বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » পরিবারের কারো জড়িত থাকার অভিযোগ নাকচ প্রধানমন্ত্রীর

পরিবারের কারো জড়িত থাকার অভিযোগ নাকচ প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এই প্রকল্প দুর্নীতি নয়, দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে কানাডার সিবিসি নিউজ চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী এই অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন।

পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারির ঘটনায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান এসনসি-লাভানিন ঘুষ লেনদেনে সাংকেতিক কিছু বর্ণ ব্যবহার করতো বলে নিশ্চিত হয়েছে দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেল। এই বর্ণগুলো যথাক্রমে পিসিসি ও সিসি বলে জানায় টিভি চ্যানেলটি।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের মাত্র একদিন পর আরো একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সিবিসি নিউজ বলছে, পদ্মাসেতু প্রকল্পে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে কানাডিয়ান মাউন্টেন পুলিশ।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে প্রায় ১৫ মিনিটের এই প্রতিবেদনে সাবেক যোগাগোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরীরর সম্পৃক্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতকার নেয় সিবিসি।

আবুল হোসেন আওয়ামী লীগের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই পাসের্ন্টজ নিতে চেয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাকে এমন কোনো দায়িত্ব দেয়া হয়নি।

এই প্রকল্প থেকে প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানাও কমিশন নিতে চেয়েছিলেন- এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি নিজে বা তার মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য এ ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত নন।

সিবিসি নিউজ দাবি করে, ঘুষ লেনদেনে যে ধরনের সংকেত এসএসসি-লাভালিন প্রস্তাব করে তার একটি নমুনা তাদের হাতে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিবিসিকে এসএনসি লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, এই সংকেতের বিষয়ে তিনি এবং লাভিলিনের সকল স্তরের কর্মকর্তারাই অবগত আছেন।

ওই তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, এসএনসি বিভাগ নিয়মিতভাবেই সাংকেতিক ভাষায় নাইজেরিয়া, জাম্বিয়া, উগান্ডা, ভারত, কাজাখস্তানসহ অন্যান্য এলাকায় পরামর্শক ও সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়ার জন্য ঘুষের পরিমাণ লিখে রাখে।

নাইজেরিয়ার দুটি ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্তে দেখা দেখা গেছে, প্রজেক্ট কনসালটেন্সি কস্ট (পিসিসি) নামে সরাসরি সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছে।

এসএনসি-লাভালিনের মুখপাত্র লেসলি কুইনটন সিবিসি নিউজের কাছে স্বীকার করেছেন, পিসিসি বৈধ নয়। পিসিসির প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ঘুষ দেওয়া। বেশির ভাগ সময় আর্থিক প্রস্তাবনায় এর উল্লেখ থাকে। আন্তর্জাতিক বিভাগের অফিস সেক্রেটারি থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যন্ত সবাই এই ‘পিসিসি’ শব্দ ব্যবহার করেন।

মোহাম্মদ ইসমাইল সিবিসি নিউজের কাছে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও স্বীকার করেছেন, ঘুষের জন্য ব্যবহৃত অর্থ বোঝাতেই কম্পানিটি ‘পিসিসি’ সংকেত ব্যবহার করে।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের দুই সদস্যের একটি টিম চলতি সপ্তাহেই কানাডায় যেতে পারেন বলে আভাস দিয়েছেন দুদক চেয়াম্যান গোলাম রহমান।

তিনি জানান, দুদকের আইন উপদেষ্টা আনিসুল হক ও তদন্ত কর্মকর্তা মির্জা জাহিদুল আলম টিকিট পেলে চলতি সপ্তাহের যে কোনো দিন কানাডার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

দুদকের করা পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মালার তিন আসামি এসএনসি লাভালিনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহ এবং সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইলের সঙ্গে কথা বলতে পারে দুদকের টিম।

এই মামলার অপর আসামিরা হচ্ছেন-  সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইপিসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা।

0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন