তাজা নিউজ
নিউ ইয়র্ক: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করা ঠিক হবে না। কারণ নিষিদ্ধ করলেই তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবে এবং অনেক জ্বালাতন করবে।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র সফরত অর্থমন্ত্রী আরেক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান শত্রু জামায়াত-বিএনপি। নতুন করে হেফাজতে ইসলাম দেশের জন্য আরেক অপশক্তি।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকারকে আবার নির্বাচিত না করলে দেশ কয়েক দশক পিছিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৬ শতাংশের উপরে। নারী শিক্ষার হার সর্বকালের বৃহত্তম এবং ৩০ শতাংশ নারী কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতিকে সবল করেছে।
মুহিত বলেন, ঐতিহাসিক মুজিব নগর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় যারা সামিল ছিলেন, তারাই মুক্তিযোদ্ধকে সুসংগঠিত করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ও নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কমান্ডার নূর নবী।
নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুর রহমান চৌধুরী ইমদাদ ও নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমলের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও কাউন্সিলম্যান ড. নুরান নবী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও সিরাজ উদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সফরে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসীদের উদ্বেগ প্রকাশের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, হরতালের নামে অনবরত সহিংসতা চলছে। এটা প্রতিহত করতে হবে। দেশে এখন যে হরতাল হচ্ছে, তা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য।
ইসলাম রক্ষার কথা বলে হেফাজতে ইসলাম যেসব দাবি তুলেছে তা কখনোই মানা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হলমার্ক কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে এক প্রবাসীর প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, হলমার্ক কেলেঙ্কারি একটি বড় ধরনের জালিয়াতি। সরকারের সুপারভিশনের দুর্বলতার কারণে এ ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। তবে সরকার এখন সাবধান হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে নিউ ইয়র্কের এস্টোরিয়ায় প্রবাসের বৃহত্তম আঞ্চলিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জন উদ্দিন।
এই মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন- কামাল আহমেদ, তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ শওকত আলী, কাজী সাব্বির আহমদ, মিনহাজ আহমেদ শাম্মু, বেদারুল ইসলাম বাবলা, আতাউর রহমান সেলিম, আব্দুর রহিম হাওলাদার, আবু তালেব চৌধুরী, রাবেয়া মালিক ও মিসবাহ আহমেদ। সভার সঞ্চালক ছিলেন জোসেফ চৌধুরী।
বান কি মুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ
মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন।
এ সময় তিনি বান কি মুনকে বলেন, ‘সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার ব্যাপারে অঙ্গিকারাবদ্ধ।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জাতিসংঘ আশা করে, গণতন্ত্রের স্বার্থে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীও উপস্থিত ছিলেন।




0 comments:
Post a Comment