বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ বন্ধ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট| ঈদের পর আবার মাঠে নামছে হেফাজত | বিএনপি নেতা রফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি র‌্যাবের |

Home » » ‘টক অব দ্য সিটি’ : রাজধানীজুড়ে আওয়ামী বিলবোর্ড : ক্ষতিতে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলো : বিটিভির মতো বিলবোর্ডেও অতিষ্ঠ নগরবাসী

‘টক অব দ্য সিটি’ : রাজধানীজুড়ে আওয়ামী বিলবোর্ড : ক্ষতিতে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলো : বিটিভির মতো বিলবোর্ডেও অতিষ্ঠ নগরবাসী


রাজধানীজুড়ে এখন সর্বত্রই আলোচনা-সমালোচনা চলছে সরকারি প্রচারণার আড়ালে আওয়ামী বিলবোর্ড নিয়ে। গত দুদিন ধরে টক অব দ্য সিটি ছিল বিলবোর্ডের বিষয়টি। দু-তিন দিন আগেও যেখানে রাজধানীর চোখে পড়ার মতো জায়গাগুলোতে বিভিন্ন কোম্পানির চোখধাঁধানো বিজ্ঞাপনসম্বলিত বিলবোর্ড লক্ষ করা যেত, রাতারাতি সেসব জায়গা দখল করে নিয়েছে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি সংবলিত বিলবোর্ড। 
ব্যাংক, বীমা ও মুঠোফোনের সিম কোম্পানিগুলো ছাড়াও ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে বড় বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অফারসংবলিত বিলবোর্ড রাতারাতি ঢেকে দিয়ে সরকারের এসব বিলবোর্ড সেসব জায়গা দখল করায় ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলো। কাউকে না জানিয়ে রাতারাতি সরকারি এসব বিলবোর্ড স্থাপন প্রসঙ্গে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও তারা মুখ খুলে কিছু বলতে পারছে না সরকার ও আওয়ামী লীগের ভয়ে। বিলবোর্ড ব্যবসায়ীরা বলছেন, জানি না সরকার এসব বিলবোর্ড দিয়ে জায়গাগুলো কতদিন দখল করে রাখবে। তবে সপ্তাহখানেকও এসব বিলবোর্ড থাকলে তাদের প্রচুর টাকার লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
নগরবাসীর অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, একমুখী সরকারি প্রচারণার কারণে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিটিভির দর্শকপ্রিয়তা যেমন শূন্যের কোঠায়, তেমনি বিভিন্ন কোম্পানির প্রচারণা সরিয়ে দিয়ে একমুখী সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তিসংবলিত বিলবোর্ডেও অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে নগরবাসী। তারা মনে করছেন, সরকারের লাগামহীন দুর্নীতি-অনিয়ম, সন্ত্রাস, দুঃশাসন, অর্থনৈতিক ধস ও চরম ব্যর্থতার মুখে শেষ বেলায় এসব বিলবোর্ডের রাজনীতি করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। 
রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, এসব বিলবোর্ডে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সাফল্যের কথা প্রচার করা হলেও সরকারের কোন প্রতিষ্ঠান প্রচারের দায়িত্ব পালন করছে তার উল্লেখ নেই। প্রতিটি বিলবোর্ডের ওপরের দুই প্রান্তে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা রয়েছে। বিলবোর্ডগুলোতে সাফল্যের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছবি লাগানো হয়েছে। দু-একটি বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
রাজধানীর দৃশ্যপট পাল্টে দেয়া এসব বিলবোর্ড নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। আওয়ামী লীগের একটি সূত্রে জানা গেছে, গত সাড়ে চার বছরে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে সরকারের জনপ্রিয়তা ব্যাপক মাত্রায় কমতে থাকে। সরকার সেটি আঁচ করতে না পারলেও সম্প্রতি পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারের শোচনীয় পরাজয়ের পর সরকার নড়েচড়ে বসে। সরকারের চার বছরে ব্যর্থতার বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলোও জনগণের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত হয় সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী এক বৈঠকে। ওই সিদ্ধান্তের পরেই মূলত রাজধানীজুড়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলো বিলবোর্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এ বিষয়ে বলেছেন, শুধু রাজধানীই নয়, চলতি সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম এবং এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও একই রকম বিলবোর্ড প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন তারা। এরপর দেশের অন্য বড় শহরগুলোতেও একই কৌশলে প্রচারে যাবেন তারা। তারা মনে করেন, পোস্টার নয়, বিলবোর্ডের প্রচার বেশি কার্যকর।
সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিলবোর্ড দখলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, সরকারের এভাবে উন্নয়নের ‘ফিরিস্তি’ দিয়ে আওয়ামী লীগ এখন আর ‘জনগণের মনোভাব’ বদলাতে পারবে না।
অন্যদিকে কয়েকটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের না জানিয়ে এসব বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তারা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে। আউটডোর অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকারি দলের সমর্থকরা এমনিতেই বিভিন্নভাবে রাজধানীতে বহু বিলবোর্ড দখল করে নিয়েছেন। কিছুদিন ধরে ব্যক্তিগত প্রচার সামনে রেখেও তারা এসব বিলবোর্ড দখল করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট বিলবোর্ড মালিকদের এ বিষয়ে কোনো কিছু জানানোও হয় না। ঈদ সামনে রেখে এবার যে কাজটি করা হলো, তা নজিরবিহীন। 
রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরা থেকে পুরো ভিআইপি রোড, শাহবাগ, রূপসী বাংলা মোড়, গুলিস্তান, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, আগারগাঁও, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের রাস্তা, ধানমন্ডি, মতিঝিল, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, বিশ্বরোড, শেরাটন মোড়, মগবাজার, গুলশান, পল্টন, দৈনিক বাংলা, আজমপুর, বনানী, মহাখালী, মগবাজার রেলক্রসিং ও এর আশপাশের এলাকা, রামপুরাসহ মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় এসব বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। এসব বিলবোর্ডে সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বাণিজ্য, খাদ্য, কূটনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতওয়ারি সরকারের সাড়ে চার বছরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিলবোর্ডের আগের বিজ্ঞাপনের ওপরই সেঁটে দেয়া হয়েছে সরকারের উন্নয়নের চিত্র। বিলবোর্ডে বিগত বিএনপি সরকারের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডও তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও জনশক্তি রফতানিতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে আগামীতে অবশিষ্ট উন্নয়ন বাস্তবায়নের স্বপ্নও দেখানো হয়েছে বিলবোর্ডগুলোতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে নগরীতে টানানো হয়েছে বিলবোর্ডগুলো। সিটি করপোরেশনের অনুমতি না নিয়েই এসব বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির সাঁটানো বিলবোর্ডের ওপর সরকারের এসব বিলবোর্ড স্থাপন করা হলেও বিলবোর্ডের মালিক ও বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছুই জানানো হয়নি। কাউকে না জানিয়ে রাতারাতি এসব বিলবোর্ড বসানো হয়েছে। 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, তিনিও শনিবার ও রোববার এ রকম বিলবোর্ড দেখেছেন। তবে সিটি করপোরেশন থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন নেয়া হয়েছে কি-না, তা তার জানা নেই।
বিষয়ভিত্তিক প্রতিটি বিলবোর্ডে শুধু সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেরই ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে। অথচ সেসব খাতে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার বিষয় তুলে ধরা হয়নি। দেখা গেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন গঠন করা নিয়ে কিছু বিলবোর্ড সাঁটানো হয়েছে। অবাধ তথ্যপ্রবাহ শিরোনাম দিয়ে বলা হয়েছে, ১৬টি নতুন টেলিভিশন লাইসেন্স, ১৪টি কমিউনিটি রেডিও এবং আটটি এফএম রেডিও প্রচারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে। অথচ বর্তমান সরকারের গত সাড়ে চার বছরে আমার দেশ দুইবার বন্ধসহ দিগন্ত, ইসলামিক টেলিভিশন, চ্যানেল ওয়ান, শীর্ষ নিউজসহ সারা দেশে দু’শতাধিক পত্রিকা বন্ধ, মজুলম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অন্যায়ভাবে দু’বার কারারুদ্ধসহ সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদসহ সাংবাদিকদের গ্রেফতার, হয়রানি, যমুনা টেলিভিশনকে আসতে না দেয়া, সাগর-রুনি হত্যাসহ ১৯ সাংবাদিক খুন, সহস্রাধিক সাংবাদিকের ওপর হামলা-মামলা, হয়রানিসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী সরকারি কর্মকাণ্ডের কোনো বিবরণ দেয়া হয়নি বিলবোর্ডগুলোতে

0 comments:

Post a Comment

সদ্য তাজা নিউজ

সব সময়ের জনপ্রিয় তাজা নিউজ

Facebook Like

অতীতের তাজা সংবাদ

বিএনপিকে বিলবোর্ড প্রচারণার পরামর্শ হানিফের,আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন