সবুজ আহমেদ
তাজা নিউজ
ঢাকা:হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে আসা লোকজনকে এরশাদের পানি খাওয়ানো ও মতিঝিলের সমাবেশে প্রতিনিধি পাঠিয়ে সংহতি প্রকাশের রহস্য কী? এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এরশাদের মুখে নারায়ে তাকবিরের স্লোগান শুনে অনেকে হাসাহাসিও করেছেন। কেউ কেউ বলছেন দিন বদলের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ কি নিজেই বদলে গেলেন?
তাজা নিউজ
ঢাকা:হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে আসা লোকজনকে এরশাদের পানি খাওয়ানো ও মতিঝিলের সমাবেশে প্রতিনিধি পাঠিয়ে সংহতি প্রকাশের রহস্য কী? এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এরশাদের মুখে নারায়ে তাকবিরের স্লোগান শুনে অনেকে হাসাহাসিও করেছেন। কেউ কেউ বলছেন দিন বদলের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ কি নিজেই বদলে গেলেন?
গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের
আদেশ দেয়ার পর থেকে তার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে বসে গণজাগরণ মঞ্চ। প্রথম
দিকে কোনো কথা না বললেও গণজাগরণের সাথে জড়িত কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে
আল্লাহ, নবী সা: ও ইসলাম সম্পর্কে কটাক্ষের অভিযোগ ওঠার পর জাতীয় পার্টির
চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। বিভিন্ন
সভা-সমাবেশে এই মঞ্চের জড়িতদেরকে নাস্তিক আখ্যায়িত করে শাহবাগ থেকে
গণজাগরণ মঞ্চ তুলে দেয়ারও দাবি জানান তিনি।
সর্বশেষ গণজাগরণ মঞ্চ তুলে দেয়াসহ ১৩ দফা
দাবিতে হেফাজতে ইসলামের ৬ এপ্রিলের লংমার্চে, এরশাদ সমর্থন দিয়ে সমাবেশের
লোকজনের জন্য পানি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। হঠাৎ করেই এরশাদের এই
অবস্থানকে অনেকে সন্দেহের চোখে দেখছেন।
হেফাজতে ইসলামের সমর্থনকারী কিছু রাজনৈতিক
বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবী মনে করেন, হেফাজতের নেতাকর্মীদেরকে এরশাদের পানি
খাওয়ানো ও সমাবেশে সংহতি প্রকাশ, সরকারের কোনো কুটকৌশলও হতে পারে। সরকারের
ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সারাদেশে গড়ে ওঠা হেফাজতে ইসলামের
আন্দোলনের মূল চেতনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এটাকে তারা সরকারের
ষড়যন্ত্র বলেও মনে করছেন।
তারা বলছেন, গণজাগরণ মঞ্চের ক্ষেত্রেও নিজেদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকার ওই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।
তারা বলছেন, গণজাগরণ মঞ্চের ক্ষেত্রেও নিজেদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকার ওই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হেফাজতের আন্দোলন
সম্পূর্ণ সরকারের বিরুদ্ধে। এরশাদের জাতীয় পার্টি সরকারের অংশ। মহাজোট
ছেড়ে দেয়ার হুমকি ও বিভিন্ন সময়ে সরকারের সমালোচনা করছেন তিনি না
পাওয়ার বেদনা থেকে। মুখে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেও বাস্তবে সরকারবিরোধী
কোন কর্মসূচি দেয়া বা অংশ নেয়ার শক্তি, সামর্থ্য ও সুযোগ এরশাদের নেই।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আলেম ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে সরকারের পক্ষে
আনতেই এরশাদের এ খেলা।
টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী জনগণের মূল আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে ভারত সফর করে এসে তাদের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী এরশাদ সিলেটমুখী লংমার্চের আয়োজন করেছিলেন। ঠিক তেমনিভাবে এখনো সরকারের ইশারায়ই এরশাদ তৌহিদী জনতার সহানুভুতির জন্য হেফাজতের লংমার্চে পানির ব্যবস্থা করেছেন।
টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী জনগণের মূল আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে ভারত সফর করে এসে তাদের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী এরশাদ সিলেটমুখী লংমার্চের আয়োজন করেছিলেন। ঠিক তেমনিভাবে এখনো সরকারের ইশারায়ই এরশাদ তৌহিদী জনতার সহানুভুতির জন্য হেফাজতের লংমার্চে পানির ব্যবস্থা করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এরশাদ সাহেবের রূপের
কোনো শেষ নেই। তিনি যে কোনো পরিস্থিতিতে যে কোনো রূপ ধারণ করতে পারেন। তার
নীতি আদর্শ এখন এদেশের জনগণের কাছে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ। সকালে বলেন এক কথা
আর বিকালে বলেন আরেক কথা। মানুষ এরশাদের কোনো কথাকেই আর বিশ্বাস করে না।
হেফাজতের আন্দোলনে বিএনপির প্রত্যক্ষ
সমর্থন ও পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে। ছোট ছোট ইসলামী দল এবং ওলামায়ে কেরামের
বিএনপির সাথে বেশ ভালো সম্পর্ক। তারা বিএনপিকে আওয়ামীলীগের চেয়ে
ধর্মপ্রাণ মনে করেন। তবে বিএনপির প্রতি তাদের ক্ষোভও রয়েছে অনেক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সুপরিচিত
ইসলামী চিন্তাবিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রতিবেদককে বলেন, গতবার আলেম ওলামা ও
তৌহিদী জনতার ঘাড়ে পা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
ইসলামের বিপক্ষে অবস্থান না নিলেও আলেম ওলামাদের সাথে করা একটি ওয়াদাও
বিএনপি সরকার পূরণ করেনি। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েও তারা ফতোয়াবিরোধী আইনটি
বাতিল করেনি। প্রতিষ্ঠা করেনি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ও। অথচ ফতোয়াবিরোধী আইন
করার কারণেই সাধারণ মানুষ ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে ভোট দেয়নি।
দেশের আলেম ওলামা ও তৌহিদী জনতার দাবি ছিল চারদলীয় জোট সরকার ফতোয়াবিরোধী
আইনটি বাতিল করবে। কিন্তু তারা তা করেনি।
হেফাজতের লংমার্চে এরশাদের পানি খাওয়ানো ও
সমাবেশে সংহতি প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের
মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের অন্যতম সমন্বয়ক মাওলানা জাফরুল্লাহ খান এ
প্রতিবেদককে বলেন, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন হলো ঈমানী আন্দোলন। এ আন্দোলনে
দল-মত নির্বিশেষে যে কেউ শরিক হতে পারে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই।
এরশাদের এই উদ্যোগ সরকারের কোন ষড়যন্ত্র
বা কৌশল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এরশাদের উদ্যোগকে
ষড়যন্ত্র হিসাবে মনে করছি না। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এরশাদের ভূমিকা বিতর্কিত
হলেও ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি এমনটা করবেন না বলে আমার বিশ্বাস। আর সরকার যদি
তাকে দিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করেও থাকে তাহলে তারা এতে সফল হবেন না।
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে
ইসলামের অন্যতম সমন্বয়ক মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামীর কাছে জানতে চাইলে
তিনি বলেন, আমাদের লংমার্চে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই
বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমরা মনে করি, আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি
ভালোবাসা থেকেই এরশাদ সাহেব অন্যদের মতো সহযোগিতা করেছেন। তিনি আরো বলেন,
আমাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, ব্লগারদের বিরুদ্ধে। এ জন্য হেফাজতের
আন্দোলন নিয়ে সরকার ষড়যন্ত্র করবে কেন?
এরশাদের পানি ও সংহতি প্রকাশের বিষয়ে
জানতে চাইলে সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড.
মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, সাধারণ মানুষের মতো জাতীয় পার্টির
চেয়ারম্যান এরশাদ সাহেবও তার ঈমানী তাকিদ থেকেই লংমার্চে আগতদের জন্য
পানির ব্যবস্থা ও প্রতিনিধি পাঠিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন। আমরা তার জন্য
দোয়া করছি তিনি যেন পুরোপুরি এ পথে আসেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় পার্টির
মিডিয়া সেন্টার থেকে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের বরাত দিয়ে বলা জানানো
হয়, আল্লাহ, রাসুল (স) ও ইসলামের বিরুদ্ধে গণজাগরণ মঞ্চের লোকজন কটাক্ষ
করার কারণেই এরশাদ সাহেব হেফাজতের লংমার্চকে সমর্থন দিয়ে হেফাজতের লোকদের
জন্য পানির ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের কোনো ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করে
বলা হয় এখানে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। একজন মুসলমান হিসাবে ইসলামের প্রতি
ভালবাসা থেকেই সমাবেশে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে।




bujtasi na ki hocce deshe
ReplyDeleteIf " Hefazot " being taken care of by shameless,characterless debouch like Ershad then Allah will definitely punish them all most severly.
ReplyDeleteMohamed.
Surly it is the other way round, it is the " Hefazot " who conspired against Government. Government is elected by people of the country and entitled to govern according to the law of the country on the other hand "Hefazot" is pressure group represent a selfish people. I am a Muslim, performed Hajj and Umrah, pray salat 5 times, pay my zakkat, help needy people & do not agree with this group. I was to give money to Mdrasas but stop as I saw what education they are giving to the students who attend those, lot of my friends are doing the same. In my view these people are worse them those whom they are calling " Nastik" Mohamed.
ReplyDelete