ছাত্রনেতাদের ‘খাদ্য’ হতে হবে। শুধু তাই নয়, যে রাজনীতিক তাকে রাজনীতিতে এনেছে, সে এখন তারও ‘খাদ্য’।
উল্লেখ্য, শাহবাগের আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত লেখাটি প্রথম আলো প্রকাশ করার পর থেকে অনলাইন জগতে বিষয়টি নিয়ে চলছে তোলপাড়। শাহবাগের অন্যতম সংগঠক পিনাকিসহ অনেকেই প্রথম আলোকে রাজাকার বলে গালি দিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করেছে।




0 comments:
Post a Comment