
কুষ্টিয়ায় দেড়শতাধিক ছাত্রীসহ কয়েকজন নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিওচিত্র ধারণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক স্কুলশিক্ষক পান্না মাস্টারের সহযোগী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপ্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান ওরফে টুটুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হয়।
টুটুলকে গ্রেপ্তারের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, গতকাল দিবাগত গভীর রাতে ঈশ্বরদী উপজেলায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে আলিমুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টুটুল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সাময়িক’ বরখাস্ত করা হয়েছে। সে ধর্ষণের দেড় সেঞ্চুরিয়ান হেলাল উদ্দিন পান্নার অন্যতম সহযোগী।
এ ঘটনায় গত ৭ জুলাই কুষ্টিয়া মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
বাংলাদেশ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) (৬) ও (৭) ধারায় করা মামলায় হেলাল ছাড়াও টুটুল, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম ওরফে সজল ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান হাসানকে আসামি করা হয়। তারা সবাই হেলালের গ্রামের বাসিন্দা।
হাসানকে গত ৮ জুলাই কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ১ আগস্ট হেলালের সহযোগী মনিরুল ইসলাম ওরফে মনোকে (মামলার এজাহারে নাম ছিল না) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশ। গত ৩ আগস্ট ঘটনার মূল হোতা স্কুল শিক্ষক হেলাল উদ্দীনকে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। শরিফুল এখনো পলাতক।
প্রসঙ্গত, হেলাল উদ্দিন পান্না কুষ্টিয়া বাড়াদি গ্রামের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের সহকারী শিক্ষক। কুষ্টিয়া শহরের আড়পাড়ার নিজ বাসায় প্রাইভেট টিউশনিতে আসা স্কুল-কলেজের এসব ছাত্রীদের তিনি চার সহযোগী নিয়ে ধর্ষণ করেন।
পান্না কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল, কুষ্টিয়া যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম, যশোর স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী দুলাল হোসেন ও গাংনী স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম সজলকে নিয়ে তার বাসায় এই অপকর্ম করতেন।
শুধু তাই নয়, তারা ছাত্রীদের সঙ্গে তাদের এসব মিলন দৃশ্য গোপন ক্যামেরায় ধারণ করতের, যা সম্প্রতি ভিডিও ক্লিপস আকারে এলাকার যুবকদের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে গত ৭ জুলাই শতাধিক এলাকাবাসী ও ছাত্ররা ডিসি অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা কুষ্টিয়া-রাজশাহী মহাসড়কের বারখাদা-ত্রিমোহুনীতে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে।




0 comments:
Post a Comment