শুক্রবার সকালে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডির সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ মন্তব্য করেন।
সিপিডি মনে করে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এর বাস্তবায়ন বড় কঠিন হবে। প্রস্তাবিত এ বাজেট ৩টি সরকার বাস্তবায়ন করবে, তাই এ সরকারের মেয়াদে কোন কোন প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবে তা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসেনি বলে মনে করে এ প্রতিষ্ঠানটি।
বাজেটে রাজস্ব আহরণ বিষয়ে দিক-নির্দেশনা নেই উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, এটি একটি বড় দুর্বলতা। যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন করা খুবই কঠিন। যদি করতে পারে তাহলে এনবিআরকে অভিনন্দন জানানো হবে।
খাতানুযায়ী পর্যালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দে স্থবিরতা দেখা গেলেও বাজেটে নারী ও শিশুদের কল্যাণে ৪০টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আক্ষরিক অর্থে বরাদ্দ বাড়লেও প্রকৃত অর্থে এর সুবিধাভোগী কমেছে ৪ শতাংশ।
বৈদেশিক ঋণের ওপর অধিক প্রত্যাশা ও ব্যাংক ঋণের ওপর অধিক নির্ভরতাই এ বাজেটের বৈশিষ্ট। আর ব্যাংকের ওপর অধিক নির্ভরতার কারণে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, এবারের বাজেটে দুর্বলতম জায়গা হলো- রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ও প্রণোদনা। সরকার রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে তা পূরণ হবে না। অনুৎপাদনশীল খাতে ৭০ শতাংশ টাকা চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনপ্রশাসন ও সুদ দিতে এ টাকা ব্যয় হবে। ফলে উৎপাদশীল খাত বাধাগ্রস্ত হবে।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রভাব পড়বে। তার মতে কালো টাকা বিনিয়োগে জমি কেনার ফল্পে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা সৃষ্টি হবে না। যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করবে।
প্লট ও ফ্ল্যাটে কালো টাকা ব্যবহারের সুযোগ দেয়ারও সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্লট ও ফ্ল্যাটে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজার থেকে তা তুলে নেয়া হয়েছে। প্লট ও ফ্ল্যাটের বিনিয়োগ শিল্প উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। এটি দেশজ আয়ের আধুনিকায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। কালো টাকা ব্যবহারের সুযোগ দেয়ায় সরকার যে খুব বেশি রাজস্ব পায় তাও নয়। এতে রাজনৈতিক সামাজিক ক্ষতি হয়। আর অর্থনীতিও সুফল পায় না।




0 comments:
Post a Comment