ঢাকা: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতিতে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ সময় যে কোনো পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সাংবিধানিক ধারা অক্ষুন্ন রেখে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
সোমবার সংসদ ভবনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনা প্রধান এইচএম এরশাদ, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ন, মঞ্জুর কাদের কোরাইশী, প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধি এমএ মান্নান, সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল মুহাম্মদ ফরিদ হাবিব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে সরকার উত্খাতের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করা, দেশের অস্থিতিশীলতার ব্যাপারে সেনা সদস্যদের ভূমিকা পালন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার মন্তব্য ও হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে এম ইদ্রিস আলী সাংবাদিকদের জানান, যে কোনো পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সাংবিধানিক ধারা অক্ষুন্ন রেখে সমস্যার সমাধানের ওপর বৈঠকে জোর দেয়া হয়েছে।
দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘বৈঠকে তিন বাহিনী প্রধানরা দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বলেছেন-সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে তারা শপথ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।’
ইদ্রিস আলী আরো জানান, বৈঠকে গত ২৪ মার্চ বগুড়া অনুষ্ঠিত জনসভায় সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়।
বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করে কমিটির সভাপতি ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা বগুড়ায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা উসকানিমূলক। তিনি সংবিধান পরিপন্থী কাজ করেছেন।’
বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি নিয়ে প্রশস্তি করেন এইচ এম এরশাদ। তিনি বলেন, ‘শাহবাগের আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া থেকে হেফাজতে ইসলামের সৃষ্টি হয়েছে। জাগরণ মঞ্চের কথামতো পতাকা উঠেছে, স্কুল-কলেজ চলেছে। যেন তারা পাল্টা সরকারব্যবস্থা তৈরি করেছে। এসব কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক হতে পারে না। তাদের সঙ্গে নাস্তিক ব্লগাররা যোগ দিয়েছে।’
এরশাদের বক্তব্যের জবাবে ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ইসলামের হেফাজত করেন স্বয়ং আল্লাহ। কোনো মানুষ ইসলামকে হেফাজত করতে পারে না। তাদের এ দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলাম নিয়ে যদি কেউ বিচলিত হন, তবে ধরে নিতে হবে তার ইমানের শক্তি দুর্বল।’
এ সময় কমিটির সদস্যরা হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে খাবার ও পানি সরবরাহের কারণ জানতে চাইলে এরশাদ জানান জনমত সৃষ্টির সুযোগ নিতে তিনি এ কাজ করেছেন। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন ‘আমি সরকারের সঙ্গে আছি, সরকারের সঙ্গে থাকব।’
সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়, বৈঠকে সরকার উত্খাতের অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িত পলাতক ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করার কাজ দ্রুত শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।




0 comments:
Post a Comment