
হাসিবুল হাসান
ঢাকা: চলমান সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন সরকার-পদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলের
সঙ্গে শিগগিরই কোনো সমাঝোতায় যাচ্ছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
সংলাপ-সমঝোতার জন্য দেশি-বিদেশী চাপ থাকলেও এখনই কোনো উদ্যোগ নেবে না
সরকার।
দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা একদিকে বলছেন, সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সংলাপ চাইলে বিএনপিকেই আগে প্রস্তাব দিতে হবে। আবার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে একের পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছে সরকার। মাঠে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনে বিএনপির সব নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা।
তারা বলছেন, বিরোধী দল যত বেশি হরতাল দেবে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে, সরকার তত বেশি কঠোর হবে। সংলাপ-সমঝোতার বিষয়ে তারা বলছেন, বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের এখনো অনেক সময় বাকি। সংলাপের দুয়ারও খোলা। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসার পর সংলাপ হতে পারে বলে তারা মনে করেন। তবে বিরোধী দলকেই সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে- সরকারি দলের প্রায় সব নেতা জানিয়ে দিয়েছেন।
বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ প্রশ্নে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সংলাপ চাইলে বিএনপিকেই আগে প্রস্তাব দিতে হবে।” তিনি বলেন, “সংলাপ এখনই করতে হবে বিষয়টি এমন নয়। কিছুদিন পরেও সংলাপ করতে পারব। সংলাপের দুয়ার সব সময় খোলা। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বেরিয়ে এলে চলমান সংকট নিরসনে সংলাপ হতে পারে।”
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “বিএনপি এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়, সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয়েছে। তারা যে ধরনের কর্মকাণ্ড করছে, তাতে এ পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসা সম্ভব নয়।”
আওয়ামী লীগ আপাতত বিএনপিসহ সরকারবিরোধী সংগঠনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে কঠোর হস্তে দমন করার হুমকি দিচ্ছেন দলের নেতারা।
আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, “যত বেশি হরতাল দেবেন, সরকার তত বেশি কঠোর হবে। হরতাল দিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজনে বিএনপির সব শীর্ষ নেতাকে জেলে পাঠানো হবে।”
দলীয় সূত্রমতে, বিরোধী দলের আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা দমন করবে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে, হরতালে জ্বালাও-পোড়াওয়ের দায়ে গ্রেফতার করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জেলে পাঠানো। এতে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙা হতে পারবে না বলে সরকার মনে করে। এ ছাড়া, সরকার ও আওয়ামী লীগ জামায়াতের বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। শেষ পর্যন্ত জরুরি না হলে তারা হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে জোর খাটাবে না, তবে আগের মতোই তা কৌশলে প্রতিহত করার চেষ্টা করবে।
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিরোধী জোট হরতালসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আসছে। তারা সরকারকে বলছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে। আরো বলছে, সংলাপ হতে হবে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে।
দুই দলের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দেশের অর্থনীতিতে নেমে আসছে চরম স্থবিরতা। হামলা-পাল্টা হামলায় প্রতিনিয়ত মরছে মানুষ। ক্ষতি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদের। প্রতিনিয়ত উদ্বেগ জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সংলাপের তাগিদ দিচ্ছেন ব্যবসায়ী, সুধীসমাজ ও বিদেশি কূটনীতিকরা। সংলাপের তাগিদ সর্বস্তরের মানুষের।
দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এরই মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগসহ(সিপিডি) বিভিন্ন সংগঠন দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য করণীয় সম্পর্কে তাদের মতামত-পরামর্শ জানিয়েছেন। কিন্তু সেগুলো সরকারের কাছ থেকে তেমন ইতিবাচক সাড়া পায়নি।
দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা একদিকে বলছেন, সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সংলাপ চাইলে বিএনপিকেই আগে প্রস্তাব দিতে হবে। আবার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে একের পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছে সরকার। মাঠে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনে বিএনপির সব নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা।
তারা বলছেন, বিরোধী দল যত বেশি হরতাল দেবে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে, সরকার তত বেশি কঠোর হবে। সংলাপ-সমঝোতার বিষয়ে তারা বলছেন, বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের এখনো অনেক সময় বাকি। সংলাপের দুয়ারও খোলা। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসার পর সংলাপ হতে পারে বলে তারা মনে করেন। তবে বিরোধী দলকেই সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে- সরকারি দলের প্রায় সব নেতা জানিয়ে দিয়েছেন।
বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ প্রশ্নে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সংলাপ চাইলে বিএনপিকেই আগে প্রস্তাব দিতে হবে।” তিনি বলেন, “সংলাপ এখনই করতে হবে বিষয়টি এমন নয়। কিছুদিন পরেও সংলাপ করতে পারব। সংলাপের দুয়ার সব সময় খোলা। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বেরিয়ে এলে চলমান সংকট নিরসনে সংলাপ হতে পারে।”
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “বিএনপি এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়, সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয়েছে। তারা যে ধরনের কর্মকাণ্ড করছে, তাতে এ পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসা সম্ভব নয়।”
আওয়ামী লীগ আপাতত বিএনপিসহ সরকারবিরোধী সংগঠনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে কঠোর হস্তে দমন করার হুমকি দিচ্ছেন দলের নেতারা।
আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, “যত বেশি হরতাল দেবেন, সরকার তত বেশি কঠোর হবে। হরতাল দিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজনে বিএনপির সব শীর্ষ নেতাকে জেলে পাঠানো হবে।”
দলীয় সূত্রমতে, বিরোধী দলের আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা দমন করবে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে, হরতালে জ্বালাও-পোড়াওয়ের দায়ে গ্রেফতার করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জেলে পাঠানো। এতে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙা হতে পারবে না বলে সরকার মনে করে। এ ছাড়া, সরকার ও আওয়ামী লীগ জামায়াতের বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। শেষ পর্যন্ত জরুরি না হলে তারা হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে জোর খাটাবে না, তবে আগের মতোই তা কৌশলে প্রতিহত করার চেষ্টা করবে।
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিরোধী জোট হরতালসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আসছে। তারা সরকারকে বলছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে। আরো বলছে, সংলাপ হতে হবে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে।
দুই দলের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দেশের অর্থনীতিতে নেমে আসছে চরম স্থবিরতা। হামলা-পাল্টা হামলায় প্রতিনিয়ত মরছে মানুষ। ক্ষতি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদের। প্রতিনিয়ত উদ্বেগ জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সংলাপের তাগিদ দিচ্ছেন ব্যবসায়ী, সুধীসমাজ ও বিদেশি কূটনীতিকরা। সংলাপের তাগিদ সর্বস্তরের মানুষের।
দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এরই মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগসহ(সিপিডি) বিভিন্ন সংগঠন দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য করণীয় সম্পর্কে তাদের মতামত-পরামর্শ জানিয়েছেন। কিন্তু সেগুলো সরকারের কাছ থেকে তেমন ইতিবাচক সাড়া পায়নি।




0 comments:
Post a Comment