ভেতরে এখনো প্রাণের স্পন্দন থাকায় খুব সাবধানতার সঙ্গে কাজটি পরিচালনা করবেন সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি প্রশিক্ষিত টিম।
সকাল থেকেই ভারী যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে ধ্বংসস্তুপের আশপাশে। হাইড্রলিক ক্রেন, ডোজার ও লোডারের মতো ভারী সরঞ্জাম নিয়ে আসা হয় ভবনের সামনের অংশে। তবে সকাল থেকেই ম্যানুয়ালি আগের মতোই উদ্ধার অভিযান চলিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি সংবাদ সম্মেলনে দুপুরের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যাবহারে সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, দুপুরের পর আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবনের উপরের কংক্রিট সরানো হবে। তারপর জীবিতদের সন্ধান চলবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবে বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান।
উদ্ধার কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এর আগে ঘটনাস্থলে দীর্ঘ বৈঠক হয়। বৈঠক উদ্ধার অভিযানের নানা দিন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী জানান, ধসে পড়া ভবনের তৃতীয় তলায় জীবিত আরো ৯ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেই ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্ধার কাজ করতে হয় তিনটি পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে’ কাজ হয়। পরের দুটি দ্বিতীয় পর্যায়ে পুরো ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করা হয়।
আমরা এ কয় দিন ভেতরে আটকে পড়া জীবিতদের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি। কাজের প্রথম স্তরেই থেকেছি। কিন্তু কাজের এই পর্যায়ে এসে ম্যানুয়ালি উদ্ধার প্রক্রিয়া কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা তাই ম্যানুয়ালি উদ্ধারের সাথে সাথে কিছু প্রযুক্তির সহায়তা নিতে চাচ্ছি।
সাভারের জিওসি বলেন, অভিযানে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বৈঠকে জানিয়েছেন, ধসের চার দিন পর এই অবস্থায় এখনো ‘ম্যানুয়ালি’ কাজ চালিয়ে গেলে ভেতরে আটকে পড়াদের সঙ্গে উদ্ধারকর্মীরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন।
তিনি বলেন, আমরা সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রথম পর্যায়ের উদ্ধার অভিযানে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করব। এখানে প্রযুক্তির ব্যবহারে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এতে করে জীবিতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং কাজের গতি বাড়বে।
তিনি বলেন এ পর্যায়ে ইকুইপমেন্টের ব্যবহার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্ট্রাকচারাল ইনজিনিয়ারিং ইউনিট, ফায়ার ব্রিগেড, রেড ক্রিসন্ট ও কমিউনিটি ভলান্টিয়াররা এই উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন।
এর পাশাপাশি বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসনসহ স্থানয়ি অগণিত স্বেজ্ছাসেবী এই উদ্ধার কাজে সহযোগিতা দিচ্ছেন।
ধসে পড়া ভবনের সিড়িতে কয়েকশ গলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ধ্বংসস্তুপ না সরিয়ে সেগুলো উদ্ধার করা কঠিন।




0 comments:
Post a Comment